Murshidabad DI বিদ্যুৎ মৈত্রঃ মুর্শিদাবাদের শিক্ষা ভবনের দুই কর্তাকেই বদলি করল স্কুল শিক্ষা দফতর। অগস্ট মাসেই বদলি করা হয়েছিল জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শক অপর্ণা মন্ডলকে। তাঁকে পাহাড়ে ঠেলে সেখান থেকে সমতলে আনা হয়েছিল সমর চন্দ্র মন্ডলকে। অগস্টের শেষ সপ্তাহে তিনি মুর্শিদাবাদ জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শকের দায়িত্ব নেন। এখনও এক মাসও হয়নি, তাঁকে কোচবিহারে ডিআই (অ্যাকাডেমিক) পদে পাঠিয়ে ওই পদে থাকা গৌতম হালদারকে তাঁর জায়গায় পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিকাশ ভবন।
বৃহস্পতিবার, রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় কর্মরত জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক ও ওই পদে থাকা ৫৭ জন আধিকারিককে বদলি করা হয়েছে। সেই তালিকায় নাম রয়েছে মুর্শিদাবাদ জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক ( মাধ্যমিক ) জয়ন্ত হালদারের নামও। একটানা প্রায় ছ’বছর মুর্শিদাবাদের জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক ( মাধ্যমিক ) পদে ছিলেন অমর কুমার শীল। তাঁকে ২০২৫ সালের মার্চ মাসে বিকাশ ভবএন অ্যাডিশনাল ডাইরক্টেট অব স্কুল এডুকেশন (ADSE) পদে বদলি করে তাঁর জায়গায় পশ্চিম বর্ধমান থেকে পাঠানো হয়েছিল সুনীল সাঁপুইকে। পরে সেই বদলি পরিবর্তন করে জয়ন্ত হালদারকে পাঠানো হয়েছিল ওই বছরের মাঝখানে। এক বছর যেতে না যেতেই এবার বদলির নোটিশ পেলেন জয়ন্তও। তাঁকে পূর্ব মেদিনীপুরের জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক (প্রাথমিক) পদে বদলি করে তাঁর জায়গায় পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক (প্রাথমিক) গৌতম কুমার সামন্তকে আনা হচ্ছে। ওই বদলির তালিকায় নাম রয়েছে শিক্ষা ভবনের আরও এক শিক্ষা আধিকারিক দেব নারায়ণ শেঠের। তিনি জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক (অ্যাকাডেমিক)এর পদে ছিলেন। একদিনে শিক্ষা ভবনের তিন শীর্ষ কর্তার বদলি নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই গুঞ্জন উঠেছে জেলার শিক্ষামহলে।
Murshidabad DI প্রাথমিক শিক্ষকদের বদলি নিয়ে অভিযোগ উঠেছিল তৎকালীন জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক তথা জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় সংসদের চেয়ারম্যান অপর্ণার বিরুদ্ধে। সেই অভিযোগের কয়েকদিন পরেই তাঁকে বদলির নোটিশ ধরানো হয়েছিল। শিক্ষা দফতরের আধিকারিকরা সেই বদলিকে রুটিন বদলি বললেও শিক্ষকরা তা মানতে চাননি। কিন্তু কাজে যোগদানের কয়েক দিনের মধ্যে সমরবাবুর বদলি নিয়ে ধন্দে আরএসএস পন্থী শিক্ষক সংগঠন অখিল ভারতীয় রাষ্ট্রীয় শৈখিক মহাসংঘও। ওই সংগঠনের সভাপতি অনুপম মৈত্রও বলেন, “ খুব কমদিন তাঁকে দেখার সুযোগ হয়েছে। ওঁর কিছু লেখাও পড়েছি। ভাল কাজ করার পরামর্শও দিয়েছিলেন। কিন্তু তাঁকে কেন এত তাড়াতাড়ি জেলা ছাড়তে হল সে সম্পর্কে আমাদের ধারণা নেই।” তবে মাধ্যমিকের ডিআইয়ের বদলির নির্দেশকে রুটিন বদলি হিসেবেই দেখছেন এই কার্যকর্তা। তিনি বলেন, “ উনি জেলার ছেলে হিসেবে ভাল কাজই করেছেন গত একবছর ধরে। যেখানে গেলেন আমাদের বিশ্বাস সেখানেও ভাল কাজ করবেন বলে মনে হয়।” বিজেপি টিচার সেলের আহ্বায়ক সুব্রত দাস অবশ্য মাধ্যমিক ডিআইয়ের বদলি প্রসঙ্গে অবশ্য আক্রমণাত্মক। তিনি বলেন, “ উনি স্বেচ্ছাচারিতা আর দাম্ভিকতার সঙ্গে জেলার শিক্ষা চালাচ্ছিলেন। কারও মতামত নেন না। শিক্ষকদের সম্মানও দেন না। মুষ্টিমেয় দু-একজনের দ্বারা পরিচালিত হন। ওঁর বিরুদ্ধে বিভিন্ন বেসরকারি স্কুলগুলির পুর্ন অনুমোদন এবং তদন্ত করার নামে দুর্নীতির প্রমাণ আছে। এছাড়াও তাঁর বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরণের কর্মচারীদের মধ্যে অসন্তোষ ছিল। সেই কারণেই তাঁকে মনে হয় সরিয়ে দেওয়া হল।” জেলার পূর্ণমন্ত্রী গৌরীশঙ্কর ঘোষ বলেন, “ জেলার শিক্ষা আধিকারিকদের কাজ শিক্ষাব্যবস্থাকে সুন্দরভাবে পরিচালনা করা। কিন্তু গত পনের বছরের বদভ্যাসকে পাল্টাতে পারেন নি অনেক শিক্ষা আধিকারিক। শিক্ষাঙ্গনকে রাজনীতির আখড়া করে রেখেছেন। নতুন সরকার চাইছে শিক্ষাকে রাজনীতি মুক্ত করতে। সেই কারণে যাঁরা যাঁরা এখনও সেই বদভ্যাস পাল্টাতে পারেননি আমার ব্যক্তিগত মত মনে হয় সেই কারণেই তাঁদের কাজের সুবিধার্থে স্থানান্তরিত করা হচ্ছে।”













