Domkal Girls College “যে কোনো জাতিকে ধ্বংস করার জন্য পারমাণবিক বোমা বা দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের প্রয়োজন হয় না। এর জন্য শুধু শিক্ষার মান কমিয়ে দেওয়া এবং শিক্ষার্থীদের পরীক্ষায় নকল করার সুযোগ দেওয়াই যথেষ্ট।”- নেলসন ম্যান্ডেলা। এখনও জ্বলজ্বল করছে ডোমকল গার্লস কলেজের ওয়েবসাইটে লেখা কথাগুলো। অথচ যিনি কলেজের পড়ুয়াদের উদ্দেশ্যে নেলসন ম্যান্ডেলার এই কথাগুলি লিখেছেন তিনি আজ নিয়ে তিন দিন নদিয়ার পুলিশ হেফাজতে রাত কাটাচ্ছেন। তিনি অলক দাস Alak Kumar Das।

ডোমকল গার্লস কলেজের অধ্যক্ষ। পূর্ব মেদিনীপুরের বাসিন্দা অলোক ডোমকলের আগে বেথুয়াডহরি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল সেখানেই। সেই অভিযোগের তদন্তে নেমে নদিয়ার নাকাশিপাড়া থানার পুলিশ ডোমকল থেকে তাঁকে গ্রেফতার করে বুধবার রাতে। বৃহস্পতিবার তাঁকে আদালতে তোলা হলে বিচারক তাঁকে সাত দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে বলে জেলা পুলিশ সূত্রে জানা যায়।

Domkal Girls College কী অভিযোগ ?
Domkal Girls College বিভিন্ন সূত্রের দাবি, করোনার অন্ধকারে কলেজের তহবিল ভেঙে আনুমানিক পঞ্চাশ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করেছিলেন অলোক। পরে তা নিয়ে শোরগোল পড়ে যায় কলেজে। বাড়তে থাকে চাপ। সূত্রের দাবি, তাঁর হাত ধরেই যে আর্থিক কেলেঙ্কারি হয়েছে কলেজে তা কলেজ পরিচালন কমিটির বৈঠকে স্বীকারও করেছিলেন অলোক। এক অধ্যাপকের দাবি, তখন চাপের মুখে পড়ে তছরূপ হওয়া ২৫ লক্ষ টাকা ফেরত দেন অলক। সেই সময় তৃণমূলের শিক্ষক সংগঠনের ঘনিষ্ঠ ছিলেন তিনি। পরে প্রভাব খাটিয়ে বিষয়টি ধামাচাপা দিতেও কসুর করেননি এই কৃতি, এমন দাবিও উঠছে। ২০২১ সালে সেই প্রভাবের সুতো শক্ত করে অধ্যক্ষ পদে বদলি হয়ে ডোমকলে চলে আসেন অলোক। তাঁর সহকর্মীদের অভিযোগ, যে ২৫ লক্ষ টাকা ফেরত দিয়েছিলেন সেই টাকা পরে ফের আদায় করেন পুলিশ হেফাজতে থাকা এই শিক্ষক।
আরও পড়ুন শাসক আছে বিরোধী নেই রাজ্যে, বাম কংগ্রেসেও ভরসাও দেওয়ার মুখ কৈ?
Domkal Girls College তবে এত কিছুর পরেও শেষরক্ষা হল না। পরিবর্তনের বাংলায় সেই অপরাধ ধুলো ঝেড়ে সামনে এসেছে দিন কয়েক আগে। যে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগে সরগরম কলেজ থেকে বিশ্ববিদ্যালয় ডোমকল গার্লস কলেজের অধ্যক্ষ পদে থাকলেও সেই অলক এখনও বেথুয়াডহরি কলেজের পরিচালন কমিটির সরকারি প্রতিনিধি। কীভাবে সম্ভব? সেই সব সুতো জুড়ে আর্থিক দুর্নীতির গোড়ায় পৌঁছতে অধ্যক্ষকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে নাকাশিপাড়া থানার পুলিশ। অথচ ডোমকল গার্লস কলেজের ওয়েবসাইটে তিনি কলেজের পড়ুয়া, অভিভাবক, শিক্ষক, শিক্ষাকর্মীদের উদ্দেশ্যে দিয়েছিলেন গালভরা প্রতিশ্রুতি। লিখেছিলেন- “এই প্রতিষ্ঠানটি সাধারণত অপেক্ষাকৃত অনগ্রসর এলাকা থেকে আসা ছাত্রীদের মানসম্মত শিক্ষা প্রদানের লক্ষ্যে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”










