Murshidabad BJP রাজ্যে পালাবদলের প্রতিজ্ঞায় ভোটের ময়দানে নেমেছিলেন দু-পক্ষই। জেতেননি কেউ। কিন্তু লক্ষ্য পূরণ হয়েছে উভয়ের। ভোট প্রচারে পদ্ম প্রার্থীর হৃদয় হরণ করেছিলেন কংগ্রেস Indian National Congress প্রার্থীর এজেন্ট। শেষ পর্যন্ত তা গড়ায় পরিণয়ে। সদ্য বিবাহিতা বিজেপি নেত্রীর বিরুদ্ধে স্বামী ছিনতাইয়ের অভিযোগ তুলে সমাজমাধ্যমে সরব এক মহিলা, হইচই মুর্শিদাবাদে।
নির্বাচনে জিতে বিজেপি সরকার পরিচালনায় এসেছে রাজ্যে। আর ভরতপুরের বিজেপি প্রার্থী অনামিকা ঘোষ নির্বাচনে হেরে সংসার পরিচালনার ভার নিয়েছেন কংগ্রেসের উদ্দীপন দাসের। আরও একটি মিল আছে। ঠিক যে ভাবে বিরোধী শিবির ভোট ছিনতাইয়ের অভিযোগ তোলে অনামিকা দেবীর বিরুদ্ধে স্বামী ছিনতাইয়ের সেইরকমই অভিযোগ তুলেছেন পূর্ণিমা দাস নামে কান্দির এক বাসিন্দা। অভিযুক্তরা তাঁকে ফুৎকারে সেই অভিযোগ উড়িয়ে পাল্টা ‘নাটক’ বলে দাবি করেছেন বিষয়টি।
Murshidabad BJP ঘটনার প্রেক্ষাপট, ২০২৬ এর বিধানসভা নির্বাচন। স্থান ভরতপুর। কংগ্রেস প্রার্থী মোহাম্মদ আজাহারউদ্দিন ওরফে সিজার আর বিজেপি প্রার্থী বহরমপুরের অনামিকা ঘোষ। ময়দানে দু-জনেই নেমেছিলেন তৃণমূল প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান ওরফে সুমনের বিরুদ্ধে। সেইমতো প্রচারও চলছিল জোরতালে। ভিড় হয়েছিল দু-জনের সভাতেই। কিন্তু সেই নির্বাচনী কার্যকলাপের মাঝখানেই উদ্দীপন দাস, কংগ্রেস প্রার্থীর এজেন্টের চোখ টেনেছিল বিজেপি প্রার্থীর। নানা ছুতোয় তাঁরা দেখাও করেছিলেন। নির্বাচনের দিন যত এগিয়েছে ততই গাঢ় হয়েছে প্রেম। নির্বাচন মিটে গিয়ে মন্ত্রীসভা গঠনের পরেও ছিল দোটানা। উদ্দিপনের দুইপুত্র সহ ভরাট সংসার আর অনামিকা ছিলেন বিধবা।
আরও পড়ুনঃ প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে গিয়ে কী বললেন তাহের, খলিলুর, পাঠানরা ?
Murshidabad BJP প্রসঙ্গত, ২০২৩ সালে পথ দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয় অনামিকার স্বামীর। যদিও অনামিকার দাবি, তাঁর স্বামী হারানোর পেছনেও সেই রাজনীতি। তবে এক্ষেত্রে হিংসার রাজনীতিরই কথা মনে করিয়ে দিয়েছেন তিনি। ২০২৩-র পঞ্চায়েত নির্বাচনে বিজেপিকে রুখতে তৎকালীন শাসকদল হামলা চালিয়েছিল নানান জায়গায়। অনামিকার দাবি, সেই হিংসার বলি হয়েছিলেন তাঁর প্রাক্তন স্বামী প্রদীপ ঘোষ। তিনি বলেন, “সেদিন লোকে জেনেছিল সেটি পথ দুর্ঘটনা। আজকের মতো সেদিন এতো হইচইও হয়নি।” তারপর থেকেই বদলা নিতে তাঁর বিজেপি-র হাত ধরেই আগ্রাসন।
Murshidabad BJP কী বলছেন বিজেপি নেত্রী ?
Murshidabad BJP সেই আগ্রাসনই উদ্দিপনের ভাললাগার কারণ। উদ্দীপনও স্বীকার করেন তাঁদের বিয়ে হয়েছে জুলাইয়ের ২৭শে, ভরা শ্রাবণে। তবে তাঁর সংসার ছাড়ার পেছনে তাঁর প্রাক্তন স্ত্রীর বিরুদ্ধে পাল্টা স্বামী নির্যাতনের অভিযোগ তুলেছেন উদ্দীপন। তিনি বলেন, “ যিনি আমার স্ত্রী বলে দাবি করছেন ভাইরাল ভিডিওতে, তাঁকে জিজ্ঞাসা করুন আমাকে কান্দি হাসপাতালের আইসিইউতে ২০২৬ সালের ৩০শে মে ভর্তি হতে হয়েছিল। জিজ্ঞাসা করুন যিনি ভিডিও করে নাটক করছেন তাঁকে, কেন আমার বাড়ির কোনও সদস্যই তাঁর মারের হাত থেকে রেহাই পায়নি। জিজ্ঞাসা করুন তাঁকে যিনি নিত্যদিন আমাকে অশান্তি দিয়ে এসেছে বিয়ের দশবছর পরেও?”
ভরতপুরের তালগ্রাম হামিদ স্মৃতি বিদ্যাপীঠের করণীক উদ্দীপনের দাবি, তিনি অনামিকাকে বিয়ে করে সেই নির্যাতনের হাত থেকে রেহাই পেয়েছেন। অনামিকাও বলেন, “ উদ্দীপন নাবালক নয়। সাবালক। অতএব তাঁকে ফুঁসলিয়ে আনার অভিযোগ নাটক ছাড়া কিছু নয়। আমি এব্যাপারে বেশি কিছু বলতে চাইছি না। আমি নতুন জীবন শুরু করেছি। তাই নিয়েই সুখে থাকতে চাই।”
Murshidabad BJP পূর্ণিমা দাস বলেন, “ একজন মহিলা একজন পুরুষকে বেধড়ক মারল আর আপনাদের তা বিশ্বাস হল?” ২০১৬ সালের ১০ মার্চ, উদ্দীপন ও পূর্ণীমার বিয়ে হয়। তাঁদের একটি সাড়ে আট বছরের ও একটি আড়াই বছরের দুটি পুত্র সন্তান আছে জানিয়ে পূর্ণিমা পাল্টা বলেন, “ ওঁর বাড়ির প্রতিটি লোক আমাকে মারধর করেছে। দুই ছেলের সামনে আমাকে মেরে উদ্দীপন মেরেছে। ডিভোর্সের ভয় দেখিয়ে বাপের বাড়ি পাঠিয়ে দিয়েছে তিন মাস আগে। তারপরেই এই কুকীর্তির কথা জানতে পেরেছি ২৯ জুলাই।” উনি পাল্টা উদ্দিপনের বিরুদ্ধে বধু নির্যাতনের মামলা ঠুকে ন্যায় বিচারের আশা করছেন বলে জানান।
Murshidabad BJP অনামিকা ও উদ্দিপনের এহেন প্রেমের কথা পূর্ণিমা যেমন জেনেছেন নির্বাচনের পর তেমনি জেনেছেন কংগ্রেস প্রার্থী সিজারও। তিনি বলেন, “ আমি তো হালে শুনলাম এইসব কথা। আমরা জানতাম উদ্দীপন শিক্ষিত ছেলে। ভাল ছেলে। কিন্তু তলায় তলায় পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েছে তা সত্যিই জানতে পারিনি।” একইসঙ্গে দু-জনের এই সম্পর্কের ভিতরেও তিনি ঢুকতে চান না বলে দাবি করেন। বিজেপি-র বহরমপুর সংগঠনের সভাপতি মলয় মহাজনও এই বিষয়ে মন্তব্য করতে চাননি। তবে এই ঘটনায় ফোড়ণ দিচ্ছেন এলাকাবাসী। বলছেন, “বালি চুরির অভিযোগে সরব দুই বিরোধী শিবির নিজেরাই তলিয়ে গেলেন চোরাবালিতে।”
পূর্ণিমা দাসের দাবি মাস ধরে তার উপর অত্যাচার চলছিল। মারধরও করা হয়। কয়েক মাস ধরে মিউচ্যুয়াল ডিভোর্সের চাপ দেওয়া হচ্ছিল।










