Murshidabad News দেশের শীর্ষ আদালতের নির্দেশমতো শব্দবিধি না মানলে বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান থেকে মাইক খোলার নির্দেশ দিয়েছে সরকার। সেই কাজ শুরুও করেছে পুলিশ। সেই নির্দেশ পালন করতে মসজিদগুলোকেই বেছে নেওয়া হতে পারে বলে আশঙ্কা আবু তাহের খান Abu Taher Khan, খলিলুর রহমান, ইউসুফ পাঠানদের। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে একযোগে চিঠি দিয়ে সে কথা জানিয়ে মুর্শিদাবাদের এই তিন সাংসদ জানিয়েছেন, “ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত না করে যাতে ন্যায্য, অভিন্ন ও সংবেদনশীলভাবে এই নির্দেশগুলি কার্যকর করা হয়, সে বিষয়ে যথাযথ নির্দেশ জারি করার জন্য আমি অনুরোধ জানাচ্ছি।”
Murshidabad News যে সমস্ত প্রকৃত ভোটারের নাম নির্বাচনী তালিকা থেকে বাদ পড়েছে, তাঁদের বিপুল সংখ্যক মামলা বর্তমানে ট্রাইব্যুনালের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে। তার জেরে পাসপোর্ট যাচাই, জমি রেজিস্ট্রেশন এবং সরকারি কল্যাণমূলক প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে তাঁরা সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন বলে প্রধানমন্ত্রীকে জানিয়েছেন তাঁরা। যেসব প্রকৃত নাগরিকের মামলা বিচারাধীন রয়েছে, তাঁদের যাতে মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত অত্যাবশ্যকীয় সরকারি পরিষেবা থেকে বঞ্চিত হতে না হয়, তা নিশ্চিত করতে তিনজনেই একসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ করেছেন। অতিরিক্ত ট্রাইব্যুনাল বেঞ্চ গঠন করে সমস্ত বিচারাধীন প্রকৃত মামলাকে দ্রুত নিষ্পত্তির আওতায় এনে ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬-এর মধ্যে সেগুলি সম্পূর্ণ করার জন্য প্রধানমন্ত্রীকে তাগাদা দিয়েছেন এই তিন সংখ্যালঘু সাংসদ।
মুর্শিদাবাদের এই তিন সাংসদ রাজ্যে পালাবদলের পর থেকেই সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগছেন বলে দাবি করেছেন তাঁদের একসময়ের সহকর্মীরা। তাঁরা তিনজনেই তৃণমূল ছেড়ে এনসিপিআইতে নাম লিখিয়েছেন। আবার এনসিপিআইতে গেলেও তাঁরা নিজেদের এনডিএ-র শরিক করতে নারাজ। তাঁরা প্রকাশ্যেই দাবি করেছেন কেন্দ্রের এনডিএ সরকার যদি এমন কোনও বিল পাস করে যা সংখ্যালঘুদের ভাবাবেগে আঘাত দিতে পারে তাহলে সংখ্যালঘুদের প্রতিনিধি হয়ে তাঁদের পক্ষে সেই বিলের মতে সায় দেওয়া সম্ভব নয়। তাহলে কি ফিরছেন তৃণমূলেই। এই জল্পনা থাকলেও এখনও তা স্বীকার করেননি এই তিনজনেই। অথচ তাঁদের কৌশল বিজেপি তথা এনডিএ-কে বেকায়দায় ফেলেছে। আর সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে তাঁরা নিজেদের ভোটারদের পাশে দাঁড়াতে চাইছেন বলে মত রাজনীতির কারবারীদের।
২০২৪ এ নিজেদের নির্বাচনী কেন্দ্রে জিততে তৃণমূলের এই সাংসদরাও ধর্মীয় তাস খেলেছিলেন। ২০২৬ এর পালাবদলের পর তাঁদেরও অবস্থান বদল সেই নির্বাচনী এলাকার মানুষই ভালভাবে মেনে নেননি। এলাকাবাসীর মনে হয়েছে, যে উন্নয়নের কথা বলে ভোটে জিতেছিলেন সাংসদরা সেই প্রতিশ্রুতি তাঁরা পূরণ করতে পারবেন না। সেই গলদ ঢাকতেই কি ফের ভোলবদল তাহেরদের? তাই কি একদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, অন্যদিকে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে দেখা করে এলাকার উন্নয়নের দাবিকেই সামনে আনলেন?
Murshidabad Newsরাজ্যে তৃণমূল ১৫ বছর টানা ক্ষমতায় থাকলেও নওদায় পেঁয়াজের সরকারি হিমঘর তৈরির কথায় এখন কেন এত জোর দিচ্ছেন মুর্শিদাবাদের সাংসদ আবু তাহের? নওদা তাঁর বাসভূমি, নির্বাচনী কেন্দ্রও নয়। জেলায় এইরকম হিমঘর তৈরির প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন অধুনা প্রয়াত তৃণমূলের মন্ত্রী সুব্রত সাহা। সেই প্রশ্নের উত্তরে তাহের বলেন, “ তখন হয়নি এখন করার চেষ্টা করছি।” কারণ তিনি এখন কেন্দ্রের যে এগ্রিকালচার কমিটি আছে, তাহের তার সদস্য। ইতিমধ্যে উদ্যানপালন দফতরের সঙ্গে তাঁর বৈঠকও হয়েছে। দেশের যেখানে যেখানে উন্নত হিমঘর আছে, সেখানে তাঁরা যাবেন। দেখে এসে অভিজ্ঞদের পরামর্শমতো ফিরে এসে আগামী ছ’মাসের মধ্যে তাঁরা সেই হিমঘর তৈরি করবেন বলে এদিন জানান তাহের। তাছাড়াও মুখ্যমন্ত্রীর কাছে তাহের দাবি করেছেন, হরিহরপাড়া, আমতলা সহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে উন্নত চিকিৎসা পরিষেবার দাবি তুলেছেন। সেটিও রাজ্যের বিষয়।
Murshidabad 3 MP প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে গিয়ে কী বললেন তাহের, খলিলুর, পাঠানরা ?
Murshidabad News এলাকাবাসীর মন জিততেই কি তাঁদের ফের ভোলবদল? তাহের এদিন বলেন, “ দেখুন এটা কৌশল নয় আমাদের বাঁচতে হবে। আগে বাঁচা তারপরে রাজনীতি। মুর্শিদাবাদের মতো সংখ্যালঘু জেলার পাঁচ লক্ষ মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। তাঁদের ভূত ভবিষ্যত কেউ জানে না কী হবে। আতান্তরে পড়ে আছেন তাঁরা। সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পাচ্ছেন না। যত ট্রাইবুনাল তৈরি হওয়ার কথা ছিল, তা এখনও তৈরি হয়নি। আমরা তো আর নিশ্চিন্তে বসে থাকতে পারি না। তাই মানুষের কথা চিন্তা করেই তাদেরকে স্বস্তি দিতেই আমরা আজ এর কাছে কাল ওর কাছে ছুটে যাচ্ছি।” তবে তাহের আশাবাদি এই বছরেই তাঁর দাবি দাওয়া পূরণ করবে ডবল ইঞ্জিন সরকার।













