Ramendra Sundar Tribedi রামেন্দ্র সুন্দর ত্রিবেদীর ১৬২তম জন্মদিন ঘিরে কান্দিতে সকাল থেকেই ছিল উৎসবের আবহ। ইতিহাস, বিজ্ঞানচর্চা ও স্বদেশপ্রেমের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা এই মনীষীকে স্মরণ করতে জেমো রাজবাটি থেকে বের হল বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা। রণপা, স্কুল পড়ুয়াদের ব্যান্ড—সব মিলিয়ে শহরে ফুটে উঠল অন্য রকমের ছবি। ৫ ভাদ্র রবিবার সকালে জেমো রাজবাটিতে রামেন্দ্র সুন্দর ত্রিবেদীর সুতিকাগৃহে তাঁর প্রতিকৃতিতে মাল্যদান করে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। এরপর সেখান থেকেই শুরু হয় স্মরণে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা।

শোভাযাত্রায় অংশ নেন বিদ্যুৎ দফতরের প্রতিমন্ত্রী, কান্দির বিধায়িকা গার্গী দাস ঘোষ Gargi Das Ghosh এবং কান্দির মহকুমা শাসক মধুশ্রী Madhusree, West Bengal IAS Officer। স্থানীয় মানুষ এবং স্কুলের পড়ুয়ারাও শোভাযাত্রায় পা মেলান। শোভাযাত্রায় ছিল রণপা প্রদর্শন এবং স্কুলের শিশুদের ব্যান্ড। ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্বকে ঘিরে এমন আয়োজনে কান্দির পথে উৎসবের পরিবেশ তৈরি হয়। শোভাযাত্রা শেষে কান্দি রাজ হাইস্কুলে রামেন্দ্র সুন্দর ত্রিবেদীর আবক্ষ মূর্তিতে শ্রদ্ধা জানানো হয়। পাশাপাশি এসডিও অফিস চত্বরেও আচার্য রামেন্দ্র সুন্দর ত্রিবেদীর মূর্তিতে পুষ্পার্ঘ্য নিবেদন করা হয়।
Ramendra Sundar Tribedi বাংলায় বিজ্ঞানচর্চার অন্যতম পথিকৃৎ
৫ ভাদ্র ১২৭১ বঙ্গাব্দে মুর্শিদাবাদের জেমোকান্দিতে জন্ম রামেন্দ্র সুন্দর ত্রিবেদীর। ছোটবেলা থেকেই তিনি ছিলেন অত্যন্ত মেধাবী। পরবর্তী সময়ে বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান ও দর্শনচর্চার ক্ষেত্রে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেন। সাহিত্য, বিজ্ঞান এবং দর্শন—তিন ক্ষেত্রেই তাঁর গভীর জ্ঞান ছিল। জটিল বৈজ্ঞানিক ও দার্শনিক বিষয়কে সহজ বাংলায় সাধারণ পাঠকের সামনে তুলে ধরার ক্ষেত্রে তাঁর বিশেষ কৃতিত্ব ছিল।

Ramendra Sundar Tribedi কান্দি ইংরেজি স্কুল থেকে এন্ট্রান্স পাশ করার পর কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজে পড়াশোনা করেন তিনি। পদার্থবিদ্যা ও রসায়নে অনার্স-সহ বিএ এবং পরে পদার্থবিদ্যায় এমএ ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৮৮৮ সালে তিনি প্রেমচাঁদ রায়চাঁদ বৃত্তিও লাভ করেন। ১৮৯২ সালে কলকাতার রিপন কলেজে বিজ্ঞানশাস্ত্রের অধ্যাপক হিসাবে কর্মজীবন শুরু করেন রামেন্দ্র সুন্দর। ১৯০৩ সালে তিনি ওই কলেজের অধ্যক্ষ হন এবং জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত সেই দায়িত্বে ছিলেন।
Ramendra Sundar Tribedi সাহিত্য ও মাতৃভাষায় জ্ঞানচর্চায় বিশেষ ভূমিকা
রামেন্দ্র সুন্দর ত্রিবেদীর সাহিত্যিক জীবন শুরু হয় বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় প্রবন্ধ প্রকাশের মধ্য দিয়ে। বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ প্রতিষ্ঠার অন্যতম উদ্যোক্তাও ছিলেন তিনি। দীর্ঘ সময় এই প্রতিষ্ঠানের সম্পাদক হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বিজ্ঞান, দর্শন, ভাষাতত্ত্ব, বেদবিদ্যা এবং লোকসাহিত্য নিয়ে তাঁর বিস্তৃত চর্চা ছিল। মাতৃভাষায় জ্ঞানচর্চার বিষয়ে তিনি ছিলেন দৃঢ় অবস্থানের মানুষ। বাংলায় বিজ্ঞান ও দর্শনের জটিল বিষয়কে সহজভাবে ব্যাখ্যা করার মাধ্যমে তিনি বাংলা ভাষার জ্ঞানভাণ্ডারকে সমৃদ্ধ করেন। তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনার মধ্যে রয়েছে ‘প্রকৃতি’, ‘জিজ্ঞাসা’, ‘কর্মকথা’, ‘চরিতকথা’ এবং ‘শব্দকথা’। বিজ্ঞান ও দর্শনের পাশাপাশি ভাষা, সমাজ, শিক্ষা এবং সংস্কৃতি নিয়েও তিনি লিখেছেন।
Ramendra Sundar Tribedi বঙ্গভঙ্গ বিরোধী আন্দোলনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা
রামেন্দ্র সুন্দর ত্রিবেদী শুধু শিক্ষাবিদ বা সাহিত্যিক ছিলেন না, তিনি ছিলেন গভীরভাবে স্বদেশপ্রেমী। ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গের তীব্র বিরোধিতা করেছিলেন তিনি। বঙ্গভঙ্গ বিরোধী আন্দোলনের সময়ে তাঁর আহ্বানে অরন্ধন দিবস পালনের কথাও ইতিহাসে উল্লেখযোগ্য হয়ে রয়েছে। সেই সময় তিনি ‘বঙ্গলক্ষ্মীর ব্রতকথা’ রচনা করেন।

২০২৬ সালে তাঁর ১৬২তম জন্মদিনে কান্দির বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা এবং শ্রদ্ধা নিবেদনের অনুষ্ঠানে তাই শুধু একজন মনীষীকে স্মরণ নয়, ফিরে এল তাঁর শিক্ষা, বিজ্ঞানচর্চা, মাতৃভাষার প্রতি দায়বদ্ধতা এবং স্বদেশপ্রেমের স্মৃতিও। রামেন্দ্র সুন্দর ত্রিবেদীর জীবন ও কর্ম আজও বাংলা ভাষায় জ্ঞানচর্চার ক্ষেত্রে অনুপ্রেরণার নাম। তাঁর জন্মভূমি কান্দিতে আয়োজিত এই অনুষ্ঠান সেই ঐতিহ্যকেই নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরল।
আরও পড়ুনঃ Berhampore News বহরমপুরে TMC নেতা পাপাই ঘোষের বাড়িতে অস্ত্রভান্ডার !
Ramendra Sundar Tribedi Frequently Asked Questions
১. রামেন্দ্র সুন্দর ত্রিবেদীর ১৬২তম জন্মদিন কোথায় উদযাপন করা হল?
মুর্শিদাবাদের কান্দিতে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে রামেন্দ্র সুন্দর ত্রিবেদীর ১৬২তম জন্মদিন উদযাপন করা হয়।
২. কোথা থেকে শোভাযাত্রা শুরু হয়েছিল?
জেমো রাজবাটিতে রামেন্দ্র সুন্দর ত্রিবেদীর সুতিকাগৃহে প্রতিকৃতিতে মাল্যদানের পর শোভাযাত্রা শুরু হয়।
৩. শোভাযাত্রায় কী কী ছিল?
শোভাযাত্রায় রণপা এবং স্কুলের শিশুদের ব্যান্ড ছিল। বিভিন্ন বিশিষ্ট ব্যক্তি ও স্থানীয়রাও তাতে অংশ নেন।
৪. রামেন্দ্র সুন্দর ত্রিবেদী কেন স্মরণীয়?
বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান ও দর্শনচর্চার প্রসার, সাহিত্য, শিক্ষাক্ষেত্র এবং বঙ্গভঙ্গ বিরোধী আন্দোলনে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার জন্য তিনি স্মরণীয়।













