Berhampore Land কোথাও সরকারি জমি দখল করে পার্টি অফিস, কোথাও আবার সরকারি জমি দখল করে চলছে গাড়ি কেনা বেচার ব্যবসা । সব চলেছে সবার চোখের সামনে। এবার জমি দুর্নীতির একের পর এক ইস্যু নিয়ে ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তরের দারস্থ বহরমপুরের বিজেপি বিধায়ক সুব্রত মৈত্র SUBRATA MAITRA (KANCHAN) ওরফে কাঞ্চন। সোমবার সপ্তাহের প্রথম কাজের দিনেই হাজির হলেন জেলা ভূমি ও ভূমি সংস্কার আধিকারিকের দপ্তরে। সেখানে সোজা চলে যান বিএল অ্যান্ড এলআরও সদর জয়ন্ত দাসের চেম্বারে।
Berhampore Land সরকারি জমিতে গাড়ির কারবার ! বেসরকারি হোর্ডিং !
প্রশ্ন তোলেন, জেলাশাসক দপ্তরের সামনে কেন সরকারি জমি দখল করে গাড়ি কেনাবেচা চলছে? । বিএল অ্যান্ড এলআরও সদর জয়ন্ত দাস অবশ্য এই অভিযোগ সম্পর্কে খোঁজ নিয়ে দেখার আশ্বাস দেন। এদিন বিধায়ক এক এক করে তুলে ধরেছেন বহরমপুর জুড়ে বেআইনি জমি দখলের কারবারের কথা। বলেছেন, “জেলা কংগ্রেস অফিসের পিছনে এক ফালি খাস জায়গা পড়ে রয়েছে। কে বা কারা বাঁশের বেড়া দিয়ে ঘিরে রেখেছেন। এই জায়গা উদ্ধার করলে সেচ দপ্তরের উত্তর প্রান্ত দিয়ে যে ছোট্ট রাস্তা বেরিয়ে গেছে সেই রাস্তাটা বড় করা যাবে। তাতে গোড়াবাজারের মানুষের যানজটের হাত থেকে বাঁচানো যাবে”।
Berhampore Land বহরমপুরের বিধায়ক সুব্রত মৈত্র বলেন, “ সরকারি জমিতে রমরমিয়ে বেসরকারি সংস্থার হোর্ডিং বসিয়ে শহরের একদিকে যানজট তৈরি করা হচ্ছে। অন্যদিকে সৌন্দর্যয়ান ব্যঘাত ঘটছে। যেগুলো সরকারি জমি, সেই সরকারি জমির উপরে কারা হোর্ডিং লাগাচ্ছে ? তার রাজস্ব কোন দিকে যাচ্ছে ? সেই সরকারি অফিসরা কি তার রাজস্ব পাচ্ছে ? এটা খতিয়ে দেখার জন্য আমি বললাম”। তাঁর স্পষ্ট অভিযোগ, বানজেটিয়া এলাকায় একটি সংবাদপত্রের অফিসের পিছনে ইংলিশ মডেল মাদ্রাসার পাশে প্রচুর সরকারি জমি দখল হয়ে গিয়েছে। অবিলম্বে এই সরকারি জমি উদ্ধার করে সরকারের নিয়ন্ত্রণে আনার দাবিও করেছেন বিধায়ক ।
কাঞ্চন ঢিল মেরেছেন জমি লিজের মৌচাকেও। তিনি বলেছেন, “ বিগত চল্লিশ বছর ধরে বহরমপুর শহর ও শহরতলিতে বিভিন্ন সংস্থাকে সরকারি জমি স্বল্পমেয়াদী ও দীর্ঘমেয়াদী লিজ দেওয়া হয়েছিল। বিভিন্ন ক্লাব , সাংস্কৃতিক সংগঠন, অফিস কর্মচারী সংগঠন বা নাট্য সংস্থা এদেরকে সরকারি জমি দেওয়া হয়েছিল খুব অল্প মূল্যে। কোথাও দু টাকা, কোথাও এক টাকা, কোথাও তিন টাকা। তো ঘটনা হচ্ছে যে, রাজনৈতিক সংগঠন বহরমপুরের তৃণমূল শিক্ষক সংগঠন তৃণমূল জেলা কার্যালয়কে কেন্দ্র করে বিশাল জায়গা দখল করা হয়েছে। দুদিকে গেট লাগিয়ে স্বেচ্ছাসেবী স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন অফিস চলছে ধোপঘাটিতে” ।
Berhampore Land ঘোপঘাটিতে বেআইনি নির্মাণ কাদের মদতে ?
Berhampore Land বহরমপুরের ধোপঘাটিতে একাধিক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা কীভাবে সরকারি জমিতে অবৈধ নির্মাণ করেছে তাও নাম করে করে উল্লেখ করেন সুব্রত মৈত্র। দাবি জানিয়েছেন, “ওয়াইএমএ মাঠের উত্তর দিক থেকে ধোপঘাটির শেষ পর্যন্ত যে সরকারি জমিতে অবৈধ নির্মাণ রয়েছে তা চিহ্নিত করে ভেঙে ফেলতে হবে ও শাস্তিমূলক আর্থিক জরিমানা করতে হবে” । প্রশ্ন তুলেছেন কোন শর্তে বেসরকারি চোখের হাসপাতালকে দু ‘টাকায় দুই বিঘা সরকারি জমি লিজে দেওয়া হয়েছিল ? । বিধায়ক দাবি জানিয়েছেন, বহরমপুর শহর ও শহরতলির সরকারি জমি লিজে দেয়া হয়েছিল। তার বর্তমান স্ট্যাটাস আগামী পনেরো দিনের মধ্যে তৈরি করতে হবে।
Berhampore Land বহরমপুরে পুকুর চুরি নিয়েও বড় অভিযোগ সামনে এনেছেন সুব্রত মৈত্র। দাবি জানিয়েছেন, বিগত দশ বছরে বহরমপুর শহর ও শহরতলিতে যেসব পুকুর বোঝানো হয়েছে। তার তদন্ত করতে হবে। পুকুরের তালিকাও ভূমি ও ভূমি রাজস্ব দপ্তরের আধিকারিককে দেন বিধায়ক। তাঁর দাবি, “ লুকিয়ে লুকিয়ে কোন জায়গায় ছোট ছোট ডোবা বা পুকুর বুজিয়ে দেওয়া হয়েছে” । ভূমি দপ্তরের ঘুঘুর বাসা ভাঙা নিয়ে সরব হয়েছেন বহরমপুরের দুবারের বিধায়ক। তিনি বলেন, “ মুর্শিদাবাদ জেলার মানুষ দীর্ঘ পনেরোটা বছর ধরে জ্বালা যন্ত্রণা নিয়ে এই অফিসে এসে ভুগছে এবং দালাল চক্রের হাতে পরে সর্বস্বান্ত হচ্ছে । বহরমপুর শহর জেলার বিভিন্ন প্রান্তে বিএলআরও দপ্তরে মিউটেশন রেকর্ড করতে গিয়ে সাধারণ মানুষ হয়রান হচ্ছেন। অসাধু দালাল চক্রের হাতে পদে পদে প্রতারিত হচ্ছেন। অবিলম্বে এই দালাল চক্রকে নির্মূল করার জন্য কঠোর প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে” ।
আরও পড়ুনঃ Murshidabad Medical ব্লাড ব্যাঙ্ক থেকে OPD- মুর্শিদাবাদের মেডিক্যালে দালালরাজ বন্ধে হুঁশিয়ারি MLAর
Berhampore Land দাবি জানিয়েছেন, জমি মিউটেশন করার জন্য হয়রানি করা যাবে না। বর্ষার আগে বহরমপুরের নিকাশি নিয়েও উদ্বেগ উঠে এসেছে আলোচনায়। বহরমপুরে জল যাতে শহরের পাঁচটি নিকাশি নালা দিয়ে বের হয় সেই ব্যবস্থা করার দাবীও তুলেছেন বিধায়ক। দাবি জানিয়েছেন চাঁদের বিল, ভান্ডারদহ বিল এবং চালতিয়া বিলকে দখল মুক্ত করতে হবে। দরকারে মৎস দপ্তরের আধিকারিকদের সঙ্গে নিয়ে যৌথভাবে এলাকা পরিক্রম করে চিহ্নিত করতে হবে । অবৈধভাবে দখল উচ্ছেদ করতে হবে। বহরমপুর জুড়ে জমি নিয়ে দুর্নীতির তদন্তে ১৫ দিনের সময়সীমাও বেঁধে দিয়েছেন বিধায়ক।













