এখন খবরমধ্যবঙ্গ নিউজপরিবেশবিনোদনহেলথ ওয়াচখেলাঘরে বাইরেলাইফস্টাইলঅন্যান্য

UNICEF WB সুন্দরবনের পাশে দাঁড়াতে যুব সমাজের ডাক ইউনিসেফের জলবায়ু সম্মেলনে

Published on: February 16, 2026
UNICEF WB

UNICEF WB  লবণাক্ত মাটি সহনশীল ধানের চাষ, সবুজ শক্তির ব্যবহার, ব্যাপক ম্যানগ্রোভ রোপণ, ভিনরাজ্যে কাজে যাওয়া শ্রমিক পরিবারের পাশে দাঁড়ানো এবং জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে স্বেচ্ছাসেবী উদ্যোগ। সুন্দরবনের মানুষকে রক্ষায় এমনই একাধিক প্রস্তাব তুলে ধরল রাজ্যের শিশু ও যুব সমাজ। গত সন্ধ্যায় কলকাতায় আয়োজিত ‘ইউথ কনক্লেভ অন ক্লাইমেট অ্যাকশন’-  Youth Conclave on Climate Action এ   ৭০০-রও বেশি স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়া অংশ নেন। এই সম্মেলনের আয়োজক ছিল UNICEF। অনুষ্ঠানের সূচনায় প্রখ্যাত চলচ্চিত্র নির্মাতা Suman Mukhopadhyay-এর তথ্যচিত্র ‘কোড রেড সুন্দরবন’-এর প্রথম পাবলিক স্ক্রিনিং হয়।

আরও পড়ুন- আন্তর্জাতিক ক্রিকেট তারকাদের সঙ্গে প্র্যাকটিসে কলকাতার স্কুলপড়ুয়ারা

UNICEF WB কলকাতায় ‘ইউথ কনক্লেভ অন ক্লাইমেট অ্যাকশন’- সম্মেলনের আয়োজনে UNICEF

UNICEF WB   ঝড়–জলোচ্ছ্বাসের অভিজ্ঞতা শোনাল দ্বীপবাসী ছাত্রছাত্রীরা। তথ্যচিত্র প্রদর্শনের পর মুক্ত আলোচনায় সুন্দরবন থেকে আসা পড়ুয়ারা জানায়, একের পর এক ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের ফলে জমির মাটি লবণাক্ত হয়ে পড়েছে। ফলে ধান ও সবজির উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।

UNICEF WB  দক্ষিণ ২৪ পরগনার এক দশম শ্রেণির ছাত্রী তিতিক্ষা মণ্ডল বলেন, “লবণাক্ততা সহনশীল ধানের জাত চাষ করতে হবে। সরকার সহযোগিতা করলে তা সম্ভব।” তিনি আরও জানান, ঝড়ের আগমনে দ্বীপবাসীর মনে আতঙ্ক গ্রাস করে। “শেষ জলোচ্ছ্বাসে মানুষ মাটির বাঁধে শুয়ে খড়ের আঁটি জড়িয়ে ঢেউ আটকানোর চেষ্টা করেছে,”—শহরবাসীর প্রতি সাহায্যের আবেদন জানায় সে।

রাজ্যের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও সিভিল ডিফেন্স মন্ত্রী জাভেদ খান

 

UNICEF WB  সরকারের উদ্যোগের উল্লেখ অনুষ্ঠানে উপস্থিত রাজ্যের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও সিভিল ডিফেন্স মন্ত্রী জাভেদ আহমেদ খান বলেন, সুন্দরবনের মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে মাস্টারপ্ল্যান তৈরি হচ্ছে। দ্রুত রোগী স্থানান্তরের জন্য বিভিন্ন দ্বীপে স্পিডবোটে অ্যাম্বুল্যান্স মোতায়েন করা হয়েছে।

UNICEF WB ‘জলবায়ু লড়াই শুধু বিজ্ঞানীদের নয়’

UNICEF WB  পশ্চিমবঙ্গে ইউনিসেফ-এর মুখ্য প্রতিনিধি ডঃ মনজুর হোসেন বলেন, “জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব কমানো এখন আর শুধু বিজ্ঞানীদের কাজ নয়। সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষের দায়িত্ব। তরুণ প্রজন্মই পরিবর্তনের মূল চালিকাশক্তি।” কলেজ পড়ুয়া শোভন দাসের কথায়, “জলবায়ুর প্রভাব শুধু সুন্দরবন নয়, কলকাতা-সহ গোটা রাজ্যেই পড়ছে। দুর্গাপুজোর আগে হঠাৎ অল্প সময়ে অতিবৃষ্টি ও জল জমে যাওয়া তারই ফল।”

স্কুল, কলেজের পড়ুয়াদের উপস্থিতি

 

UNICEF WB মাইগ্রেশন ও সচেতনতার প্রসঙ্গ

UNICEF WB Jadavpur University-র ছাত্রী অনন্যা বলেন, “প্রতি ঝড়ের পর বহু মানুষ কাজের খোঁজে শহরতলিতে চলে আসেন। তাঁদের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের দুর্বলতার জায়গাগুলি বুঝতে চাই।”Deshbandhu College for Girls’-এর ছাত্রী অঙ্কিতা কর্মকারের প্রস্তাব, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতে সৌর প্যানেল বসিয়ে সবুজ শক্তির ব্যবহার বাড়াতে হবে। “সচেতনতা গড়ে তোলাই যুব সমাজের প্রথম কাজ,”—মন্তব্য তাঁর।

UNICEF WB ম্যানগ্রোভ ও সবুজ শক্তির ওপর জোর

UNICEF WB সম্মেলনে অংশ নেওয়া অন্যান্য পড়ুয়ারাও ম্যানগ্রোভ বনায়ন বৃদ্ধি, গ্রিন এনার্জির প্রসার ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে জলবায়ু নিয়ে প্রচারের ওপর জোর দেন। তাঁদের মতে, সুন্দরবনের সুরক্ষা মানেই পশ্চিমবঙ্গের সুরক্ষা। জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাতে বিপন্ন সুন্দরবন—এই বাস্তবতাকে সামনে রেখেই যুব সমাজের স্বতঃস্ফূর্ত প্রস্তাব ও অংশগ্রহণে সম্মেলনটি এক নতুন আশার দিশা দেখাল।

Join WhatsApp

Join Now

Join Telegram

Join Now