CM Rejinagar রেজিনগরে আগামী দেড় বছরের মধ্যে শিল্প তালুকে কারখানা চালু করার আশ্বাস! উপনির্বাচনের প্রচারে এসে শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান, সেতু ও নতুন কলেজ তৈরির একাধিক প্রতিশ্রুতি দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। দাবি করলেন, ৭০-৩০ বিভাজনের দিন শেষ। বৃহস্পতিবার বিজেপি প্রার্থী শাখারভ সরকারের সমর্থনে আয়োজিত জনসভা থেকে এলাকার উন্নয়নের রূপরেখা তুলে ধরার পাশাপাশি রাজনৈতিক বিভাজন ভুলে একজোট হওয়ার আহ্বানও জানান তিনি।
CM Rejinagar রেজিনগরে দেড় বছরের মধ্যে কারখানা তৈরির আশ্বাস
রেজিনগরের শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থানকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে বক্তব্য রাখেন মুখ্যমন্ত্রী। সভায় তিনি জানান, রেজিনগর শিল্প তালুকের জন্য ইতিমধ্যেই চারটি শিল্প প্রস্তাব এসেছে। আগামী দেড় বছরের মধ্যে সেখানে কারখানা গড়ে ওঠার সম্ভাবনা রয়েছে বলেও আশ্বাস দেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “ইতিমধ্যেই রেজিনগরের জন্য ৪টি শিল্প প্রস্তাব চলে এসেছে। আগামী দেড় বছরের মধ্যে রেজিনগর শিল্প তালুকে আপনারা কারখানার ধোঁয়া দেখতে পাবেন— এই বিশ্বাস রাখুন।”
শিল্প গড়ে উঠলে এলাকার যুবক-যুবতীদের কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরি হবে বলে জানান শুভেন্দু। তাঁর বক্তব্য, অন্ধ্রপ্রদেশ ও মহারাষ্ট্রের মতো রাজ্যে কাজ করতে যাওয়া রেজিনগরের পরিযায়ী শ্রমিকদের যাতে আর ভিনরাজ্যে যেতে না হয়, সেই লক্ষ্যেই স্থানীয় স্তরে কাজের সুযোগ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
CM Rejinagar ফলতা এসইজেডের উদাহরণ টেনে শিল্পের বার্তা
শিল্পায়নের প্রসঙ্গে ফলতা এসইজেডের উদাহরণ তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, ফলতায় নদীর ধারে জমি হস্তান্তর করা হয়েছে এবং সেখানে জাহাজ নির্মাণ ও মেরামতির কাজ শুরু হওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
একই ধরনের উদ্যোগ রেজিনগরেও বাস্তবায়িত করার কথা জানান তিনি। পাশাপাশি স্থানীয় দুগ্ধচাষিদের আর্থিক উন্নয়নের লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক দুগ্ধজাত পণ্যের ব্র্যান্ড আমুল-কে এলাকায় আনার কথাও সভায় উল্লেখ করেন।
সরকারি পরিষেবা নিয়ে বিরোধীদের নিশানা
জনসভা থেকে অতীতের রাজনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরে বিরোধীদেরও আক্রমণ করেন শুভেন্দু অধিকারী। সাগরদিঘি উপনির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি অভিযোগ করেন, বিরোধী দল জয়ী হওয়ার পর সেখানকার লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের সুবিধা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল।
তাঁর দাবি, গত বিধানসভা নির্বাচনে রেজিনগরে বিজেপি ৬৪ হাজার ভোট পেলেও জয়ী হতে পারেনি। তবে নির্বাচনের ফলাফলের কারণে এলাকার মানুষের সরকারি পরিষেবা বন্ধ করা হয়নি বলে বক্তব্য রাখেন তিনি। তাঁর কথায়, রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও সাধারণ মানুষের উন্নয়নমূলক পরিষেবা অব্যাহত রাখা জরুরি।
সেতু ও নতুন কলেজ তৈরির প্রতিশ্রুতি
রেজিনগরের দীর্ঘদিনের দাবি অনুযায়ী একটি সেতু এবং নতুন কলেজ তৈরির প্রতিশ্রুতিও দেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, এই উন্নয়নমূলক প্রকল্পগুলি বাস্তবায়নের জন্য বিজেপি প্রার্থী সাখারভ সরকারকে জয়ী করে বিধানসভায় পাঠানো প্রয়োজন।
তবে সভায় দেওয়া এই প্রতিশ্রুতিগুলির বাস্তবায়নের সময়সীমা ও প্রকল্পের বিস্তারিত পরিকল্পনা সম্পর্কে আরও তথ্য সামনে আসা বাকি।
CM Rejinagar ৭০/৩০-এর রাজনীতি ছেড়ে ঐক্যের আহ্বান
রাজনৈতিক বিভাজন প্রসঙ্গে শুভেন্দু অধিকারী রেজিনগরের বাসিন্দাদের ধর্মীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে একজোট হওয়ার আহ্বান জানান। তাঁর বক্তব্যে ৭০/৩০-এর সমীকরণ ত্যাগ করে সমস্ত ‘রাষ্ট্রবাদী’ মানুষকে একসঙ্গে সরকারের পক্ষে থাকার বার্তা উঠে আসে। তিনি বলেন, “রেজিনগরে হিন্দু-মুসলিম ভেদাভেদ করবেন না। ৭০/৩০-এর গল্প শুনিয়ে বিভাজন তৈরি করার দিন শেষ। সমস্ত রাষ্ট্রবাদী মানুষ একজোট হয়ে সরকারের পক্ষে ভোট দিন।”
এ ছাড়াও অতীতে শক্তিপুরের রেলের মাঠে প্রচারের সময় বাধার মুখে পড়ার অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করেন তিনি। সেই ঘটনার উল্লেখ করে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের আচরণ নিয়ে কটাক্ষ করেন মুখ্যমন্ত্রী।
জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী শুভেন্দু
CM Rejinagar সভায় বক্তব্যের শেষে বিজেপি প্রার্থী শাখারভ সরকারের জয় নিয়ে আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, ভোটের ফল প্রকাশের দিন বিজয়ী প্রার্থীর শংসাপত্র কলকাতায় নিয়ে যাওয়ার জন্য তিনি নিজেই উপস্থিত থাকবেন। বলেন, আপনারা কেবল ভোট দিয়ে আমাদের ঋণে আবদ্ধ করুন। ভোটের ফল প্রকাশের দিন বিজয়ী প্রার্থীর সার্টিফিকেটটা আমি নিজেই কলকাতা নিয়ে যাব, তার জন্য হেলিকপ্টার প্রস্তুত রাখা থাকবে!”
রেজিনগরের শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান, পরিকাঠামো ও রাজনৈতিক ঐক্যকে সামনে রেখে উপনির্বাচনের প্রচারে একাধিক প্রতিশ্রুতি তুলে ধরলেন মুখ্যমন্ত্রী। এবার ভোটারদের রায়ে এই প্রতিশ্রুতিগুলির কতটা প্রভাব পড়ে, সেদিকেই নজর থাকবে রাজনৈতিক মহলের।












