এখন খবরমধ্যবঙ্গ নিউজপরিবেশবিনোদনহেলথ ওয়াচখেলাঘরে বাইরেলাইফস্টাইলঅন্যান্য

Rejinagar Vote বিজেপি’র ফাঁদে পা, চুপসে গেল সেলিমদের ঐক্যের বেলুন বার্তা

Published on: September 14, 2026
Rejinagar Vote

Rejinagar Vote বিদ্যুৎ মৈত্রঃ বিজেপি বিরোধী সমস্ত শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ করতে গিয়ে ফ্রন্টের ঐক্যকেই ভেঙে ফেললেন সেলিমরা। বিজেপি’র পাতা ফাঁদে পা দিলেন সেলিম বাহিনী! না হলে লক্ষ্য হারিয়ে ফ্রন্টের মধ্যেই বিবাদ বাঁধে ? সূত্র বলছে, সংখ্যালঘু অধ্যূষিত রেজিনগরের মানুষের মন জেতার লড়াই থেকে শত সহস্র যোজন দূরে চলে গিয়েছেন প্রগতিশীল নেতারা। বিশেষ করে শনিবার সন্ধ্যায় দলীয় প্রার্থী ঘোষণা হওয়ার পর সেই কথাই আলোচিত হচ্ছে সমাজমাধ্যম থেকে গাঁ-গঞ্জের চাতাল থেকে চাতালে। ওইদিন সিপিএম যাঁকে রেজিনগরের উপনির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে সামনে এনেছেন তাঁকে লোকে ‘দলবদলু উকিল’ বলে চেনে। একসময় সিপিএমের নেতা বলেই পরিচিত ছিলেন মহম্মদ সাঈদ। এই আসনে আরএসপি বামফ্রন্টের সহমতের ভিত্তিতে প্রার্থী দিতে চেয়েছিল। সেখানে আপত্তি জানিয়েছিলেন সেলিম। সে কথায় কান না দিয়ে  সিপিএমের বিরুদ্ধে রেজিনগরে প্রার্থী দিল আরএসপি Revolutionary Socialist Party

Rejinagar Vote প্রার্থী ঘোষণা RSP’R র

Rejinagar Vote এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে  রাজ্য সম্পাদক তপন হোড় জানিয়েছেন, জুন মাসে আরএসপি লড়াই করতে চায় জানিয়ে চিঠি দিয়েছিল। কিন্তু সেই চিঠির যেমন গুরুত্ব দেওয়া হয়নি, তেমনি ‘একতরফা ভাবে’ সিপিএম আরএসপি’র দাবি উপেক্ষা করে প্রার্থী দেয়। ওই বিজ্ঞপ্তিতে আরএসপি’র রাজ্য সম্পাদক লিখেছেন, “ যা অনৈতিক বলে আর এস পি মনে করে।
একতরফা প্রার্থী ঘোষণার পরে ১৩ সেপ্টেম্বর বামফ্রন্টের বৈঠক ডাকা হয়। সেই বৈঠকে আর এস পি একতরফা এই প্রক্রিয়ার তীব্র প্রতিবাদ করে। এবং এর ফলে যে পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে তাতে আর এস পি-র পক্ষে রেজিনগর কেন্দ্রের উপনির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসা যে সম্ভব নয় তা দ্ব্যর্থহীনভাবে এই সভায় জানানো হয়।রেজিনগর বিধানসভা উপনির্বাচনে কমরেড বিকাশ চন্দ্র মিশ্র আর এস পি প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে।” আর তাতেই বামফ্রন্ট ভেঙে যাওয়ার গুঞ্জন উঠেছে কমিউন থেকে কমিউনে।

Rejinagar Vote বাম শাসনকালে ছেদ টেনে রাজ্যের ক্ষমতায় এসেছিল তৃণমূল ২০১১ সালে। ২০১৩ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনে তবুও লাল পতাকা কাঁধে টেনে মানুষের রায়ে জেলা পরিষদের সদস্য হয়েছিলেন সাঈদ। কিন্তু সেই তিনিই ২০১৩ সালে তৃণমূল স্রোতে গা ভাসিয়ে ছিলেন। সূত্রের দাবি, তৎকালীন তৃণমূল নেতা তথা মন্ত্রী ও মুর্শিদাবাদ জেলার পর্যবেক্ষক শুভেন্দু অধিকারীর ডাক উপেক্ষা করতে না পেরেই তিনি তৃণমূলে নাম লিখিয়েছিলেন। আশা ছিল দল তাকে বিধানসভার প্রার্থী করবে। কিন্তু সে আশা পূরণ না হওয়ায় একুশের নির্বাচনের আগে তিনি কংগ্রেসের ঘরে ঢুকে পড়েন। কিন্তু সেখানেও ধাক্কা খেয়ে ফের ঘরে ফেরেন উকিল।

Rejinagar Vote এহেন ব্যক্তিত্বকেই রেজিনগরে দলের প্রার্থী হিসেবে বেছে নেওয়ায় ঘরে বাইরে সমালোচনার মুখে পড়েছে সিপিএম। তাঁকে দলের এরিয়া কমিটির সম্পাদক হিসেবে তুলে ধরতে অবশ্য ব্যস্ত জামির মোল্লারা। কিন্তু তাতেও সিপিএমের দৃষ্টিভঙ্গীর দিকে আঙুল তোলা ঠেকানো যাচ্ছে না। বিশ্লেষণ চলছে, নানান স্তরে। কেউ বলছেন কংগ্রেস অধীর চৌধুরী মনোনিত নেতাকে প্রার্থী করায় তাঁকে সুবিধা পাইয়ে দিতেই মহম্মদ সেলিমরা ‘এই উকিল’কে প্রার্থী করেছেন। কেউ বলছেন, “ ভোট ভাগ করে বিজেপিকে সুবিধা পাইয়ে দিতেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সেলিম।” এই কেন্দ্রে প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় ছিলেন মির্জাপুরের এক ভূমিকন্যা। তাঁকে প্রার্থী না করায় অনেকে সিপিএম নেতা দলের সিদ্ধান্তকে আত্মঘাতী বলেও দাগিয়ে দিচ্ছেন।

Rejinagar Vote কেন বারবার সিপিএম কর্মী সমর্থকদের আবেগের কথা ভুলে যাচ্ছে। দলের মধ্যেই উঠছে প্রশ্ন? ওপরের ঐক্যের বার্তা অথচ সংগঠন কেন অন্তর্দ্বন্দ্বে দীর্ণ? ভারতীয় জনতা পার্টি-র লক্ষ্য কি ক্ষমতায় আসা ইস্তক প্রতি মূহুর্তে তা বুঝিয়ে দিচ্ছেন শুভেন্দু অধিকারীরা। সংখ্যালঘু বিশেষ করে মুসলিমরা রাজ্যে এই মূহুর্তে সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের হুঙ্কারে কোণঠাসা। সেই সময় তাদের বরাভয় দিয়ে অনায়াসে নিজেদের সামনে আনার চেষ্টা করতে পারত সিপিএম। উল্টে গৃহযুদ্ধে শামিল হলেন নেতারা। সুবিধা হল কার? আম জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রতিষ্ঠাতা হুমায়ুন কবীর একটি সুবিধাজনক অবস্থায় অবশ্যই থাকবেন এই নির্বাচনে। সংখ্যালঘু মুসলিমরা গত পাঁচ মাসে আগে তাঁকে লক্ষাধিক ভোটে জিতিয়ে নিজেদের মসিহ প্রমাণ করেছে। এবার নিজের ছেলেকে দাঁড় করিয়ে সেই অবস্থান অটুট রাখার চেষ্টা করছেন তিনি। বিজেপি সেই অবস্থাকে নড়িয়ে দিতে পুলিশকে ব্যবহার করছে বলে নাগাড়ে গত দু-দিন ধরে তোপ দাগছেন হুমায়ুন। একইসঙ্গে ফিকে হয়েছে বাবরি মসজিদের তত্বও।

Rejinagar Vote সেই হুমায়ুনকে বামেরা ধর্মের ব্যাপারী বলে মাঠে ময়দানে আওয়াজ তোলে। কিন্তু কার্যক্ষেত্রে তার প্রমাণ মেলে না। কংগ্রেস এখানে যাঁকে প্রার্থী করেছে সেই আবদুল্লাহীল কাফি, স্থানীয় কেউ নন। দলের এই নয়া সভাপতির বিরুদ্ধে দলের কর্মীরাই বিভক্ত। ফলে সেখানকার ভোটাররাও যে দ্বিধাবিভক্ত হবেন সেটাই স্বাভাবিক। তাছাড়া জেলার নতুন দুই বিধায়কও যে গত পাঁচ মাসে সরকারের নীতির সমালোচনা বা মানুষের কথা বলে দলকে চাঙ্গা করতে মাঠে ময়দানে নেমেছেন তা তো নয়। সবকিছুই হয়েছে অধীর চৌধুরীর চোখ পানে চেয়ে মন রাখার চেষ্টার মতো। সাধারণ নির্বাচনে কংগ্রেস এখানে হাজার চারেক ভোট পেয়েছিল। কিন্তু জেতার আসা করছে না কংগ্রেসও। এই রেসে নামলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রার্থী করলেন হুমায়ুনের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রবিউল আলম চৌধুরীকে। রবিউল তাঁর ঘনিষ্ঠ মহলে বলছেন, “ বিজেপির প্রতি মানুষ আস্থা হারিয়েছে এই অবস্থায় মানুষ তৃণমূলকে খুঁজছে। ফলে ভোটের ফল ভাল হবে।”

Rejinagar Vote  ২০১৩ সালে উপনির্বাচনে তৃণমূলের হুমায়ুনকে হারিয়ে এই কেন্দ্র থেকে বিধায়ক হন কংগ্রেসের রবিউল। ২০১৬ সালেও কংগ্রেসের টিকিটে জেতেন। পরে তৃণমূলে যোগ দেন তিনি। ২০২১ সালে তৃণমূল কংগ্রেসের টিকিটে রেজিনগর কেন্দ্র থেকে জিতেছিলেন রবিউল। তবে ২৬-এর নির্বাচনে তাঁকে এই কেন্দ্রে টিকিট দেয়নি তৃণমূল। ২৬শে তিনি তৃণমূল এর টিকিটে বেলডাঙা থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বিজেপির কাছে পরাজিত হন।
সাধারণ নির্বাচনে সিপিএম হাওয়া বুঝে ওই বিধানসভায় পশ্চিমবঙ্গ সোশ্যালিস্ট পার্টিকে ভিড়িয়ে দিয়েছিল সিপিএম।

Rejinagar Vote  অথচ দুটি দলের কাঠামোগতই ফারাক রয়েছে। সেই দলের প্রার্থী তুষারকান্তি চট্টোপাধ্যায় পেয়েছিলেন ৭৪৮ ভোট। এবার সাঈদকে সিপিআই সমর্থন করেছে। আরএসপি একলা চলার ডাক দিল। দল হিসেবে টিকে থাকতে গেলে আরএসপিকে এই সিদ্ধান্ত নিতেই হত সমর্থকদের জন্য। তারাও কিছু ভোট পাবে। এই অবস্থায় ৮০ শতাংশ মুসলিম ভোট পাঁচ ভাগে ভাগ হলে অমুসলিম ভোটে বাজিমাত করবে বিজেপি, দাবি অভিজ্ঞ মহলের। সেই অঙ্ক কষেই বিধায়ক হিসেবে জুতসই মুখ খুঁজছেন শুভেন্দু অধিকারী।

আরও পড়ুনঃ প্রার্থী হয়ে জেতার দাবি কংগ্রেসের কাফির

Join WhatsApp

Join Now

Join Telegram

Join Now