Murshidabad Tourism Development ঐতিহাসিক মুর্শিদাবাদের থমকে যাওয়া পর্যটনকে চাঙ্গা করতে পর্যটন টানতে নয়া উদ্যোগ । হাজারদুয়ারী প্যালেসের পাশে ভাগীরথী নদীর পাড়ে হবে সৌন্দর্যায়ন । পাশাপাশি থাকবে আধুনিক লাইট অ্যান্ড সাউন্ড। পর্যটন টানতে দ্রুত তা অনুমোদনের জন্য প্লান তৈরি করে পাঠান হবে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর কাছে। হাজারদুয়ারী পর্যটন উন্নয়নকে কেন্দ্র করে মুর্শিদাবাদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলতে চলেছে। ভাগীরথী নদীর তীরে সৌন্দর্যায়ন, আধুনিক লাইট অ্যান্ড সাউন্ড শো এবং পর্যটকদের দীর্ঘ সময় শহরে ধরে রাখার পরিকল্পনা নিয়ে বড় উদ্যোগের কথা জানাল রাজ্য সরকার।
বুধবার লালবাগে সাংবাদিক বৈঠকে রাজ্যের অনগ্রসর শ্রেণী কল্যাণ, জনশিক্ষা প্রসার ও গ্রন্থাগার পরিষেবা বিভাগের মন্ত্রী গৌরী শঙ্কর ঘোষ জানান, হাজারদুয়ারী প্যালেসের পাশের ভাগীরথী নদীর পাড়কে নতুনভাবে সাজানো হবে। পর্যটকদের জন্য আধুনিক পরিবেশ গড়ে তুলতে বিশেষ প্রকল্পের প্রস্তাব তৈরি করে দ্রুত কেন্দ্রীয় সরকারের অনুমোদনের জন্য পাঠানো হবে।
Murshidabad Tourism Development পর্যটনের বিকাশে বিশেষ উদ্যোগ
Murshidabad Tourism Development মন্ত্রী জানান, পরিকল্পনা অনুযায়ী কয়েক মাসের মধ্যেই বাজেট অনুমোদনের চেষ্টা করা হবে। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে অক্টোবর মাস থেকেই প্রকল্পের কাজ শুরু করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে পর্যটনের পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থান ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়নও হবে বলে আশাবাদী প্রশাসন।

মঙ্গলবার মুর্শিদাবাদের জেলা শাসক আর অর্জুন সহ জেলা প্রশাসনের কর্তাদের নিয়ে মুর্শিদাবাদ শহরের বিস্তীর্ণ এলাকা পরিদর্শন করেন মন্ত্রী গৌরী শঙ্কর ঘোষ। সেই পরিদর্শনেও ইতিবাচক আলোচনা উঠে এসেছে বলে জানান মন্ত্রী। তিনি আরও জানান, শুধু দিনের বেলায় নয়, রাত পর্যন্ত যাতে পর্যটকেরা লালবাগ শহরে সময় কাটাতে পারেন, সেই লক্ষ্যেই নদীর ধারে বিশেষ আলোকসজ্জা ও লাইট অ্যান্ড সাউন্ডের ব্যবস্থা করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এতে পর্যটকদের অবস্থানের সময় বাড়বে এবং স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যও উপকৃত হবে।

মন্ত্রী বলেন, পাহাড়বাগান ও মোতিমহল এলাকায় মার্কেট কমপ্লেক্স তৈরির পরিকল্পনাও রয়েছে। হকারদের উচ্ছেদ করা হবে না, বরং তাঁদের নতুন মার্কেট কমপ্লেক্সে জায়গা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। ফলে জীবিকা ব্যাহত না করেই এলাকার উন্নয়ন করা সম্ভব হবে।
Murshidabad Tourism Development ফোকাসে বালুচরী, মুর্শিদাবাদ সিল্ক
এছাড়াও জিয়াগঞ্জে বালুচরী শাড়ি ও মুর্শিদাবাদ সিল্ককে কেন্দ্র করে একটি বিশেষ হাব গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা জানান তিনি। এর মাধ্যমে জিয়াগঞ্জ ও আজিমগঞ্জে পর্যটকদের আগমন আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। শিক্ষা ও সংস্কৃতির ক্ষেত্রেও একাধিক উদ্যোগের কথা ঘোষণা করেন মন্ত্রী। মুর্শিদাবাদ ও জিয়াগঞ্জের লাইব্রেরিগুলিকে আধুনিকীকরণ, ডিজিটাল পরিষেবা চালু এবং আধুনিক গ্রন্থাগার গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে এক ক্লিকেই বই পাওয়ার সুবিধাও চালু করার লক্ষ্য রয়েছে।
মন্ত্রী গৌরী শঙ্কর ঘোষের দাবি, পর্যটন, পানীয় জল, গ্রামীণ পরিকাঠামো এবং শিক্ষা—সব ক্ষেত্রেই মুর্শিদাবাদ জেলাকে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে রাজ্য সরকার নির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে কাজ করছে। নতুন প্রকল্পগুলি বাস্তবায়িত হলে ঐতিহাসিক এই জেলার পর্যটন শিল্পে নতুন গতি আসবে বলে মনে করা হচ্ছে।
## ❓FAQs
১. হাজারদুয়ারী এলাকায় কী ধরনের উন্নয়ন হবে?
ভাগীরথী নদীর পাড়ে সৌন্দর্যায়ন, আধুনিক লাইট অ্যান্ড সাউন্ড শো এবং পর্যটকবান্ধব পরিকাঠামো তৈরি করা হবে।
২. প্রকল্পের কাজ কবে শুরু হতে পারে?
পরিকল্পনা অনুযায়ী বাজেট অনুমোদনের পর অক্টোবর মাস থেকেই কাজ শুরু করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
৩. হকারদের কি সরিয়ে দেওয়া হবে?
না। হকারদের জন্য নতুন মার্কেট কমপ্লেক্সে জায়গা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
৪. জিয়াগঞ্জে কী নতুন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে?
বালুচরী ও মুর্শিদাবাদ সিল্কের জন্য একটি বিশেষ হাব তৈরি করার পরিকল্পনা রয়েছে।
৫. লাইব্রেরি নিয়ে কী ঘোষণা করা হয়েছে?
মুর্শিদাবাদ ও জিয়াগঞ্জের লাইব্রেরিগুলিকে আধুনিকীকরণ, ডিজিটালাইজেশন এবং নতুন সুবিধা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।












