Murshidabad Politics এই মুহূর্তে রাজ্যে প্রকৃত বিরোধী দল কারা ? সমাজ মাধ্যম থেকে পাড়ার চায়ের দোকান সবখানেই ঘুরপার খাচ্ছে এই একটি প্রশ্ন। পালাবদলের পর পদ্মঝড়ে বিরোধী শিবির একপ্রকার নেই হয়ে গিয়েছে রাজ্যে। অথচ ছাব্বিশের নির্বাচনী ফলাফলে এমনটা হওয়ার কথা ছিল না। রাজ্যের সদ্য প্রাক্তন শাসকদল তৃণমূল অনায়াসে সেই জায়গা নিতে পারত। কিন্তু তা হল না। ক্ষমতা হাতছাড়া হতেই একপ্রকার ছিন্নবিচ্ছিন্ন হয়ে গেলে আঠাশ বছরের একটি রাজনৈতিক দল। শুধু ছিন্নভিন্ন নয়, শুধুমাত্র নামেই আটকে থাকল তৃণমূল কংগ্রেস। অভিজ্ঞরা বলছেন, “ তাও যতদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বেঁচে আছেন ততদিন দলটি ছিল বলে মানুষ বলবে।” তারপর ? তার আর পর নেই বলছেন তাঁরাই।
তবুও কংগ্রেস, সিপিএম শূন্যের গেরো কাটিয়ে, আইএসএফ, এজেইউপি-র মতো দলগুলির সঙ্গে বিধানসভায় গিয়েছে ঠিকই, কিন্তু একজোট হয়ে তারা যে বিরোধীতা করতে পারতো, তাও পদ্মকাঁটার ভয়ে জোর পাচ্ছেন না তাঁরা, দাবি ওই দলের নেতা কর্মীদের। আর এইসব কারণে সাধারণ মানুষ নিজের অধিকার হারিয়ে গেলেও তাঁরা তা নিয়ে সরব হতে পারছেন না নেতার অভাবে। বিশেষ করে মুর্শিদাবাদের মতো সংখ্যালঘু অধ্যূষিত একটি জেলায়। আব্দুস সাত্তারের জেলায় সংখ্যালঘুরা মন ও মান বজায় রাখতে কার হাত ধরবেন বুঝতেই পারছেন না।
Murshidabad Politics কোথায় ৩ সাংসদ ?
Murshidabad Politics জেলার তিন সাংসদ আবু তাহের খান, খলিলুর রহমান, আর ইউসুফ পাঠান Yusuf Pathan। তারমধ্যে বহরমপুরের সাংসদ হিসেবে তাঁর কোনও দায়বদ্ধতা যে আছে বহরমপুরের মানুষের প্রতি তা টের পাওয়া যায় না বলেই দাবি মানুষজনের। তিনি ঠিক কোন দলে এখন আছেন, তাও ঠাওর করতে পারেন না তাঁর ভোটাররা। আবু তাহের ও খলিলুরের অবস্থান বদলের জন্য তাঁদের এলাকার মানুষজনও একইভাবে এই দুই নেতার ওপর বিশ্বাস হারাচ্ছেন। জঙ্গিপুরের এক বাসিন্দা এরসাদ আলী বলেন, “ ওঁরা বিজেপি না তৃণমূল না কি দুটি দলের মাঝামাঝি আছে তা বুঝতে পারছেন না। আমরা তৃণমূল করেছি। আজও সেই দলটা করার কথাই ভাবছি। কিন্তু মিডিয়া যা দেখাচ্ছে আর নেতারা যা করছে তাতে মনে হচ্ছে ফের পুরনো দল কংগ্রেসেই ফিরে যাব।”
Murshidabad Politics এরসাদ কংগ্রেসে ফেরার কথা বললেও সাগরদিঘির আবুল কাদের অবশ্য দাবি করছেন ভিন্ন। তিনি বলছেন, “কংগ্রেস করাই ছিল আমাদের ভবিষ্যৎ। আমার বাবা কাকারা কংগ্রেসই করেছে। কিন্তু এইরকম এক নেতা নির্ভর দল তৈরি হয়নি কখনও। মানছি অধীর চৌধুরী বরিষ্ঠ নেতা, কিন্তু তিনি তো জেলাতেই দলটাকে বাঁধতে পারছেন না।” কংগ্রেসের সমালোচনা করলেও মুর্শিদাবাদবাসীর বিশেষ করে সংখ্যালঘু অধ্যূষিত এলাকার মানুষজনের কাছে বিজেপি আজও ব্রাত্য।
আরও পড়ুনঃ WB SI একপদে এক ব্লকেই দীর্ঘকাল এসআই-রা, পদোন্নতি নেই এ আইদের মুর্শিদাবাদে বাড়ছে ক্ষোভ, হতাশা
Murshidabad Politics এই জেলা থেকে কয়েক লক্ষ মানুষের নাম মুছে গিয়েছে ভোটার তালিকা থেকে। নির্বাচিত নেতারা দেখাচ্ছেন তাঁরা আজ মুখ্যমন্ত্রী কাল প্রধানমন্ত্রীর কাছে যাচ্ছেন ঠিকই কিন্তু এখনও সেই সমস্যার কোনও সুরাহা হয়নি। ভিনরাজ্যে জাতিগত সমস্যার শিকার হতে হচ্ছে মুর্শিদাবাদের পরিযায়ী শ্রমিকদের। এই বিপদে তাঁদের পাশে দাঁড়াবে কে ? ফোন উড়ে যাচ্ছে একপ্রান্ত থেকে আর একপ্রান্তে। কথারা চাউর হচ্ছে, কিন্তু খুবই ধীরে, মেপে। বলছিলেন ভিন রাজ্যে কর্মরত কান্দির গোকর্ণের বাসিন্দা খাইবার মিঞার ছেলে সাদেক আলী। তাঁর চোখে অবশ্য ‘এখনও বামেরাই এই রাজ্যের ভিত।’
Murshidabad Politics নিজের যুক্তি সাজিয়ে সাদেক বলেন, “ মানুষ বিশেষ করে আমাদের মতো খেটে খাওয়া মানুষদের পক্ষ নিতে চায় না ডানপন্থী দলগুলি। আমাদের দিন গুজরানোর কথা, এই যে বস্তিতে বস্তিতে থেকে আমাদের ছেলেরা রোজগার করে বাড়ি নিয়ে যায়, সেই টাকায় সংসার চলে শুধু নয়, আমার ভাইরাও পড়াশোনা করছে। কেউ গ্র্যাজুয়েট কেউ পোস্ট গ্র্যাজুয়েটে। দেশে তাঁদেরও চাকরি নেই, আমাদেরও কাজ নেই। এই সমস্যার কথা কারও মুখে শুনছেন ? বামেরাই এই কথাগুলো তুলে ধরছে। বারবার বলছেন নেতারা।” সেই কনফারেন্স কলের অন্যপ্রান্তে ছিলেন নদিয়ার তেহট্টের বাসিন্দা সুকুর আলী। বামেদের প্রতি বিশ্বাস থাকলেও তা অটল নয়। তিনিও কথার রেশ ধরে বলেন, “ আমাদের চাষবাস নেই। কিন্তু সরকার কৃষকদের জন্য এটা ওটা সেটা আনার কথা বলছেন। আবার বর্গাদার উচ্ছেদের কথাও শুনতে পাচ্ছি।
Murshidabad Politics কিন্তু চাষ থেকে কিছু নেই এই কথাটা সত্যি, সেটা মানতে চাইছে না। যদি চাষকে আরও উন্নত করতে হয় তাহলে সরকারকে ভর্তুকি দিতে হবে। সে ইচ্ছেও সরকারের নেই। তাহলে না চাষ হবে না কাজ পাব। তাহলে জীবন কাটাব কি করে? আর সে কথা বলবে কে আর শুনবেই বা কে? নেতা বলে আজ আর কেউ আছে না কি?”
Murshidabad Politics ঠিক এখানে এসেই আটকে যাচ্ছে যাবতীয় জল্পনা কল্পনা। দল আছে নেতা নেই। নাগাড়ে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি মানুষকে নাজেহাল করে দিয়েছে, কিন্তু কারণ জানার লোক নেই। খেত আছে মজুরি নেই, দাবি জানানোর লোক নেই। শুধু নেই আর নেই। সরকারের ঢক্কা নিনাদ আছে কিন্তু সারবস্তু সেখানে নেই। একথা জানাতেই আরএসএসের বহরমপুরের এক প্রতিনিধি বললেন, “শ্রমজীবী, কৃষিজীবী ও বঞ্চিত মানুষের স্বার্থ রক্ষায় এবং সরকারের নীতির বিরুদ্ধে গণআন্দোলন গড়ে তোলায় ভিড় আছে কিন্তু সেই ভিড়ের লক্ষ্য নেই, সেটাও বলুন।”















