এখন খবরমধ্যবঙ্গ নিউজপরিবেশবিনোদনহেলথ ওয়াচখেলাঘরে বাইরেলাইফস্টাইলঅন্যান্য

Murshidabad TMC  তৃণমূলের মুর্শিদাবাদ জেলার পরবর্তী সভাপতির দৌড়ে কে, আগ্রহ নেই নীচুতলায়

Published on: June 18, 2026
Murshidabad TMC

Murshidabad TMC বিদ্যুৎ মৈত্র, বহরমপুরঃ পরশু রাজ্যের ১৩টি জেলায় সভাপতি বদল করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। অথচ ৪৮ ঘন্টা পেরিয়ে গেল কোথাও কিছু নেই। ডিজে না হয় বাজত না, কিন্তু ফেসবুক তো কাঁপতেই পারত শুভেচ্ছা আর অভিনন্দনে। অবশ্য গত কয়েকবছর ধরে সাড়া ফেলে দেওয়া তৃণমূলের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে পোস্ট হয়নি নয়া জেলা নেতাদের নাম। তালিকা প্রকাশের অন্তত দিন সাতেক আগে থেকে মনোনয়ন পাওয়া নেতাদের রাতের ঘুম উড়ে যেত অস্থিরতায়। যদি তালিকায় নাম উঠে যেত, সেই তালিকায় নিজের মনমতো ছবি দিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ( MAMATA BANERJEE ) আর অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ধন্যবাদ জানিয়ে ফেসবুকের রন্ধ্রে রন্ধ্রে ছড়িয়ে পড়ত নিমেষে। এদিনও ছড়িয়েছে, তবে ফেসবুকের অ্যালগোরিদম অনুযায়ী। সেই তালিকা শেয়ার করতে গিয়েও আঙুল সরেনি অনেকের।নির্বাচনে ভরাডুবির পরে এখন দলটার অস্তিত্ব নিয়েই প্রশ্ন উঠেছে জনমানসে।

Murshidabad TMC
খাঁ খাঁ করছে তৃণমূল জেলা কার্যালয়

Murshidabad TMC তবে অনেককিছুর মতো এক্ষেত্রেও সেই মুর্শিদাবাদকেই ব্যতিক্রম ঠেকছে। ঘোষিত জেলা সভাপতির তালিকায় নাম নেই মুর্শিদাবাদের। তৃণমূল কংগ্রেস নামক ২৮ বছরের পুরনো একটি রাজনৈতিক দলের অস্তিত্ব আছে কি নেই তা নিয়ে দ্বিধা আর দ্বন্দে দিন কাটছে মুর্শিদাবাদের তৃণমূল নামে পরিচিত মানুষজনের। এমন অবস্থায় দলের জেলা সভাপতি কে হবেন তা ভাবতেই চাইছেন না তাঁরা। রাজ্য জুড়ে ফুটপাতে ফুটপাতে বিজেপি সরকারের হকার উচ্ছেদের প্রতিবাদে কাল বিকেলে ফের রাজপথে নেমেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই উদাহরণ তুলে রেজিনগরের প্রাক্তন বিধায়ক রবিউল আলম অবশ্য বলছেন, “ মানুষ এখনও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে আছেন। তাঁরা চাইছেন দলটা ঠিকঠাকভাবে পরিচালিত হোক। মানুষ আবার দিদির হয়ে লড়াই করবে।”

Murshidabad TMC জেলায় তৃণমূলের নেতা কে ?

Murshidabad TMC আর এখানেই উঠছে প্রশ্ন। সেই দলের জেলার নেতা হবেন কে ? দলের জেতা আট বিধায়ক বিদ্রোহ ঘোষণা করে ‘বিপ্লবী নেতা’ ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরেছেন মমতা-অভিষেকের হাত ছেড়ে। যাঁদের অনেকের সঙ্গেই মমতার সম্পর্ক ছিল আন্তরিক, পারিবারিকও। ভোটের ফল বেরনোর পর থেকেই তালাবন্দি তৃণমূলের বহরমপুর সংগঠনের কার্যালয়। বহরমপুরের বিধায়ক সুব্রত মৈত্র ইতিমধ্যেই ওই জায়গাকে জবর দখল বলে চিহ্নিত করে বুলডোজার চালানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। শুধু তাই নয়, সেখানে বহরমপুরবাসীর বহুদিনের স্বপ্নের মুক্তমঞ্চ নির্মাণ হবে বলে আগাম ঘোষণাও করেছেন তিনি। আর তা হলে চিরতরে মুছে যাবে প্রয়াত তৃণমূল নেতা মান্নান হোসেনের উদ্বোধন করা “সাধ”-এর পার্টি অফিস। এই অবস্থায় যেচে সভাপতির চেয়ারে বসতে চাইবেন কে? দলেরই কেউ কেউ বলছেন, “ চেয়ার নিয়ে গাছতলাতেও না হয় নেতা বসে পড়লেন কিন্তু লোক আসবে তো?”

Murshidabad TMC Office

Murshidabad TMC তৃণমূলের রাজ্য সভাপতি চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য পুরনো নেতাদের দলের দায়িত্ব দিয়েছেন জেলায় জেলায়। মুর্শিদাবাদ থেকে তেমনই কাউকে হয়ত দল আগামীদিনে দায়িত্ব দিতে পারে। সেই দায়িত্ব কি তৃণমূলের বহরমপুর সংগঠনের প্রাক্তন চেয়ারম্যান রবিউলের কাঁধে বর্তাবে? রবিউল বলছেন, “ দল চাইলে দায়িত্ব নিতে আমার আপত্তি নেই। মাত্র একমাসে বিজেপি অন্নপূর্ণা ভান্ডার থেকে আয়ূস্মান ভারতের সুবিধা দিতে গিয়ে ল্যাজেগোবরে করে ফেলেছে। এইসব দেখেশুনে মানুষ ফের দিদিকেই চাইছে।”

Murshidabad TMC ঘুরে দাঁড়াবে তৃণমূল ?

তিনি দাবি করেন, তাঁর বিধানসভার পনেরটি অঞ্চলের মধ্যে চোদ্দটি তৃণমূলের সমর্থক। ফলে তৃণমূলের ঘুরে দাঁড়াতে সমস্যা হবে না বলেই তাঁর মতামত জানাতে দ্বিধা করেন না রবিউল। এটাও বলেন, “ যে তাহের, খলিলুর, নিয়ামতরা দিদির হাত ছেড়েছেন তাদের মানুষ ঘরে ঢুকতে দেবে না, ওরা এলাকাতে ঢুকতেই পারবে না দেখে নেবেন।” “দল চাইলে” তিনি রেজিনগর উপনির্বাচনে হুমায়ুন পুত্রকে হারিয়ে ফের একবার নিজেকে প্রমাণ দিতেও তৈরি বর্ষীয়ান এই রাজনীতিক। বলছেন, “ হুমায়ুনের দুর্নীতি মানুষ ধরে ফেলেছে। ওকে এবার একটি ভোটও দেবে না মানুষ।” যদিও তৃণমূলের কর্মীরা রেজিনগরের জয়ের রূপালী রেখাও দেখতে এই মূহুর্তে রাজি নয়।

Murshidabad TMC Office
তৃণমূল অফিসে নেই নেতা কর্মীরা

Murshidabad TMC রবিউলের বুকে আশা থাকলেও লালগোলার প্রাক্তন বিধায়ক মহম্মদ আলী বলছেন, “ কে সভাপতি হবে আর কে হবে না তা তৃণমূলের মুখপাত্র, সভাপতি এরাই বলতে পারবেন। আর তা বলার জন্য উপযুক্ত ব্যক্তি আমি নই।” বাংলার রাজনীতিতে এমন উথালপাথাল অবস্থা গত বিশ তিরিশ বছরে দেখেনি কেউ। এই সময়কে রাজনীতির উপযুক্ত সময় বলেও দাবি করেছেন এই শিক্ষক। গীতার শ্লোক ধার করে তিনি বলেন, “ যা হয়েছে তা ভাল হয়েছে। যা হবে তা ভালই হবে।” কিন্তু তিনি তৃণমূলে আছেন কি নেই তা অবশ্য খোলসা করেননি। কথার প্যাঁচে অবশ্য বোঝাতে চেয়েছেন তিনি পরিস্থিতির উপর নজর রাখছেন।

আরও পড়ুনঃ Library Minister জেলার মন্ত্রীর কাছে ধুঁকতে থাকা গ্রন্থাগারের হাল ফেরানোর আর্জি মুর্শিদাবাদবাসীর

Murshidabad TMC তৃণমূলের সাধারণ কর্মী হিসেবে নিজেকে পরিচয় দিয়ে বহরমপুর সংগঠনের সদ্য প্রাক্তন সভাপতি অপূর্ব সরকারের গলায় অভিমানের সুর। তাঁর ঘনিষ্ঠ বৃত্তে তিনি রাজ্য নেতৃত্বকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন, দলের নেতা কর্মীরা জেলে। কেউ একবারও খোঁজ নেয়নি, জানালেও উত্তর দেয়নি। আমি তৃণমূলের একজন সাধারণ রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে এলাকার মানুষজনের পাশে আছি। একইভাবে বর্তমান পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে সংবাদ মাধ্যমে কোনো মন্তব্য করতে চাননি বহরমপুর সংগঠনের প্রাক্তন যুব সভাপতি ভীষ্মদেব কর্মকারও।
ভেঙে টুকরো হয়ে গেলেও এই দলের তৃণমূল স্তরের কর্মীরা চাইছেন দল শূন্য থেকে শুরু করুক। যদি দিশা দেখাতে পারে, বদনাম ঘুচিয়ে মূলস্রোতে ফিরতে পারে তখন ভেবে দেখবেন। এই মূহুর্তে দলটার অবস্থা “গত মাসে এনসিপিআই” মতো বলতেও পিছপা নন তাঁরা।

Join WhatsApp

Join Now

Join Telegram

Join Now