PM Viksit Bharat Rozgar Yojana-কে ঘিরে দেশের যুবসমাজের জন্য এলো এক বড় বার্তা। কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, শিল্পক্ষেত্রে নতুন সুযোগ এবং আনুষ্ঠানিক কর্মসংস্থানের বিস্তারের লক্ষ্যে কেন্দ্র সরকারের এই প্রকল্পকে আরও এগিয়ে নিয়ে গেলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ( PM Narendra Modi ) । শুক্রবার বহরমপুরে মুর্শিদাবাদ জেলা পরিষদের রবীন্দ্র নজরুল অডিটোরিয়ামে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ সরাসরি সম্প্রচার করা হয়। উপস্থিত ছিলেন মুর্শিদাবাদের জেলা শাসক আর অর্জুন, বহরমপুরের রিজিওনাল প্রভিডেন্ট ফান্ড কমিশনার ১ রাকেশ কুমার সিনহা প্রমুখ।

মুর্শিদাবাদের জেলা শাসক আর অর্জুন বলেন,” কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে এই সুবিধা দুই বছর পর্যন্ত প্রদান করা হবে। সংগঠিত ক্ষেত্রে কর্মরতদের জন্য এবং উৎপাদন (ম্যানুফ্যাকচারিং) খাতের ক্ষেত্রে এই সুবিধার মেয়াদ চার বছর পর্যন্ত থাকবে। ভারত সরকার এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীজির উদ্যোগে দেশের কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি ও উন্নয়নের উদ্দেশ্যে গৃহীত এটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও যুগান্তকারী প্রকল্প”। রিজিওনাল প্রভিডেন্ট ফান্ড কমিশনার ১ রাকেশ কুমার সিনহা বলেন, এই প্রকল্পে কর্মচারী ও প্রতিষ্ঠানের দুই পক্ষেরই উপকার হবে। মুর্শিদাবাদে সাড়ে চার লক্ষ মানুষ পিএফ’এর অন্তর্ভুক্ত। প্রায় সাড়ে চার হাজার নিয়োগকর্তা পিএফ’এর অর্থ জমা করেন।
Viksit Bharat Rozgar Yojana যোজনা নিয়ে কী জানালেন প্রধানমন্ত্রী ?
শুক্রবার নয়াদিল্লির বিজ্ঞান ভবনে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী PM Viksit Bharat Rozgar Yojana-র আওতায় ২,৪০০ কোটি টাকা সরাসরি সুবিধাভোগীদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করেন। ডাইরেক্ট বেনিফিট ট্রান্সফারের মাধ্যমে এই অর্থ প্রদান করা হয়। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেন, “প্রধানমন্ত্রী বিকশিত ভারত রোজগার যোজনা কেবল একটি কর্মসংস্থান প্রকল্প নয়; এটি এমন একটি উদ্যোগ, যা কর্মজীবনে প্রবেশকারী তরুণদের আকাঙ্ক্ষাকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি শিল্প ও কর্মীবাহিনীর মধ্যে একটি বলিষ্ঠ সেতুবন্ধন গড়ে তোলে।”

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের যুবসমাজের স্বপ্ন, দক্ষতা এবং সম্ভাবনাই বিকশিত ভারতের ভিত্তি। প্রথমবার কর্মজীবনে প্রবেশ করা তরুণদের ক্ষমতায়নের পাশাপাশি শিল্পক্ষেত্রের সঙ্গে তাদের সংযোগ স্থাপনই এই প্রকল্পের অন্যতম লক্ষ্য।
কেন্দ্রীয় শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী ড. মনসুখ মাণ্ডব্য জানান, ২০১৪ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে দেশে প্রায় ১৭ কোটি কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। তাঁর মতে, বর্তমান সরকারের নেতৃত্বে শ্রমিক ও নিয়োগকর্তা উভয়েই দেশের উন্নয়নের সমান অংশীদার হিসেবে স্বীকৃতি পাচ্ছেন। PM Viksit Bharat Rozgar Yojana ২০২৫ সালের ১ আগস্ট থেকে কার্যকর হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় EPFO-তে নিবন্ধিত এবং মাসিক এক লক্ষ টাকা পর্যন্ত বেতনপ্রাপ্ত প্রথমবারের কর্মীরা এক মাসের বেতনের সমপরিমাণ, সর্বাধিক ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত প্রণোদনা পাচ্ছেন।
আরও পড়ুনঃ Library Minister জেলার মন্ত্রীর কাছে ধুঁকতে থাকা গ্রন্থাগারের হাল ফেরানোর আর্জি মুর্শিদাবাদবাসীর
অন্যদিকে, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টিকারী সংস্থাগুলিও আর্থিক সুবিধা পাচ্ছে। অতিরিক্ত কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রতি কর্মীর জন্য মাসিক ৩,০০০ টাকা পর্যন্ত প্রণোদনা দেওয়া হচ্ছে। উৎপাদন ক্ষেত্রে এই সুবিধার মেয়াদ আরও বাড়ানো হয়েছে। সরকারের তথ্য অনুযায়ী, প্রকল্প চালুর পর থেকে ৭০ লক্ষেরও বেশি প্রথমবারের কর্মী আনুষ্ঠানিক কর্মসংস্থানের আওতায় এসেছেন। এর মধ্যে প্রায় ৩০ শতাংশই মহিলা। কর্মীরা টানা ছয় মাস চাকরিতে থাকলে প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার যোগ্য হন। মোট ৯৯,৪৪৬ কোটি টাকার এই প্রকল্পের লক্ষ্য আগামী দুই বছরে ৩.৫ কোটিরও বেশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা। এর মধ্যে প্রায় ১.৯২ কোটি মানুষ প্রথমবার কর্মক্ষেত্রে প্রবেশ করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রশাসনিক মহলের মতে, PM Viksit Bharat Rozgar Yojana আগামী দিনে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির পাশাপাশি ২০৪৭ সালের মধ্যে বিকশিত ভারত গঠনের লক্ষ্যপূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
❓ FAQs
Q1. PM Viksit Bharat Rozgar Yojana কী?
Ans: এটি কেন্দ্র সরকারের একটি কর্মসংস্থানমুখী প্রকল্প, যার লক্ষ্য আনুষ্ঠানিক চাকরি বৃদ্ধি এবং প্রথমবারের কর্মীদের আর্থিক সহায়তা প্রদান।
Q2. প্রকল্পটি কবে চালু হয়েছে?
Ans: ১ আগস্ট ২০২৫ থেকে এই প্রকল্প কার্যকর হয়েছে।
Q3. প্রথমবার চাকরিতে যোগদানকারী কর্মীরা কত টাকা সুবিধা পান?
Ans: এক মাসের বেতনের সমপরিমাণ, সর্বাধিক ১৫,০০০ টাকা পর্যন্ত প্রণোদনা পান।
Q4. নিয়োগকর্তারা কী সুবিধা পান?
Ans: অতিরিক্ত কর্মী নিয়োগের জন্য প্রতি কর্মীর ক্ষেত্রে মাসিক ৩,০০০ টাকা পর্যন্ত প্রণোদনা পান।
Q5. প্রকল্পের লক্ষ্য কত কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা?
Ans: আগামী দুই বছরে ৩.৫ কোটিরও বেশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।










