এখন খবরমধ্যবঙ্গ নিউজপরিবেশবিনোদনহেলথ ওয়াচখেলাঘরে বাইরেলাইফস্টাইলঅন্যান্য

Morning School সকালে ক্লাস হওয়ায় স্কুলে বেড়েছে পড়ুয়া উপস্থিতি, খুশি শিক্ষকরাও

Published on: June 16, 2026
Morning School

Morning School বিদ্যুৎ মৈত্র, বহরমপুরঃ জৈষ্ঠের দাবদাহের হাত থেকে রেহাই মেলায় মুর্শিদাবাদের স্কুলগুলিতে বেড়েছে পড়ুয়া উপস্থিতির হার। সকাল সকাল বইখাতা হাতে হাসিমুখেই স্কুলে আসছে ছেলেমেয়েরা। রোদের দাপট শুরুর আগেই ঘরে ঢুকে পড়ায় মিলছে পর্যাপ্ত বিশ্রামও। স্বাভাবিকভাবেই বেড়েছে পড়াশোনার খিদেও। মুর্শিদাবাদের গ্রাম থেকে শহর সর্বত্র বদলে গিয়েছে স্কুলের চেনা ছবি। ফিরছে বিশ্বাসও।

Morning School পয়লা জুনেই স্কুল খোলার নির্দেশ দিয়েছিল রাজ্যের নতুন সরকার

স্কুলের ছুটির তালিকায় গ্রীষ্মবকাশ বরাদ্দ ছিল মাত্র সাতদিন। ১১ মে থেকে ১৬ মে পর্যন্ত গরমের ছুটি ছিল। সেই ছুটি আরও এক সপ্তাহ বাড়িয়ে পয়লা জুনেই স্কুল খোলার নির্দেশ দিয়েছিল রাজ্যের নতুন সরকার।। কিন্তু সেদিন অব্যহত ছিল রোদের দাপট। পড়ুয়াদের কথা চিন্তা করে রাজ্যের সমস্ত প্রাথমিক, উচ্চপ্রাথমিক, উচ্চ বিদ্যালয়ের পঠন পাঠন সকালে করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সেই মতো প্রথমে দু-সপ্তাহ পরে তা বাড়িয়ে চলতি মাসের ৩০ জুন অবধি সকালে ক্লাস করার সিদ্ধান্ত নেয় স্কুল শিক্ষা দফতর। সেই নির্দেশের ফল মিলেছে হাতে নাতে। খুশি শিক্ষক, অভিভাবকরাও।

Morning School রাজ্যের প্রাথমিক স্কুলগুলি, কোথাও উচ্চপ্রাথমিক স্কুলে সকালে ক্লাস হয়। কিন্তু উচ্চ বিদ্যালয়গুলিতে সকাল দশটা থেকে বিকেল চারটে পর্যন্ত ক্লাসেই অভ্যস্ত পড়ুয়ারা। সেই সময় পরিবর্তন করে সকালে স্কুলে যাওয়া অনেক শিক্ষকদের কাছেও প্রথম।
বহরমপুর জেএনএকাডেমির Berhampore J.N.Academy শিক্ষিকা অঞ্জনা ঘোষ প্রায় বিশ বছর স্কুলে শিক্ষকতা করছেন।এদিন সকালে স্কুল আসা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “ আমাদের ব্যক্তিগত রুটিনের একটু বদল তো হয়েইছে। কিন্তু সকালে স্কুল হওয়ায় ক্লাসে ক্লাসে ছাত্রের সংখ্যা বেড়েছে। এই স্কুল দিনের বেলায় হলে পড়ুয়ার সংখ্যা এর থেকে কম হতো।”

আরও পড়ুনঃ  জঙ্গিপুর কলেজের ৭৫ তম বর্ষ পূর্তিতে শোভাযাত্রা

 

Morning School  স্কুলে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত মিড-ডে মিল খাওয়ানোয় পড়ুয়ার সংখ্যা টিফিন পিরিয়ড পর্যন্ত অবশ্য বেশিই থাকে। কিন্তু নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত পড়ুয়াদের উপস্থিতি এমনিতেই কম হয়, গরমে তা তলানিতে ঠেকত আগের বছরগুলিতে। এদিন পরিসংখ্যান দিয়ে ওই শিক্ষিকা বলেন, “ আমাদের স্কুলে নবম শ্রেণির তিনটি বিভাগে দু’শো জনের মধ্যে এখন গড়ে দেড়শো ছাত্র দৈনিক ক্লাসে আসে। দিনের বেলা এই সংখ্যাটা কম হয়।” আবার বেলডাঙা ব্লকের মহিষমারা-ঘোড়ামারা স্কুলের ইংরেজির শিক্ষক কৌশিক ঘোষও বলেন, “ যাঁরা নিয়মিত স্কুলে আসে তারা আসছেই। ফলে আমাদের স্কুলে পড়ুয়ার অনুপস্থিতি বাড়েনি উল্টে বেড়েছে।”

 

Morning School নিখিল বঙ্গ সমিতির জেলা সভাপতি গৌতম বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “ছুটি না দিয়ে সকালে স্কুল হওয়ার দাবি আমরাই তুলে আসছিলাম গত কয়েকবছরে। কিন্তু পূর্বতন সরকার সে কথায় কান দেয়নি। উল্টে কথায় কথায় স্কুল ছুটি দিয়ে পড়াশোনার বারোটা বাজিয়েছিল। সিলেবাস শেষ হয়নি। পরীক্ষা হয়েছে, ফল বেড়িয়েছে পড়ুয়াদের মান বাড়েনি। এই সরকারের সিদ্ধান্ত ভালোই লেগেছে। ভবিষ্যৎ বলবে কোন পথে চলবে শিক্ষা সেদিকেই তাকিয়ে আছি।” ওই সংগঠনের সভাপতি জুলফিকার আলী বলেন, “ গত সরকারের আমলে স্কুলের নূন্যতম দুশো কুড়িটি কর্মদিবসের মধ্যে দেড়শো দিন স্কুল হয়েছে কি না সন্দেহ। সকালে স্কুল হওয়ায় অন্তত তিরিশটি কর্মদিবস বেড়ে গেল।”
বিজেপি’র শিক্ষক সংগঠনের জেলা আহ্বায়ক সুব্রত দাস বলেন, “ প্রত্যেক স্কুলে ছাত্র-ছাত্রীদের উপস্থিতির হার বেড়েছে। দেখবেন হারিয়ে যাওয়া শিক্ষা ফিরবে আমাদের ডবল ইঞ্জিন সরকারের আমলে।”

Morning School রুটিন বদলে বিপাকে  দূরের শিক্ষকরা

তবে রুটিন বদলে বিপাকে পড়েছেন দূরের শিক্ষকরা। সকাল সাড়ে ছ’টায় স্কুলে পৌঁছতে গিয়ে কাউকে রাত জেগে ট্রেন বা বাস ধরতে হচ্ছে। সেইমতো স্কুলে পৌঁছতে হছে ঠিকই তবে ক্লান্তি ঠেকানো যাচ্ছে না। স্বাভাবিকভাবেই আগামী পনের দিন তাঁদের কাছে কষ্টের বলছেন তাঁরা। চেনা রুটিন বদলে যাওয়ায় শরীরের ওপর চাপ বাড়ছে বলেও দাবি করেছেন শিক্ষকদের একাংশ।
তাঁদের কটাক্ষ করে বিজেপি শিক্ষা সেলের নেতা সুব্রত বলেন, “ সবই অভ্যাস। এর আগে বছরের পর বছর লম্বা ছুটি পেয়ে শিক্ষকদের অভ্যাস বদলে গিয়েছিল। গরম কাটাতে পাহাড়ে যেতে হত পয়সা খরচ করে। কেউ কেউ ভাতঘুমে দিন কাটাতেন। পড়ুয়াদের কথা ভাবতেন না। এবার দিন বদলের পালা।”

Join WhatsApp

Join Now

Join Telegram

Join Now