এখন খবরমধ্যবঙ্গ নিউজপরিবেশবিনোদনহেলথ ওয়াচখেলাঘরে বাইরেলাইফস্টাইলঅন্যান্য

Congress President মনোজকে সরিয়ে মুর্শিদাবাদ কংগ্রেসের নেতা হলেন কাফি

Published on: September 13, 2026
Congress President

Congress President বিদ্যুৎ মৈত্রঃ মুর্শিদাবাদ কংগ্রেসে অধীর চৌধুরীর কতৃত্বই বহাল রাখল সর্বভারতীয় কংগ্রেস। রেজিনগরে প্রার্থী হিসেবে অধীর (Adhir Ranjan Chowdhury.)  বেছে নিয়েছিলেন তাঁর বিশ্বস্ত সঙ্গী আবদুল্লাহীল কাফিকে। তবে তাঁর জন্য যে আরও বড় কিছু অপেক্ষা করে আছে তা ঘ্রুণাক্ষরেও টের পাননি জেলা কংগ্রেস কার্যালয়ে দিনভর ঘাড়গুঁজে পরে থাকা নেতা কর্মীরা। শনিবার জেলার সর্বস্তরের কর্মীদের প্রায় চমকে দিয়ে জেলা সভাপতি হিসেবে ঘোষিত হল সেই কাফিরই নাম। সরলেন ‘ভদ্রলোক’ মনোজ চক্রবর্তী। সেইসঙ্গে প্রথম সারির রাজনৈতিক মঞ্চ থেকেও পিছনে চলে গেলেন মনোজ। অথচ দুর্নীতি কখনও তাঁকে স্পর্শ করতে পারেনি। উল্টে অধীর প্রেমে অটল থেকেছেন দলের প্রতি।

Congress President একইভাবে উত্তর মুর্শিদাবাদের পরিচিত মুখ হাসানুজ্জামান বাপ্পার স্বপ্নে ছাই দিয়ে সেখানে কংগ্রেসের নতুন উইংসের প্রথম জেলা সভাপতি হলেন আলফাজুদ্দিন বিশ্বাস। জঙ্গিপুর কংগ্রেসের মহকুমা সভাপতি পদ থেকে হাসানকে সরিয়ে তাঁকেই সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। বিধানসভা নির্বাচনে প্রার্থীও করা হয়েছিল তাঁকে। এবার তার কাঁধেই থাকল উত্তর মুর্শিদাবাদে কংগ্রেস কর্মীদের ভার। তবে আলফাজুদ্দিনকে নিয়ে কংগ্রেস সমর্থকদের কোনও প্রশ্ন না থাকলেও, কাফির সভাপতি হওয়া নিয়ে অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন। জেলা কংগ্রেস কার্যালয়ে দৈনিক যাতায়াত এমন এক নেতা বলেন, “ ২০২২ সালে দলে এলেন। এখনও গায়ে কংগ্রেসের গন্ধ ঠিকমতো লাগেনি। তিনিই হলেন আমাদের আগামী দিনের নেতা।”

Congress President এর আগে দীর্ঘদিনের শহর কংগ্রেসর সভাপতি অরিন্দম দাসকে সরিয়ে এক ব্যবসায়ীর হাতে শহর কংগ্রেসের সভাপতি পদে নিয়োগ করা নিয়েও দলে মতবিরোধ হয়েছিল। ওই নেতাই এদিন বলেন, “ বুঝলেন রাজনীতিটাই বদলে গিয়েছে। যে ভীষ্মদেব কর্মকার দাদাকে ভোটে হারাতে লোকসমাজে অপমান করলেন, সেই ভীষ্মদেবের হাত শক্ত করতেই অভিজিৎ বিশ্বাসকে সভাপতি করে দেওয়া হল। আর আমরা পতাকা বাহক হয়েই থেকে গেলাম।” আর এক নেতা দাবি করেন, “কাফি একদিকে ভোটেরও প্রার্থী হল অন্যদিকে জেলা সভাপতিও হল। এখন ওর লটারি কাটার মোক্ষম সময়, ভাগ্য ওকে সঙ্গ দিচ্ছে। আর ভাগ্য আর দল আমাদের পরীক্ষা নিচ্ছে তো নিচ্ছেই।”

Congress President লোকসভা নির্বাচনে হেরে যাওয়া ইস্তক মুর্শিদাবাদ জেলা কংগ্রেস অধীরের পক্ষ আর বিপক্ষে ভেঙে ভাগ হয়ে গিয়েছে। বিধানসভা নির্বাচনের মুখে সেই ফাটল চওড়া হয়েছে যত অধীরের চোয়াল তত শক্ত হয়েছে। একদিকে রাজ্য সভাপতি শুভঙ্কর সরকারের সঙ্গে ঠান্ডা লড়াই তারসঙ্গে সোনিয়া গান্ধী, রাহুল গান্ধীদের কাছে নিজেকে অনুগত প্রমাণ করার চেষ্টা এবং শেষপর্যন্ত বিদ্রোহী তথা দলে তাঁর বিরোধীদের ব্যাকফুটে ঠেলে দাপট বজায় রেখে খেললেন অধীরই।

Congress President কিন্তু প্রশ্ন তবু পিছু ছাড়ছে না অধীরের। মনোজ চক্রবর্তীকে জেলা সভাপতির পদে বসিয়ে সেদিনই বহরমপুরের জনপ্রিয় বিধায়ককে ভোটের লড়াই থেকে সরিয়ে দিয়ে অধীর নিজের রাস্তা তৈরি করেছিলেন। একইসঙ্গে জেলায় নিজের কতৃত্বও ধরে রেখেছিলেন ‘মনোজকে কাঠের পুতুল’ সাজিয়ে। সেবার ‘বৃদ্ধ’ মনোজকে সভাপতি পদে বসানোয় বিদ্রোহ করেছিলেন নবীন প্রজন্মের কংগ্রেস নেতারা। এই দাবি তাঁদেরই। এবার মনোজকে সরিয়ে অধীর সামনে আনলেন নতুন মুখ, কিন্তু চালকের আসনে থাকলেন নিজেই। একদিন ওই পদে ছিলেন নিজেই। আর দলের ৩৫ জন ভিন্ন ভিন্ন জেলা সভাপতির নামের তালিকাতে নিজের জেলা সভাপতির নাম দেখে বিদ্রোহী শিবিরের এক নেতা বলে বসলেন, “এতো আর টি-২০ নয়, টেস্ট। খেলা তো সবে শুরু। আর তা শুরু করলেন অধীরই।”

আরও পড়ুনঃ Rejinagar Congress Candidate প্রার্থী হয়ে জেতার দাবি কংগ্রেসের কাফির

Join WhatsApp

Join Now

Join Telegram

Join Now