Jenana Sangbad মুসলমান বাঙালি নারীদের লেখাপত্রের জগত এখনও চর্চার বাইরে। বাঙলার সংস্কৃতি চর্চার এই গুরুত্বপূর্ণ দিক দুই মলাটের মধ্যে তুলে ধরলেন তরুণ গবেষক ড. গীতশ্রী সরকার। মঙ্গলবার নেতাজি সুভাষ মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তর্গত “সেন্টার ফর ল্যাঙ্গুয়েজ, ট্রান্সলেশন এন্ড কালচার স্টাডিজ“- এর দশম ববর্ষপূর্তি উপলক্ষ্যে প্রকাশিত হলো সেন্টারের নতুন বই ‘জেনানা সংবাদ: সওগাত-ধূমকেতু-শিখা পত্রিকার নারীজগৎ’। তরুণ গবেষক ড গীতশ্রী সরকার, তাঁর বইটিতে বিশ শতকের নির্বাচিত পত্র-পত্রিকায় মুসলমান বাঙালি মেয়েদের লেখাপত্র চর্চার ধারায় সেসময়ের মুসলমান বাঙালি সমাজে মেয়েদের অবস্থান, নারীর ক্ষমতায়ন, শিক্ষাচর্চার প্রসঙ্গগুলি অনুসন্ধানের চেষ্টা করেছেন।

Jenana Sangbad ২৫ অগাস্ট ২০২৬, দে’জ পাবলিশিংয়ের বই বিপণন কেন্দ্রে বইটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেন বর্ষীয়ান অধ্যাপক গোপা দত্ত ভৌমিক। বইটি সম্বন্ধে তথ্যসমৃদ্ধ আলোচনা করেন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় বাংলা বিভাগের অধ্যাপক বরেন্দু মন্ডল, আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক মীর রেজাউল করিম, এবং অধ্যাপক গোপা দত্তভৌমিক।

Jenana Sangbad কী নিয়ে জেনানা সংবাদ ?
বইটির ব্লার্বে জানানো হয়েছে, ” আবহমানকালীন বাঙালির কৃষ্টি, সংস্কৃতি বোধের ধারায় পুষ্ট হয়ে বাঙালি জনজাতি। বিগত দুটি শতকে বাঙালি সমাজ-সংস্কৃতি ও জাতীয়তার গঠন-অনুসন্ধানে একটি বিশেষ নিরন্তর ধারার অবলম্বন আছে। বিশ-শতকের শুরুতে মুসলমান-বাঙালি সমাজের নানা সামাজিক-সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের নারীদের সামাজিক অবস্থান, নারীর মূল্যায়ন ও বাঞ্ছিতাচার চর্চার বিভিন্ন প্রচেষ্টার প্রতি লক্ষ্য করা যায়। বিগত-শতকের বিভিন্ন পত্রিকায় নারীদের একাধিক নয়া এই দুই শতাব্দীর অভিজ্ঞতায় চিত্রায়িত, বর্ণের বহুবিধ বই প্রকাশ পেয়েছে। সমকালীন পত্র-পত্রিকায় নারী-সমাজের সম্পর্কের বিভিন্ন প্রতিবেদন নিরিখিত হলেও উল্লিখিত বর্ণিত পত্রিকাগুলির নারীর স্বর অনুসন্ধান করার চেষ্টা এখানে নেওয়া হয়েছে। মুসলমান বাঙালি সমাজের নারীদের মধ্যে কতটা আঙ্গিকটি ছিল কেবল সমকালীন বাঙালি-সংস্কৃতির চর্চা, ব্যবহারে বেড়ে ওঠা বেরিয়ে আসা মুসলমান নারীর সাক্ষী পদক্ষেপগুলোর কতটা ছিল এবং কতটা অভিজাতদের খাঁটি নারীর সত্যতা—এই অনুসন্ধানের ভিতর থেকে নারীকে কতটা চাওয়ার লক্ষ্যে এই প্রচেষ্টা” ।

Jenana Sangbad অনুষ্ঠানের সূচনা করেন নেতাজি সুভাষ মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় বাংলা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান, সেন্টার ফর ল্যাঙ্গুয়েজ ট্রান্সলেশন এন্ড কালচার স্টাডিজের কোঅর্ডিনেটর অধ্যাপক মননকুমার মণ্ডল। উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য অধ্যাপকরা।

গীতশ্রী সরকার বর্তমানে নেতাজি সুভাষ মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত। তিনি যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর স্তরে প্রথম শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হন। পরে এমফিল ডিগ্রী লাভ করেন। আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তাঁর গবেষণার কাজ সম্পন্ন করে পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন। বইটি পাওয়া যাবে দে’জ পাবলিশিং এর বই বিপণন কেন্দ্রে এবং নেতাজি সুভাষ মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল প্রশাসনিক ভবনে।
আরও পড়ুনঃ মুর্শিদাবাদ জেলা পরিষদের টাকা খরচ কীভাবে ? বৈঠকে MLAরাও














