এখন খবরমধ্যবঙ্গ নিউজপরিবেশবিনোদনহেলথ ওয়াচখেলাঘরে বাইরেলাইফস্টাইলঅন্যান্য

Library Minister জেলার মন্ত্রীর কাছে ধুঁকতে থাকা গ্রন্থাগারের হাল ফেরানোর আর্জি মুর্শিদাবাদবাসীর

Published on: June 17, 2026
Library Minister

Library Minister বিদ্যুৎ মৈত্র, বহরমপুরঃ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী রাজ্যের গ্রন্থাগারের হাল ফেরানোর ভার দিয়েছেন মুর্শিদাবাদের বিধায়ক গৌরীশঙ্কর ঘোষের Gouri Shankar Ghosh কাঁধে। রাজ্যের গ্রন্থাগার মন্ত্রী হয়েছেন তিনি। আর সেই সূত্রেই ভূমিপুত্রের কাছে জেলার গ্রন্থাগারের হাল ফেরানোর আর্জি জানিয়েছেন পাঠক থেকে গ্রন্থাগারিক সকলেই।

একসময়ের চালা ঘরের পাঠাগার সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে পাকা ঘর হয়েছে। কিন্তু সেই ঘরে আজ দেখা দিয়েছে অর্থ সংকট। কর্মী সংকটের জেরে শিকেয় উঠেছে গ্রন্থাগার পরিষেবা। দশের বেশি গ্রন্থাগার বন্ধ হয়ে গিয়েছে শুধুমাত্র অর্থ আর লোকবলের জোগান দিতে না পারায়। জেলায় এখন সক্রিয় গ্রন্থাগারের সংখ্যা ১৭৪টি। সেখানে গড়ে একজন করেও নেই গ্রন্থাগার কর্মী। স্থায়ী গ্রন্থাগার কর্মচারীর সংখ্যা মাত্র ১১০জন। জেলা গ্রন্থাগারে নেই কোনও জেলা গ্রন্থাগারিক।

Library Minister বেশ কয়েকবছর ধরেই বদলে গিয়েছে এইসব গ্রন্থাগারের চরিত্র। গল্প, উপন্যাস কিংবা কবিতার বই পড়ার বদলে যুবক-যুবতীরা আসেন প্রতিযোগীতামূলক পরীক্ষার বই খুঁজতে। জেলা গ্রন্থাগারে এক চক্কর ঘুরে এলে এমন দৃশ্য অমিল নয়। ওই গ্রন্থাগারের পাঠক সূত্রেই জানা যায়, পূর্বতন জেলাশাসক নীতিন সিংহানীয়ার উদ্যোগে এখন মুর্শিদাবাদ জেলা গ্রন্থাগার সকাল আটটা থেকে রাত আটটা অবধি খোলা। সেখানে ভিড় করে আসছেন ডাক্তারির প্রবেশিকা পরীক্ষার পরীক্ষার্থীরা। তাদের জায়গা দিতে গিয়ে নিজেদের বসার জায়গা কম পড়েছে বলে দাবি করছেন এই গ্রন্থাগারের নিয়মিত পাঠক চাঁদ গোপাল সরকার। তিনি বলেন, “শুধু স্থান সংকুলান নয়। লাইব্রেরিতে গেলে খাবার জলটুকুও মেলে না।”

Library Minister মন্ত্রীর কাছে কী আর্জি ?

Library Minister  পাঠকদের দাবি, মুর্শিদাবাদ জেলা গ্রন্থাগারে অনেক অমূল্য বই আছে। সেই বইগুলি যত্ন করার মতো কর্মী নেই। প্রতিযোগিতামূলক বই আছে ঠিকই কিন্তু তা জাতীয় বা আন্তর্জাতিক মানের নয়। চাঁদ গোপাল বলেন, “ এখন লাইব্রেরিতে ওয়াইফাইয়ের ব্যবস্থা আছে। কিন্তু ঘরগুলিতে পড়ার পরিবেশ নেই।” বিভিন্ন গ্রন্থাগার সূত্রে জানা যায়, রাজ্যের নতুন সরকার কমিটি ভেঙে দিয়েছে। আর তারফলে টান পড়েছে তহবিলে। বই কেনা তো দূর, সামনে সরকারি নির্দেশে গ্রন্থাগারগুলিতে পশ্চিমবঙ্গ দিবস পালিত হবে কি করে সেই চিন্তায় অস্থির কর্মীরা। ব্যাঙ্ক থেকে টাকা তুলতে না পারায় গ্রন্থাগারের শৌচালয় পরিস্কার করা দায় হয়েছে বলে দাবি তাঁদের।

আরও পড়ুনঃ Morning School সকালে ক্লাস হওয়ায় স্কুলে বেড়েছে পড়ুয়া উপস্থিতি, খুশি শিক্ষকরাও

Library Minister পশ্চিমবঙ্গ সাধারণের গ্রন্থাগার কর্মী সমিতির রাজ্য সম্পাদক সৌগত সাহা মন্ত্রীর কাছে খুব দ্রুত কমিটি গঠন করার দাবি জানান। তিনি আরও বলেন বলেন, “ গত সরকার বই কেনার জন্য যে টাকা দিয়েছিল সেই টাকা অন্য জেলা পেলেও বঞ্চিত মুর্শিদাবাদ। দ্রুত সেই তহবিল পূরণ করতে হবে।” তিনি অবিলম্বে গ্রন্থাগারগুলিতে শূন্যপদ পূরণের দাবি জানান মন্ত্রীর কাছে। বলেন, “ গ্রাম-শহরের পাঠাগারগুলিতে শূন্যপদ পূরণ করতে হবে। বড় বড় দুর্নীতির তদন্ত করতে হবে। বইমেলায় মোটা টাকার দুর্নীতি হয়েছে। মন্ত্রীর কাছে সেগুলির তদন্ত করে দোষীদের উপযুক্ত শাস্তির দাবি তুলছি।” প্রায় ৪২ বছর এই গ্রন্থাগারের সঙ্গে যুক্ত থেকে ২০২৩ সালে অবসর নিয়েছেন সোমনাথ চট্টোপাধ্যায়। দায়িত্ব সামলেছেন জেলা গ্রন্থাগারেরও। তিনি বলেন, “ আশির দশকের জোয়ার আর ফিরবে না গ্রন্থাগারে। কিন্তু ব্যবস্থা নিলে অন্ততঃ বাঁচানো যাবে।”

Join WhatsApp

Join Now

Join Telegram

Join Now