Mamata Banerjee উত্তেজনাপূর্ণ পরিবেশের মধ্যে ভবানীপুর কেন্দ্রে ভোট দিয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ তুললেন মুখ্যমন্ত্রী, ভবানীপুর কেন্দ্রের তৃণমুল কংগ্রেস প্রার্থী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় Mamata Banerjee। বুধবার বিকেলে ভোটকেন্দ্রে পৌঁছে তিনি দাবি করেন, রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে ভোটের নামে দিনভর অত্যাচার ও অনিয়ম চলেছে, যা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার জন্য উদ্বেগজনক।
ভোট দিয়ে বেরিয়ে মুখ্যমন্ত্রী সরাসরি নির্বাচন ব্যবস্থার নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তাঁর বক্তব্য, “এটা কি সত্যিই ফ্রি অ্যান্ড ফেয়ার নির্বাচন?” এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। তবে তিনি বলেন, ‘‘জীবনে এমন দেখিনি। তা সত্ত্বেও বলছি তৃণমূলই জিতবে। দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে জিতব।’’ আরও বলেন, ৮৪ সাল থেকে ভোট দেখছি। এরকম ভোট দেখিনি। মিডিয়ার মাধ্যমে বোঝানোর চেষ্টা চলছে, ওরা জিতছে। আসলে তা নয়। আমরাই জিতছি। দুই তৃতীয়াংশ মেজরিটি নিয়ে ফের ক্ষমতায় আসব
Mamata Banerjee কী অভিযোগ মুখ্যমন্ত্রীর ?
Mamata Banerjee অভিযোগ করেন, বিভিন্ন জেলায় তৃণমূল কংগ্রেসের এজেন্টদের বুথ থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে। শুধু তাই নয়, মহিলা ও শিশুদের উপরও হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে তিনি দাবি করেন। তাঁর মতে, ভোটারদের মধ্যে ভয় তৈরি করার জন্য পরিকল্পিতভাবে এই ধরনের ঘটনা ঘটানো হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, নদিয়া, হুগলি, আরামবাগ, খানাকুল, গোঘাট এবং ক্যানিংয়ের মতো এলাকায় মঙ্গলবার রাত থেকেই অশান্তি শুরু হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, রাতভর দলীয় কর্মীদের উপর হামলা হয়েছে এবং অনেককে গ্রেফতার করা হয়েছে। এই পরিস্থিতিকে তিনি ‘অভূতপূর্ব’ বলে উল্লেখ করেন।মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, ‘‘নদিয়ার বিভিন্ন এলাকা, হুগলির আরামবাগ, খানাকুল, গোঘাট, পুরো ক্যানিংয়ে অত্যাচার চালানো হয়েছে। কাল (মঙ্গলবার) রাত থেকে অত্যাচার চলছে।’’
নিজের বুথের পরিস্থিতি নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেন Mamata Banerjee। তিনি বলেন, সেখানে শুধুমাত্র কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন রয়েছে এবং রাজ্য পুলিশের উপস্থিতি প্রায় নেই। তাঁর দাবি, এই পরিস্থিতি ভোটারদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে এবং স্বাভাবিক ভোট প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়েছে। তিনি বলেন, ‘‘দেখুন এখানে শুধু কেন্দ্রীয় বাহিনী। কোথাও রাজ্য পুলিশ নেই। বাহিনী দখল করে রেখেছে। ওদের উচিত সীমান্তে সুরক্ষা দেওয়া। দুঃখিত, আমি জীবনে এমন ভোট দেখিনি। আমার পাড়ায় ঢুকে মেয়েদের মেরেছে। অনেক জায়গায় এজেন্ট, প্রার্থীদের বার করে দেওয়া হচ্ছে।’’
কেন্দ্রীয় বাহিনীর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, বাহিনীর কাজ সীমান্ত রক্ষা করা হলেও তারা ভোট প্রক্রিয়ায় এমনভাবে জড়িয়ে পড়েছে যা গ্রহণযোগ্য নয়। তবে এত অভিযোগের মধ্যেও নিজের জয়ের বিষয়ে যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসী Mamata Banerjee। ভোটকেন্দ্রে প্রবেশের সময় ‘ভিক্টরি’ চিহ্ন দেখিয়ে তিনি জানান, তৃণমূল কংগ্রেসই দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে জয়লাভ করবে।
ভোটের দিন সকাল থেকেই সক্রিয় ছিলেন তিনি। কালীঘাটের বাসভবন থেকে বেরিয়ে প্রথমে চেতলায় যান এবং সেখানে দলের নেতা ফিরহাদ হাকিমের সঙ্গে কথা বলেন। এরপর তিনি চক্রবেড়িয়ায় গিয়ে স্থানীয় কাউন্সিলরের সঙ্গে দেখা করেন এবং বিভিন্ন বুথ পরিদর্শন করেন। একাধিক জায়গায় তিনি কিছুক্ষণ বসে দলীয় কর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং পরিস্থিতির খোঁজ নেন।
Mamata Banerjee আরও পড়ুনঃ West Bengal Voting 2026: দ্বিতীয় দফায় ৭৯% ভোট, একাধিক কেন্দ্রে অশান্তি
এই ধরনের সক্রিয় উপস্থিতি ভোটের দিনে খুব একটা দেখা যায় না, ফলে তাঁর এই পদক্ষেপ রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা। ভবানীপুর কেন্দ্রে Mamata Banerjee-র বিরুদ্ধে লড়াই করছেন শুভেন্দু অধিকারী, ফলে এই কেন্দ্রটি ঘিরে গোটা রাজ্যের নজর ছিল। সকালেই মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন, ” আমি আজ (বুধবার) সারা দিন রাস্তায় থাকব। তবে মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে নয়, তৃণমূল প্রার্থী হিসাবে।’’








