BJP Ministers গরম মে মাসের দুপুরে কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ড যেন সাক্ষী থাকল বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসের এক নতুন অধ্যায়ের। চারদিকে গেরুয়া আবির, বিজেপি কর্মীদের উচ্ছ্বাস আর মঞ্চে দেশের প্রথম সারির নেতৃত্ব— সব মিলিয়ে এক অন্যরকম আবহ তৈরি হয়েছিল শহরে। আর সেই মঞ্চ থেকেই আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলার নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন শুভেন্দু অধিকারী Suvendu Adhikari ।

৪ মে বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকেই প্রশ্ন উঠছিল, বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী কে হবেন? অবশেষে সমস্ত জল্পনার অবসান ঘটিয়ে দিল দিল্লির নেতৃত্ব। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং একাধিক বিজেপি শাসিত রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের উপস্থিতিতে ব্রিগেডে অনুষ্ঠিত হল শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান। শুভেন্দু অধিকারীর পাশাপাশি আজ শপথ নিলেন আরও পাঁচ গুরুত্বপূর্ণ নেতা।
BJP Ministers শপথ নিলেন দিলীপ ঘোষ
দ্বিতীয় ব্যক্তি হিসেবে শপথ নেন প্রাক্তন রাজ্য বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষ। খড়্গপুর সদর কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়ে তিনি এবার রাজ্যের মন্ত্রিসভায় গুরুত্বপূর্ণ জায়গা পেলেন।
BJP Ministers শপথ নিলেন অগ্নিমিত্রা পাল
এরপর শপথ নেন অগ্নিমিত্রা পাল। আসানসোল দক্ষিণের বিধায়ক অগ্নিমিত্রা দীর্ঘদিন ধরেই বিজেপির মহিলা মুখ হিসেবে পরিচিত। নারী সুরক্ষা থেকে শুরু করে বিভিন্ন সামাজিক ইস্যুতে তাঁর সক্রিয় ভূমিকা তাঁকে আলাদা পরিচিতি দিয়েছে।
BJP Ministers মন্ত্রীসভায় অশোক কীর্তনিয়াও
মন্ত্রিসভায় জায়গা পেয়েছেন বনগাঁ উত্তরের বিধায়ক অশোক কীর্তনিয়াও। মতুয়া সম্প্রদায়ের মধ্যে তাঁর জনপ্রিয়তা যথেষ্ট। সীমান্তবর্তী এলাকার উন্নয়ন এবং উদ্বাস্তু সমস্যা নিয়ে তিনি দীর্ঘদিন ধরে সরব ছিলেন।
BJP Ministers শপথ নিলেন ক্ষুদিরাম টুডু, নিশীথ প্রামাণিক
আদিবাসী প্রতিনিধি হিসেবে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন রানিবাঁধের বিধায়ক ক্ষুদিরাম টুডু। জঙ্গলমহলের জনজাতি সমাজে তিনি অত্যন্ত পরিচিত মুখ। সাঁওতালি ভাষা ও সংস্কৃতির রক্ষায় তাঁর ভূমিকা দীর্ঘদিনের।
সবশেষে শপথ নেন নিশীথ প্রামাণিক। কোচবিহারের মাথাভাঙা কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়ে তিনি সরাসরি মন্ত্রিসভায় জায়গা পেলেন। উত্তরবঙ্গের রাজবংশী সমাজে তাঁর যথেষ্ট প্রভাব রয়েছে বলেই রাজনৈতিক মহলের মত।
আরও পড়ুনঃ Suvendu Adhikari ব্রিগেড থেকে জোড়াসাঁকো, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর প্রথম বার্তা কী ?
তবে প্রথম দিনের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে কোনও মন্ত্রীর দফতর ঘোষণা করা হয়নি। নবান্নে প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠকের পর কোন মন্ত্রীর হাতে কোন দফতর যাবে, তা স্পষ্ট হবে বলে জানা গিয়েছে। শুক্রবার বিজেপি বিধায়ক দলের বৈঠকের পর অমিত শাহ স্পষ্ট করে জানান, পরিষদীয় দলনেতা নির্বাচনে শুভেন্দু অধিকারীর নামই সর্বসম্মতভাবে উঠে এসেছে। দ্বিতীয় কোনও নামের প্রস্তাবই নাকি আসেনি। নির্বাচনের আগেই বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব জানিয়েছিল, বাংলার ভূমিপুত্রকেই মুখ্যমন্ত্রী করা হবে। সেই প্রতিশ্রুতিই এবার বাস্তবে পরিণত হল।
এবারের নির্বাচনে শুভেন্দু অধিকারী নন্দীগ্রাম এবং ভবানীপুর— দুই গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র থেকেই জয় পেয়েছেন। রাজনৈতিক মহলের মতে, দলের ভিতরে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা এবং সাংগঠনিক দক্ষতাই তাঁকে মুখ্যমন্ত্রীর আসনে পৌঁছে দিল।










