এখন খবরমধ্যবঙ্গ নিউজপরিবেশবিনোদনহেলথ ওয়াচখেলাঘরে বাইরেলাইফস্টাইলঅন্যান্য

WB Budget 2026 নয়া সরকারের বাজেটে কী পাচ্ছে মুর্শিদাবাদ ?

Published on: June 22, 2026
WB Budget 2026

WB Budget 2026  আজ পূর্ণাঙ্গ রাজ্য বাজেটের প্রস্তাব পেশ করবেন নতুন সরকারের অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত SWAPAN DASGUPTA । সেই বাজেটকে ঘিরে সাধারণ মানুষ থেকে চাকরিজীবি সকলেই আশায় বুক বাঁধছেন। স্বপ্ন দেখছেন মুর্শিদাবাদবাসীও। শিক্ষা থেকে স্বাস্থ্য, বাসস্থান থেকে শিল্পায়ন যেদিক থেকে বলা যাক সেদিকেই পিছিয়ে এই জেলা। সরকার আসে সরকার যায় কিন্তু পিছিয়ে পড়ার তকমা ঘোচে না মুর্শিদাবাদের।

WB Budget 2026  মৌসুমী বায়ু বিক্ষিপ্তভাবে প্রবেশ করেছে বঙ্গে। বর্ষার বেগ যদি বৃদ্ধি পায় জুলাইতে, তাহলে ফের নদী তীরবর্তী মানুষজনের কপালে চিন্তার ভাঁজ পরে। নদী ভাঙন এই মানুষগুলির জীবনসঙ্গী। সেই ভাঙনে গতবছর কত বাড়ি চলে গিয়েছে জলের তলায়। ভাঙনের কবলে পরে জেলার মানচিত্র থেকে গ্রামের পর গ্রাম মুছে গেছে। অথচ ভাঙন প্রতিরোধে ফি বছর গালভরা আশ্বাসের বেশি কিছুই মেলে নি। বিজেপি ভাঙন রোধে স্থায়ী সমাধানের প্রতিশ্রুতি দিয়ে নির্বাচনী যুদ্ধে নেমেছিল । আজ দুপুর বারোটায় শুরু হওয়া রাজ্য বাজেটে নতুন অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত কি সেই প্রতিশ্রুতি রাখবেন? আশায় সমসেরগঞ্জ, রঘুনাথগঞ্জ, ফরাক্কা, লালগোলাবাসী।

WB Budget 2026 বিশ্ববিদ্যালয়ে বরাদ্দের আশা?

WB Budget 2026  এই জেলার শিক্ষা মানচিত্রে যুক্ত হয়েছে মুর্শিদাবাদ মহারাজা কৃষ্ণনাথ বিশ্ববিদ্যালয়। তৃণমূল সরকারের আমলেই এই বিশ্ববিদ্যালয়ের পথচলা শুরু হয়েছে। কিন্তু মুর্শিদাবাদ বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তন নিয়ে যত না হইচই হয়েছে তার এক আনাও হয়নি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকাঠামো নিয়ে। কৃষ্ণনাথ কলেজের সম্পত্তিতেই বিশ্ববিদ্যালয়ের পঠন পাঠন। বিজ্ঞান বিভাগে এখনও নেই উন্নত পরিকাঠামো। নতুন সরকারের আমলে কি তার পরিবর্তন হবে? বাজেটে পৃথক অর্থ বরাদ্দ হবে কি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকাঠামো বদলাতে ? নিজেদের ডিএ-র দাবির পাশাপাশি এই বিষয়টি নিয়েও আশাবাদী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের একাংশ।

WB Budget 2026  শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাতেই নয়, পরিকাঠামোর অভাব রয়েছে প্রাথমিক থেকে উচ্চমাধ্যমিক স্কুলেও। সেখানে কোথাও প্রয়োজনের তুলনায় ঘর বেশি, কোথাও ঘর কম। কোথাও ছাদ দিয়ে জল পরে। কোথাও মিড ডে মিল খাওয়ার উপযুক্ত পরিবেশ নেই। সরকার যদি রাজ্য বাজেটে শিক্ষাখাতে অর্থ বরাদ্দ করে তাহলে জেলার শিক্ষাতেও পরিবর্তন আসবে বলে মনে করেন শিক্ষকরা। ভগবানগোলায় আজ পর্যন্ত কলেজ তৈরি হয়নি। অথচ নির্বাচন এলে কলেজের প্রতিশ্রুতি মেলে। ওই বিধানসভার বিধায়ক রিয়াদ হোসেন সেই কলেজের দাবি নিয়ে একদিনও অধিবেশনে তাঁর বক্তব্য তুলে ধরেননি বলে আরটিআই করে জানতে পেরেছেন বলে দাবি আইনজীবি কিরণের। রিয়াদ এখন তৃণমূল ছেড়ে বিদ্রোহী শিবিরে নাম লিখিয়েছেন। ফের তিনি ভগবানগোলার কলেজ নিয়ে সওয়াল করেন কি না তার দিকেই তাকিয়ে ভগবানগোলার বাসিন্দারা। একইভাবে ভাবতা মহিলা কলেজও চালু হয়নি ভিত্তি প্রস্তর স্থাপনের পর।

আরও পড়ুনঃ Murshidabad Institute of Technology​ এমআইটি কলেজঃ সাহেবদের জমিতে স্বপ্ন বুনেছিলেন বিধানচন্দ্র

স্বাস্থ্য ক্ষেত্রের অবস্থাও তথৈবচ এই জেলায়। পাঁচ হাজার বর্গ কিলোমিটারের একটি জেলায় পাঁচটি মহকুমা। অথচ সেখানে একটি মাত্র মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল। জেলায় প্রয়োজন আরও একটি হাসপাতালের। বাজেটে কি সেই আশ্বাস মিলবে ? যদি না মেলে ? জেলার স্বাস্থ্যকর্মী থেকে চিকিৎসকদের একটা অংশের দাবি, “তাহলে এই হাসপাতালের পরিকাঠামো উন্নত করতে হবে।” তাঁদের দাবি, অন্তত হাসপাতালের চিকিৎসার জন্য আসা রোগীদের জন্য আলাদা আরও একটি ভবনের প্রয়োজন, প্রয়োজন রয়েছে আধুনিক যন্ত্রপাতিরও। চিকিৎসক, নার্স থেকে সাধারণ কর্মীরও প্রয়োজন হাসপাতালের দৈনন্দিন পরিষেবা চালাতে।

WB Budget 2026  জনাদেশে পরাজিত হয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু তাঁর সরকার জেলায় যে রাস্তা নির্মাণ করেছিলেন তা জেলার গতিকে বাড়িয়েছিল, তা নিয়ে সন্দেহ নেই কারও। কিন্তু সর্বত্র সেই কাজ সফল হয়নি। অধরা সেই কাজ শেষ করার দায়িত্ব নতুন সরকারের। ভাল রাস্তা হলে জেলার একপ্রান্ত থেকে আর একপ্রান্তে যাতায়াতে সময় কম লাগে, ফলে ব্যবসার ব্যয় কমে। পাশাপাশি সরকার জমির দামে ভর্তুকী দিলে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী হন শিল্পপতিরা। জেলায় শিল্পের প্রয়োজন। শিল্প হলে কর্মসংস্থান হবে। তাহলে ভিন রাজ্যে পড়ে থাকতে হবে না জেলার ছেলেমেয়েদের। নিজের জেলাতেই কাজ পাবেন তাঁরা। বিজেপি সরকারের কাছে সেই প্রত্যাশা আশা করছেন পরিযায়ীরাও।

WB Budget 2026  কর্ণাটকে প্রায় বিশ বছর কর্মরত শ্রমিক আবদুর জাব্বার বলছেন, “ সরকারের উচিত রাজ্যে বড় বড় না হোক ছোট ছোট কারখানাও তৈরি করা। আমাদের জেলায় দক্ষতার অভাব নেই। কিন্তু সেই দক্ষতাকে কাজে লাগানোর মতো কোনও জায়গা জেলা তো ছাড় রাজ্যেই নেই। তাই এত বেকার ছেলেমেয়েরা ভিন রাজ্যে পরে থাকেন নিজেদের দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে দু-পয়সা রোজগারের আশায়।”
এসবের পাশাপাশি নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের দামও বেড়েছে। সেই দামের অনুপাতে মানুষের আয় বাড়েনি। নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্র্যের দাম কমিয়ে, মানুষকে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে সাহায্য করবে কি রাজ্যের বিজেপি সরকার। জানা যাবে আর কয়েকঘন্টা পরেই।

Join WhatsApp

Join Now

Join Telegram

Join Now