Rejinagar Election বিদ্যুৎ মৈত্রঃ রেজিনগরে ভোটের ঘন্টা বাজার সঙ্গে সঙ্গে চালু হয়েছে আদর্শ আচরণবিধি। রাতারাতি সরকারের মন্ত্রী, বিধায়করা সাধারণ মানুষের মতো হয়ে গেলেন নিয়মের গেরোয়। লক্ষ্যভেদ করতে অবশ্য বিজেপি নেতারা এই ত্যাগ স্বীকার করতে রাজি, দাবি এমনটাই। লক্ষ্য এখানে রেজিনগর উপনির্বাচনে জিতে আসা। সেই লক্ষ্যে গত দেড়মাস ধরে এলাকা চষে ফেলেছেন বিজেপি’র বহরমপুর সংগঠনের সভাপতি মলয় মহাজন। যেখানেই মানুষের মন জিতে নেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন সেখানেই ধুলো উড়িয়ে পরখ করেছেন। ভূমিপুত্র হুমায়ুন কবীরের চেয়েও তিনি যে রেজিনগরের মানুষের মনের মানুষ তা বোঝাতে বহরমপুরে এফইউসি ক্লাব মাঠে বৃষ্টিভেজা মঙ্গলবারেও হাজির ছিলেন। সেখানে বহরমপুর বালক সংঘ আয়োজিত একটি ফুটবল টুর্নামেন্ট চলছে কয়েকদিন ধরে। এদিন সেখানে রামনগর হাইস্কুলের সঙ্গে রামনগর ক্লাবের খেলা ছিল। খেলায় জয়ী ও বিজিতদের পুরস্কার তুলে দেওয়ার ভার নির্বাচনের গন্ধে হাতছাড়া করতে রাজি হননি মলয়। গিয়েছিলেন, খেলোয়ারদের হাতে পুরস্কার তুলে দিয়েই ফিরেছেন। ‘ভোট বড় দায়’ বলে মুচকি হেসেওছেন মাঠে হাজির দর্শকরা।
Rejinagar Election কাকে প্রার্থী করছে বিজেপি ?
Rejinagar Election তবে কি তিনিই রেজিনগর উপনির্বাচনে বিজেপি প্রার্থী? এমন প্রশ্নে সতর্ক মলয় বলেন, “ এসব সিদ্ধান্ত আমরা নিই না। রাজ্যের নেতারা কেন্দ্রের নেতারা নেন। আমরা দলের সৈনিক। দল যা বলে তাকে নির্দেশ মেনে চলি।” তবে ২০২৬ এর সাধারণ নির্বাচনেও তাঁকে বড়ঞা বিধানসভার প্রার্থী করার কথা হয়েছিল। কিন্তু সেবার সিকে ছেঁড়েনি মলয়ের। এবার কি হবে? বিজেপির রাজ্য সংগঠনের সভাপতি প্রবাল রাহাকে রেজিনগর উপনির্বাচন কমিটির প্রমূখ করে জেলায় পাঠিয়েছেন শমীক ভট্টাচার্যরা। তিনিও পাখির চোখেই দেখছেন রেজিনগরকে। হুমায়ুন কবীর প্রতিপক্ষ হিসেবে কঠিন না কি সহজ সেই প্রশ্ন এড়িয়ে বললেন, “ দলের একজন কার্যকর্তা হিসেবে দলকে জেতানোর জন্যই এসেছি। নির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে চলে আমাদের দল। কে কঠিন কে সহজ সেভাবে দেখে নির্বাচনী কৌশল ঠিক হয় না।” তাহলে হুমায়ুনের ছেলের বিরুদ্ধে জুতসই মুখ কি পেয়েছে বিজেপি? প্রবাল বলেন, “ দল ঠিক সময়ে জানিয়ে দেবে কে রেজিনগরে বিজেপি প্রার্থী হচ্ছেন। আপনারাও তখনই জেনে যাবেন।”
Rejinagar Election সংখ্যালঘু অধ্যূষিত রেজিনগরে বিজেপি’র ভোট কেমন? তথ্য বলছে, চলতি বছরের সাধারণ নির্বাচনে বিজেপি’র বাপন ঘোষ ৬৪ হাজার ৬৬০টি ভোট পেয়েছিলেন। যা মোট ভোটের প্রায় ২৭.২ শতাংশ। বিজেপি’র দাবি দলের প্রায় সাড়ে তিন শতাংশ ভোট বাড়াতে পেরেছেন তিনি। ২০২১ সালে এই বিধানসভায় বিজেপি ভোট পেয়েছিল ৫০ হাজারের কিছু বেশি। প্রায় ২৪ শতাংশ ভোট পেলেও তা ছিল আগের ভোটের তুলনায় প্রায় চল্লিশ শতাংশ বেশি। ফলে একদম ফাঁকা জায়গায় নেই গেরুয়া শিবির। অথচ এই বিধানসভা একসময় শাসন করেছে কংগ্রেস।
Rejinagar Election ২০১১ সালে এই বিধানসভা গঠিত হয়। সেই বছর কংগ্রেসের প্রতীকে জিতেছিলেন হুমায়ুন HUMAYUN KABIR । কিন্তু তিনি বিধায়ক পদে ইস্তফা দিয়ে তৃণমূলে নাম লেখালে ২০১৩ সালে এই বিধানসভায় উপনির্বাচন হয়। সেই নির্বাচনে তৃণমূলের মন্ত্রী হুমায়ুন হেরে গিয়েছিলেন কংগ্রেসের রবিউল আলম চৌধুরীর কাছে। তিনবছর পরে ২০১৬ সালে সাধারণ নির্বাচনে ফের রবিউলের কাছে হেরে যান নির্দল হুমায়ুন। কিন্তু সেবার ব্যপক ভোট বাড়িয়েছিলেন তিনি। ২০১৩ সালে তৃতীয় হলেও ২০১৬ সালে কংগ্রেসের রবিউলের ঘাড়ে নিঃশ্বাস ফেলেছিলেন এই আম জনতা উন্নয়ন পার্টির চেয়ারম্যান। দুই নেতার ভোটের ফারাক ছিল মাত্র তিন শতাংশ। ২০১৩ থেকে ২০২১ এই আটবছর কংগ্রেস রাজত্ব করলেও ছাব্বিশের নির্বাচনে কংগ্রেসের ভোট পড়েছে মাত্র হাজার চারেক। সেখানে কংগ্রেস এবার প্রার্থী বদল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সূত্রের দাবি, মুর্শিদাবাদ জেলা পরিষদের সদস্য মহম্মদ আবদুল্লাহীল কাফিকে উপনির্বাচনে প্রার্থী করতে চাইছেন অধীর চৌধুরী।
Rejinagar Election অধীরের দলের প্রার্থী কে ?
Rejinagar Election যদিও দলেরই একটা অংশ তার পা টেনে ধরে অধীরের যাত্রাভঙ্গ করতে চাইছে বলে দাবি। কাফি নিজেও বিষয়টি শুনেছেন দাবি করে বলেন, “ দল যদি মনে করে প্রার্থী করবে তাহলে আমি প্রার্থী হব। আমার বলার কিছু নেই।” জেলা কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক অসীম রায় বলেন, “ প্রার্থী পদ এখনও চুড়ান্ত হয়নি। তিনজনের নাম ঘোরাফেরা করছে। তবে যেই প্রার্থী হোক দেখবেন আর চার হাজার নয়, এবার বিয়াল্লিস হাজার ভোট পাব আমরা।”
Rejinagar Election সাধারণ নির্বাচনে সিপিআইএমএল-কে বহরমপুর আসন ছেড়ে কংগ্রেসের অধীর চৌধুরীর সুবিধা করে দিলেও রেজিনগর আসনে নিজেরাই প্রার্থী দেবে বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছে বামফ্রন্টের বড় শরিক সিপিএম। কংগ্রেসের প্রদেশ সভাপতি শুভঙ্কর সরকার সাধারণ নির্বাচনে একলা লড়াইয়ের ডাক দিয়েছিলেন। স্বাভাবিকভাবেই অধীর চৌধুরী-মহম্মদ সেলিম জুটি আড়ালে চলে যায়। মুর্শিদাবাদে কংগ্রেস দুটি আসন জিতেছে। ‘পরোপকারি’ সিপিএম হেরে যায় কংগ্রেসের কাছে।
Rejinagar Election জেতা আসন রানিনগর বিধানসভা সিপিএমের ‘দলীয় কোন্দলেই হাতছাড়া হয়’ বলে ভোট পরবর্তী সময়ে দাবি উঠেছিল দলেরই অন্দরে। তারই বদলা নিতে রেজিনগর আসনে জিততে চাইছে সিপিএম। কিন্তু প্রার্থী কে? রাজ্যের নেতারা নাকি মুখে কুলুপ আঁটার নির্দেশ দিয়েছেন মুর্শিদাবাদের সিপিএম নেতাদের। তাঁদের কেউ কেউ বলছেন “দেখুন প্রার্থী যখন দেবে বলেছে দল তখন প্রার্থী দেবে। আর তা তো চাঁদ থেকে আসবে না। স্থানীয় কেউই হবে।” জেলা কমিটির সম্পাদক জামির মোল্লা বলেন, “ সবে তো ভোট ঘোষণা হল। দাঁড়ান প্রার্থীও ঘোষণা হবে।” যদিও স্থানীয়দের একটা অংশের দাবি, “সিপিএম প্রার্থী দেওয়ার জন্যই প্রার্থী দিচ্ছে, জেতার জন্য বোধহয় ভোটে লড়বে না।” প্রতীক নিয়ে লড়াই শেষ না হলে ভোটের লড়াই নিয়ে কোনও মন্তব্য করতে চাইছে না কালীঘাট পন্থী তৃণমূল। ঋতব্রত তৃণমূলও ওয়েটিংকার্ড দেখিয়ে মানুষজনকে সারপ্রাইজ দিতে চাইছেন বলে দাবি করছেন জেলা নেতারা, মানুষ তাকে ফাঁকা আওয়াজ বলে কটাক্ষ করছেন পাল্টা।
আরও পড়ুনঃ Rejinagar Byelection উন্নয়নের পালে হাওয়া তুলে উপনির্বাচনে এগিয়ে থাকার দাবি মহাজনদের















