এখন খবরমধ্যবঙ্গ নিউজপরিবেশবিনোদনহেলথ ওয়াচখেলাঘরে বাইরেলাইফস্টাইলঅন্যান্য

BERHAMPORE J N ACADEMY ফের ‘জেলার সেরা বিদ্যালয়’ এর তকমা পেল বহরমপুর জেএন একাডেমি

Published on: September 4, 2026

 

ফের ‘জেলার সেরা বিদ্যালয়’ বহরমপুর জেএন একাডেমি

BERHAMPORE J N ACADEMY ফের একবার জেলার সেরা বিদ্যালয়ের তকমা কুড়ল বহরমপুর জেএন একাডেমি। কাল বাদ পরশু নিউ টাউন কনভেনশন সেন্টারে স্কুলের হাতে বিদ্যাসাগর সেরা বিদ্যালয় পুরস্কার তুলে দেওয়া হবে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে। সেই খবর জানিয়ে রাজ্যের শিক্ষা দফতর থেকে একটি ই-মেল স্কুল ও জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শককে পাঠানো হয়েছে আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে।

এবার নিয়ে তিনবার একই পুরস্কারে সম্মানিত হওয়ায় খুশি স্কুলের শিক্ষক, শিক্ষাকর্মী, পড়ুয়া থেকে প্রাক্তনীরাও। যদিও এবার এই পুরস্কারের নাম বদল হয়েছে। এর আগে ২০১৮ ও ২০২৩ সালেও জেলার সেরা বিদ্যালয়ের তকমায় ভূষিত হয়েছিল এই বিদ্যালয়। জেলা শিক্ষা আধিকারিক সম্বল ঝা স্কুলের প্রধান শিক্ষক, সহ শিক্ষক সহ সকলকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, “এই সংবাদ শুধু বহরমপুর জেএনএকাডেমির জন্য নয়, জেলার সমস্ত শিক্ষানুরাগী মানুষের কাছে খুশির খবর।”

জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক (মাধ্যমিক) জয়ন্ত হালদার বলেন, “ বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকাদের পড়ুয়াদের প্রতি নিষ্ঠা, আন্তরিকতা, উদ্যোগের ফসল এই পুরস্কার। সকলকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানাই।” প্রধান শিক্ষক পুস্পেন চট্টোপাধ্যায় বলেন, “এই শিরোপা পাওয়ার পেছনে আমাদের শিক্ষকদের অশেষ অবদান রয়েছে। শ্রেণিকক্ষের পঠনপাঠন ছাড়াও তাদের নানাবিধ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। ছুটির দিনেও ক্লাস করানো হয়। সাম্প্রতিক অতীতে রাজ্য স্তরে পুরস্কার না পেলেও মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিকের সামগ্রিক ফলাফল অনেক বিদ্যালয়ের থেকে সেরা।প্রতিবছর একাধিক প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে পুরস্কার ছিনিয়ে আনে আমাদের ছেলেরাই।”

BERHAMPORE J N ACADEMY  ৮৬ বছর আগে অর্থাৎ ১৯৪০ সালে এই স্কুলের প্রতিষ্ঠা হয়েছিল খাগড়ার স্যাঁতসেতে এক অন্ধ গলিতে। সেখানে পড়তে আসত শহরের বিভিন্ন বিদ্যালয়ের অকৃতকার্যরা। তখন এই বিদ্যালয়ের নাম ছিল ‘বহরমপুর ট্রেনিং একাডেমি’। পরে ১৯৫২ সালে এই স্কুলের নাম হয় বহরমপুর জগন্নাথ একাডেমি। প্রয়াত জগন্নাথ মজুমদার ছিলেন স্কুলের প্রধান শিক্ষক। তাঁর হাতেই গড়া হয়েছিল বিদ্যালয়ের ভিত। স্বাভাবিকভাবেই তাঁকে চিরস্মরণীয় রাখতে বিদ্যালয়ের নামের সঙ্গে জুড়ে দেওয়া হয় তাঁর নাম। সমাজ পরিবর্তনের অন্যতম সাক্ষী এই বিদ্যালয় ধারাবাহিকভাবে সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে গুটি গুটি পায়ে এগিয়ে আজ এক মহিরুহের রূপ পেয়েছে। সাধারণ ঘরের ছেলেরা স্কুলের শিক্ষকদের সান্নিধ্যে এসে পেয়েছে শ্রেষ্ঠত্বের শিরোপা। বিদ্যালয়ের খ্যাতি ছড়িয়ে পড়েছে বিশ্বে। স্রেফ আন্তরিকতা আর আদর্শকে সম্বল করে। অন্তত ইতিহাসের দাবি এমনটাই।

একদিন এলাকার সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষের আর্থিক দানে গড়ে উঠেছিল এই স্কুল। আজও সে অর্থে দীন কিন্তু আদর্শে অটুট। দো-তলা এই স্কুল বাড়িতে ঘরের সংখ্যা কম। যা আছে তাও ছোট ছোট। সংকীর্ণ। ঘর যে বাড়ানো হবে সেই জায়গা কোথায়? স্কুল সূত্রেই জানা যায়, স্কুল লাগোয়া একটি চার কাঠা জমির খোঁজ মিলেছিল, কিন্তু সেই জমি কিনতে চেয়েও মেলেনি মালিকের সম্মতি। বিদ্যালয়ের সহকারি প্রধান শিক্ষক কল্যাণ কুমার ঘোষ বলেন, “ ওই জায়গা পেলে স্কুলের ঘরের সংখা বাড়ানো যেত। সুবিধা হতো ছাত্রদের।” তিনিই জানান, স্কুলের ছাত্র- শিক্ষকদের সাইকেল, বাইক রাখার জায়গা নেই। বাধ্য হয়ে মিড ডে মিলের জন্য বরাদ্দ খাওয়ার ঘরে তা রাখতে বাধ্য হন তাঁরা। কল্যাণ বাবু বলেন, “ অর্থ আর জায়গা পেলে ছেলেদের জন্য একটি রিডিং কর্ণার তৈরি করা যেত। কিন্তু ওই দুটিরই বড় অভাব। স্কুলের মধ্যেই আমাদের চলতে হয় মাপ বুঝে।” অর্থের অভাব থাকলেও মেধার অভাব নেই এই বিদ্যালয়ে। বছর বছর মাধ্যমিক-উচ্চমাধ্যমিকে একশো শতাংশ পড়ুয়া পাশ করে। কৃতির তালিকায় নাম ওঠে ছাত্রদের। মর্যাদা পায় শিক্ষকদের অনুশাসন, দায়িত্ব আর কর্তব্য। তৃতীয়বার সেরা বিদ্যালয়ের এই শিরোপা সেই মর্যাদাকেই যেন অটুট রাখল শিক্ষাঙ্গনে।

Join WhatsApp

Join Now

Join Telegram

Join Now