Bank Strike ব্যাঙ্কে যাওয়ার পরিকল্পনা থাকলে একেবারে সোমবার ভরসা । শুক্রবার ব্যাঙ্ক ধর্মঘট-এর ডাক দিয়েছে ব্যাঙ্ক কর্মী ও অফিসারদের সাতটি ইউনিয়নের যৌথ মঞ্চ ইউনাইটেড ফোরাম অব ব্যাঙ্ক ইউনিয়নস (UFBU)। ফলে মাসের দ্বিতীয় শনিবার এবং রবিবারের সাপ্তাহিক ছুটি মিলিয়ে টানা তিন দিন ব্যাঙ্কের স্বাভাবিক পরিষেবা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ধর্মঘটী সংগঠনগুলির দাবি, রাষ্ট্রায়ত্ত থেকে বেসরকারি—দেশের বিভিন্ন ব্যাঙ্কের কর্মী-অফিসাররা এই কর্মসূচিতে অংশ নেবেন। ফলে শাখায় গিয়ে ব্যাঙ্কিং পরিষেবা নেওয়া কঠিন হতে পারে।
Bank Strike এটিএম পরিষেবাতেও কি প্রভাব পড়বে?
ধর্মঘটের কারণে এটিএম পরিষেবাতেও প্রভাব পড়তে পারে বলে জানিয়েছে সংগঠনগুলি। তাদের বক্তব্য, বহু এটিএমের সংশ্লিষ্ট পরিষেবা স্বাভাবিক নাও থাকতে পারে। এটিএমে নগদ টাকা ভরা, রক্ষণাবেক্ষণ এবং সংশ্লিষ্ট পরিষেবার উপর ধর্মঘটের প্রভাব কতটা পড়বে, তার উপর পরিস্থিতি নির্ভর করবে। ডিজিটাল পেমেন্ট, UPI বা অনলাইন ব্যাঙ্কিংয়ের ক্ষেত্রে পরিষেবা সচল থাকার সম্ভাবনা থাকলেও, নির্দিষ্ট ব্যাঙ্কের প্রযুক্তিগত পরিষেবা বা লেনদেন ব্যবস্থার উপর নির্ভর করে সমস্যা হতে পারে।
Bank Strike কেন ধর্মঘট?
ইউএফবিইউ জানিয়েছে, কর্মীদের একাধিক দাবিকে সামনে রেখেই এই ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হয়েছে। তার মধ্যে অন্যতম হল প্রতি সপ্তাহে ব্যাঙ্কে দু’দিন ছুটি চালু করা। এ ছাড়াও কাজের ভিত্তিতে আর্থিক উৎসাহ দেওয়ার প্রকল্প বা PLI-তে বৈষম্যমূলক নীতি পরিবর্তনের দাবি রয়েছে। ইউনিয়নগুলির অভিযোগ, কর্মী ও অফিসারদের মধ্যে সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে যে পার্থক্য তৈরি হয়েছে, তা দূর করতে হবে। ইউনিয়ন নেতাদের দাবি, ২০২০ সালে চুক্তির মাধ্যমে ব্যাঙ্কে PLI ব্যবস্থা চালু হয়েছিল। সেই সময়ে কর্মী ও অফিসাররা একই নিয়মে সুবিধা পেতেন বলে তাঁদের বক্তব্য।অভিযোগ, ২০২৪ সালে কেন্দ্রীয় স্তরে নিয়ম বদলের পর সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে কর্মী ও অফিসারদের মধ্যে বৈষম্য তৈরি হয়েছে। পুরনো নিয়ম ফিরিয়ে আনা অথবা ইউনিয়নগুলির সঙ্গে আলোচনা করে নতুন গ্রহণযোগ্য ব্যবস্থা চালুর দাবি তুলেছে সংগঠনগুলি।
Bank Strike আলোচনাতেও মেলেনি সমাধান
ধর্মঘট প্রত্যাহারের জন্য গত দু’দিন ধরে কেন্দ্রীয় শ্রম কমিশনারের মধ্যস্থতায় ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ এবং ইউএফবিইউর মধ্যে বৈঠক হয়েছে বলে জানিয়েছেন ইউনিয়ন নেতারা। বৈঠকে কেন্দ্রীয় আর্থিক বিষয়ক বিভাগের প্রতিনিধিও ছিলেন।কিন্তু সেই আলোচনায় কোনও সমাধান সূত্র মেলেনি বলে দাবি করেছে ইউনিয়নগুলি। সংগঠনের নেতাদের বক্তব্য, ধর্মঘট প্রত্যাহারের জন্য সরকারের তরফে অনুরোধ করা হলেও দাবিগুলি ঠিক কবে পূরণ হবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট নিশ্চয়তা পাওয়া যায়নি।
Bank Strike ফের ৩ দিনের ধর্মঘটের হুঁশিয়ারি
ইউএফবিইউ জানিয়েছে, বর্তমান দাবিগুলি পূরণ না হলে চলতি মাসের ২৮ থেকে ৩০ তারিখ ফের তিন দিনের ধর্মঘট হতে পারে। সেই কর্মসূচির সঙ্গে সাপ্তাহিক ছুটি যুক্ত হলে ব্যাঙ্কের স্বাভাবিক কাজকর্ম টানা পাঁচ দিন ব্যাহত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে।এতেই শেষ নয়। দাবি পূরণ না হলে আগামী ২৬ অক্টোবর থেকে লাগাতার ব্যাঙ্ক ধর্মঘটের পথে যাওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছে ইউনিয়নগুলি।
Bank Strike Frequently Asked Questions
১. আগামীকাল কি দেশজুড়ে ব্যাঙ্ক ধর্মঘট?
ইউএফবিইউর ডাকে আগামীকাল দেশজুড়ে ব্যাঙ্ক ধর্মঘটের কর্মসূচি রয়েছে বলে সংগঠনগুলি জানিয়েছে।
২. কত দিন ব্যাঙ্ক বন্ধ থাকবে?
ধর্মঘটের দিন এবং তার পরের শনিবার-রবিবারের ছুটি মিলিয়ে টানা তিন দিন ব্যাঙ্কের স্বাভাবিক পরিষেবা ব্যাহত হতে পারে।
৩. ব্যাঙ্ক কর্মীদের প্রধান দাবি কী?
প্রতি সপ্তাহে দু’দিন ছুটি এবং PLI-তে কর্মী-অফিসারদের মধ্যে বৈষম্য দূর করা-সহ একাধিক দাবি জানিয়েছে ইউনিয়নগুলি।
৫. পরে কি আরও ধর্মঘট হতে পারে?
হ্যাঁ। ইউএফবিইউ জানিয়েছে, দাবি পূরণ না হলে ২৮ থেকে ৩০ তারিখ ফের তিন দিনের ধর্মঘট এবং প্রয়োজন হলে ২৬ অক্টোবর থেকে লাগাতার ধর্মঘটের কর্মসূচি নেওয়া হতে পারে।











