Satui School চৌরীগাছা রেল স্টেশনের গায়ে লাগা সাটুই রাজেন্দ্র নারায়ণ হাইস্কুল। ১৯৫৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় এই স্কুল। প্রতিষ্ঠা লগ্নে এখানে অর্গানাইজড টিচার হিসেবে আসেন অতীন বন্দ্যোপাধ্যায়। তখন স্কুলের নাম ছিল সাটুই সিনিয়র বেসিক স্কুল। পরে ১৯৫৮ থেকে ১৯৬৮ সাল পর্যন্ত দশ বছর তিনি এই স্কুলেই ভারপ্রাপ্ত শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করেন। বানজেটিয়ায় বাড়ি হলেও এই স্কুলের স্টাফ কোয়ার্টারে বসেই তিনি লিখেছিলেন তাঁর বিখ্যাত উপন্যাস ‘নীলকন্ঠ পাখির খোঁজে’। প্রধান শিক্ষক হিসেবে এলাকাতে অল্পদিনেই যথেষ্ট সুনাম কুড়িয়েছিলেন অতীন। স্কুলের গুরুত্ব বুঝিয়েছিলেন গ্রামবাসীকে।
Satui School কেউ হন্যে হয়ে খুঁজছেন রসায়নের শিক্ষক, কেউ খুঁজছেন রাষ্ট্র বিজ্ঞানের শিক্ষক
Satui School আজ তাঁর সেই স্কুলের উচ্চমাধ্যমিকের পড়ুয়াদের কেউ হন্যে হয়ে খুঁজছেন রসায়নের শিক্ষক, কেউ খুঁজছেন রাষ্ট্র বিজ্ঞানের শিক্ষক। না, স্কুলে ওই দুটি বিষয়ের কোনও শিক্ষক নেই। চলতি মাসের ২১ তারিখ থেকে তৃতীয় সিমেস্টারের পরীক্ষা শুরু। সেই পরীক্ষার প্রস্তুতি তাঁরা নিলেন নিজেরাই। ভুল শুধরানোর জন্যও কাউকে তাঁদের সামনে হাজির করাতে পারেননি প্রধান শিক্ষকও। খোঁজ নিয়ে জানা গেল, শুধু ওই দুটি বিষয়ই নয়। স্কুলের উচ্চমাধ্যমিকের বিজ্ঞান বিভাগে নেই এসএসসি( স্কুল সার্ভিস কমিশন)’র যোগ্যতামানের কোনও বায়োলজি ও ফিজিক্সের শিক্ষক। ওই বিষয়গুলি যাঁরা পড়ান স্কুলে তাঁদের সকলের যোগ্যতা এসএসসি(স্কুল সার্ভিস কমিশন)’র মানদন্ডে মাধ্যমিক পাঠক্রম পর্যন্ত।
Satui School সাটুই, চৌরীগাছা, বাসাবাড়ি, হালসানাপাড়া, কাঁঠালিয়ার একাংশ,ভগবানবাটী এলাকা, দোয়ারিপাড়া, পোড়াডাঙার প্রায় আড়াই হাজার ছাত্রছাত্রী বহরমপুর ব্লকের অন্তর্গত এই স্কুলে পঞ্চম থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করে। তাঁদের পড়ানোর জন্য শিক্ষক আছেন মাত্র তিরিশ জন। আর পার্শ্ব শিক্ষক আছেন পাঁচ জন। তিরিশ জনের মধ্যে পাঁচজন শিক্ষক আছেন যাঁরা ২০১৬ সালে নিয়োগ হয়েছিলেন। সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্টের রায়ে যাঁদের চাকরিই আছে ২০২৭ সালের মে মাস পর্যন্ত। সরকারি নিয়েমে প্রতি ৪০ জন পড়ুয়া পিছু একজন শিক্ষক থাকার কথা। সেখানে এই স্কুলে প্রতি ৮০ জন পড়ুয়া পিছু একজন শিক্ষক। বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, স্কুলে এখনও ১২ জন শিক্ষকের প্রয়োজন। এই ঘাটতি পূরণের জন্য অস্থায়ীভাবে শিক্ষক নিয়োগ হলেও এবছর প্রশাসনিক জটিলতার কারণে তাও বাতিল হওয়ায় পড়াশোনা চালাতে গিয়ে কার্যত হিমসিম অবস্থা শিক্ষকদের। আগামী বছর এই স্কুল থেকে মাধ্যমিক পরীক্ষা দেবেন ২৫০ জন। আর উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা দেবেন ১৪০ জন।
আরও পড়ুনঃ দুই মলাটে মুসলমান বাঙালি নারীর লেখাপত্রের অজানা জগৎ
Satui School নীলকন্ঠ পাখির কি শেষপর্যন্ত কেউ খোঁজ পেয়েছিল? না পায়নি। সেই পাখি ছিল মূলত সুখ, শান্তি আর অখণ্ড বাংলা এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক পরম রূপক ও তার প্রতীক। সেই পাখি খুঁজে পাওয়া অসম্ভব ছিল কিন্তু সরকারি স্কুলে শিক্ষক খুঁজে পাওয়া কি ততটাই অসম্ভব, প্রশ্ন স্কুলেরই এক সহশিক্ষকের। উত্তরও দিলেন নিজেই। বললেন, “ পড়ুয়া আছে কিন্তু পড়ানোর জন্য শিক্ষক নেই। এটা আজ বাংলার দূরারোগ্য ব্যধি হয়ে দাঁড়িয়েছে।”













