এখন খবরমধ্যবঙ্গ নিউজপরিবেশবিনোদনহেলথ ওয়াচখেলাঘরে বাইরেলাইফস্টাইলঅন্যান্য

UNICEF WB: আন্তর্জাতিক ক্রিকেট তারকাদের সঙ্গে প্র্যাকটিসে কলকাতার স্কুলপড়ুয়ারা

Published on: February 9, 2026
UNICEF WB

UNICEF WB ঐতিহাসিক ম্যাচের আগে অন্য রকম এক প্রস্তুতির সাক্ষী রইল কলকাতার ইডেন গার্ডেন্স। টি–২০ বিশ্বকাপে স্কটল্যান্ডের বিরুদ্ধে প্রথম ম্যাচের আগে শনিবার ইডেনে ৩২ জন স্কুলপড়ুয়া শিশু–কিশোরের সঙ্গে অনন্য এক ক্রিকেট ক্লিনিকে অংশ নিল ইতালির জাতীয় ক্রিকেট দল। মাঠে নেমে একসঙ্গে ব্যাটিং–বোলিং, হাত মেলানো, অটোগ্রাফ—সব মিলিয়ে আনন্দঘন মুহূর্তের সাক্ষী থাকল শহর।

কলকাতার বিভিন্ন স্কুলের মেয়েরা ও ছেলেরা এ দিন ইডেনের সবুজ ঘাসে বল হাতে, ব্যাট হাতে নামার সুযোগ পায় আন্তর্জাতিক ক্রিকেটারদের সঙ্গে। নেটে যাওয়ার আগে ইতালীয় ক্রিকেটাররা শিশুদের সঙ্গে মাঠেই খেলেন, দেন ব্যাটিং–বোলিংয়ের নানা টিপস। শনিবার দুপুরে শহরে পা রেখেই সোজা ইডেনমুখো হন তাঁরা। উপস্থিত শিশুদের উৎসাহ দিতে কার্পণ্য করেননি কেউই।

UNICEF WB কেন এই উদ্যোগ ?

UNICEF WB এই ক্রিকেট ক্লিনিক ছিল আইসিসিইউনিসেফ যৌথ উদ্যোগ ‘ক্রিকেট ফর গুড’-এর অংশ। উদ্যোগটির প্রশংসা করে পশ্চিমবঙ্গের ইউনিসেফ প্রধান ডঃ মঞ্জুর হোসেন বলেন, শিশুদের ‘খেলার অধিকার’ ও স্কুল–পাড়ায় ‘নিরাপদ খেলার পরিসর’ তৈরি করা অত্যন্ত জরুরি। তাঁর কথায়, নিরাপদ জায়গায় আত্মবিশ্বাস ও আনন্দ নিয়ে খেলতে পারলেই শিশুর সার্বিক বিকাশ সম্ভব। ক্রিকেট ক্লিনিকের মাধ্যমে সেই বার্তাই ছড়িয়ে দিতে চাইছে আইসিসি ও ইউনিসেফ।

ইতালির উইকেটকিপার–ব্যাটার জিয়ান-পিয়েরো মিয়াদে এই অভিজ্ঞতা নিয়ে বলেন, “আমরা শিশুদের কোচিং করেছি, ওদের কাছ থেকেও অনেক কিছু শিখেছি। সবার মুখে যে হাসিটা দেখেছি, সেটাই সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।” তিনি জানান, কয়েক জন তরুণ খেলোয়াড়ের টেকনিক বেশ উন্নত, এমনকি ভালো মানের ফাস্ট বোলারও চোখে পড়েছে তাঁর।

কোচ মোহসিন শেখ–এর নজরদারিতে চলা এই ক্লিনিকে মেয়েদের সক্রিয় অংশগ্রহণ বিশেষভাবে আশাব্যঞ্জক বলে মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর মতে, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটারদের সঙ্গে সরাসরি ব্যাট–বল করার সুযোগ শিশুদের আত্মবিশ্বাস বহুগুণ বাড়ায়।

আরও পড়ুনঃ শিশুদের জন্য একজোট  ইউনিসেফ, পশ্চিমবঙ্গ সরকার ও কর্পোরেট সংস্থাগুলি

UNICEF WB এদিন ইতালির অধিনায়ক ওয়েন ম্যাডসেন( Wayne Madsen এর ভক্ত ছাত্রছাত্রীরা জানতে চায়, দর্শকের উচ্ছ্বাসে কীভাবে মনসংযোগ বজায় রাখেন ক্রিকেটাররা। জবাবে খেলোয়াড়রা জানান, মাঠে তাঁরা সব সময় খেলায় ফোকাস রাখেন এবং নিজেদের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করেন।

তরুণ অলরাউন্ডার হিরামন বৈরাগী বলেন, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটারদের সঙ্গে দেখা ও তাঁদের পরামর্শ পাওয়া যেন স্বপ্নপূরণ। ভবিষ্যতের ম্যাচে এই টিপস কাজে লাগবে বলে আশা তাঁর। ১৪ বছরের অনুষ্কা সরকার জানায়, ইতালীয় ক্রিকেটাররা আগে খেলাটা উপভোগ করতে বলেছে। পাশাপাশি ফিটনেসের গুরুত্বও বুঝিয়েছে।

ইডেনের ঐতিহাসিক মাঠে ক্রিকেট ও শিশুমনের উচ্ছ্বাসের এই মেলবন্ধন যেন আরও একবার মনে করিয়ে দিল—খেলা শুধু প্রতিযোগিতা নয়, আনন্দ, শেখা ও স্বপ্ন দেখারও নাম।

Join WhatsApp

Join Now

Join Telegram

Join Now