WB benefits সামাজিক সুরক্ষা নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত রাজ্য সরকারের Government of West Bengal । মাসে ১,০০০ টাকা করে যে বার্ধক্য, বিধবা ও প্রতিবন্ধী ভাতা দেওয়া হত, এবার থেকে তা বেড়ে হচ্ছে ১,৫০০ টাকা। এই সিদ্ধান্তে রাজ্যের ৬৮ লক্ষেরও বেশি মানুষ সরাসরি উপকৃত হবেন বলে প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে। পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন, পুর ও নগরোন্নয়ন এবং নারী ও শিশুবিকাশ দপ্তরের অধীনে থাকা একাধিক সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পে এই ভাতা বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত কার্যকর হচ্ছে।
WB benefits ভাতা বৃদ্ধিতে উপকৃত কারা ?
WB benefits ন্যাশনাল ওল্ড এজ পেনশন, বিধবা পেনশন এবং প্রতিবন্ধী পেনশন—এই তিন প্রকল্পের আওতায় প্রায় ২০ লক্ষ ৫০ হাজার উপভোক্তা রয়েছেন। এতদিন তাঁদের মাসে ১,০০০ টাকা করে দেওয়া হত। এবার সেই অঙ্ক বেড়ে ১,৫০০ টাকা হচ্ছে। এই তিনটি প্রকল্পে কেন্দ্র ও রাজ্য যৌথভাবে অর্থ দেয়। আগে ১,০০০ টাকার মধ্যে কেন্দ্রের অংশ ছিল ৬০০ টাকা এবং রাজ্যের অংশ ৪০০ টাকা। নতুন কাঠামোয় অতিরিক্ত ৫০০ টাকার পুরো দায় রাজ্য সরকার বহন করবে। ফলে ১,৫০০ টাকার মধ্যে কেন্দ্র দেবে ৬০০ টাকা এবং রাজ্যের অংশ হবে ৯০০ টাকা।
WB benefits এদিকে নারী ও শিশুবিকাশ দপ্তরের অধীনে থাকা সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পের ৪৭ লক্ষেরও বেশি উপভোক্তার ভাতাও ১,০০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১,৫০০ টাকা করা হচ্ছে। এই প্রকল্পের সম্পূর্ণ আর্থিক দায় রাজ্য সরকারের। প্রশাসনিক সূত্রের দাবি, ভাতা বাড়ানোর ফলে রাজ্য সরকারের বছরে প্রায় ৬,০০০ কোটি টাকা অতিরিক্ত খরচ হতে পারে। সব মিলিয়ে সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পগুলিতে রাজ্যের বার্ষিক ব্যয় প্রায় ১৫,০০০ কোটি টাকায় পৌঁছতে পারে।
WB benefits তবে ভাতা বৃদ্ধির পাশাপাশি উপভোক্তা তালিকা নিয়েও শুরু হয়েছে বড়সড় যাচাই। সরকারি অর্থ যাতে প্রকৃত সুবিধাভোগীদের কাছেই পৌঁছয়, সে জন্য মাঠপর্যায়ে তালিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রশাসনের হিসাব অনুযায়ী, রাজ্যে প্রায় ৭১ লক্ষ উপভোক্তা রয়েছেন। জনকল্যাণ শিবিরগুলিতে পাঁচ লক্ষেরও বেশি আবেদন জমা পড়েছে। সেই আবেদন এবং পুরনো তালিকার তথ্য মিলিয়ে চলছে যাচাই প্রক্রিয়া।
মৃত ব্যক্তি, অন্যত্র চলে যাওয়া উপভোক্তা, দীর্ঘদিন অনুপস্থিত থাকা ব্যক্তি কিংবা ভুয়ো পরিচয়ে সুবিধা নেওয়া ব্যক্তিদের চিহ্নিত করা হচ্ছে। তবে শুধুমাত্র সন্দেহের ভিত্তিতে কারও নাম বাদ দেওয়া যাবে না বলেও স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কোনও উপভোক্তা প্রকৃতপক্ষে অযোগ্য, মৃত বা অস্তিত্বহীন—এ বিষয়ে নিশ্চিত হওয়ার পরেই তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার নির্দেশ রয়েছে। ভুলবশত প্রকৃত উপভোক্তার নাম বাদ পড়লে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলে প্রশাসনের তরফে সতর্ক করা হয়েছে।
WB benefits শহরাঞ্চলেও চলছে একই ধরনের সমীক্ষা। রাজ্যের ১২১টি পুরসভা ও ৭টি পুরনিগম এলাকায় প্রায় ৪ লক্ষ ৪৩ হাজার ৫২১ জন উপভোক্তার তালিকা রয়েছে। তাঁদের মধ্যে প্রায় ৬৫ শতাংশের সমীক্ষা ইতিমধ্যেই শেষ হয়েছে।
প্রাথমিক সমীক্ষায় প্রায় ২৫ হাজার অযোগ্য উপভোক্তার সন্ধান মিলেছে। পুরো যাচাই শেষ হলে এই সংখ্যা প্রায় ৫০ হাজারে পৌঁছতে পারে বলে প্রশাসনের অনুমান।
WB benefits কয়েকটি পুরসভায় অযোগ্য উপভোক্তার হার তুলনামূলক বেশি। শিউড়ি পুরসভায় প্রায় ৪৬ শতাংশ, ধুলিয়ান পুরসভায় প্রায় ৩৫ শতাংশ এবং মিরিক পুরসভায় প্রায় ২৬ শতাংশ উপভোক্তাকে অযোগ্য হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ওই এলাকাগুলিতে তথ্যের পুনরায় যাচাই ও ক্রস-ভেরিফিকেশনে জোর দেওয়া হচ্ছে।
প্রশাসনের বক্তব্য, অযোগ্য নাম বাদ দিলে সরকারি অর্থের অপচয় বন্ধ হওয়ার পাশাপাশি সেই অর্থ দিয়ে আরও যোগ্য মানুষকে সামাজিক সুরক্ষার আওতায় আনা সম্ভব হবে। ভাতার টাকা সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থাকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। DBT-এর মাধ্যমে প্রকৃত উপভোক্তার অ্যাকাউন্টে নির্দিষ্ট সময়ে অর্থ পাঠানোর পাশাপাশি তালিকার স্বচ্ছতা বজায় রাখাই সরকারের লক্ষ্য।
আরও পড়ুনঃ Seba Sangkalpa ১৭ থেকে রাজ্যে সেবা সংকল্প। কী কী সুবিধা মিলবে ?












