DAG Art exhibition ব্রিটিশ আমলের সেনা ছাউনি সেজে উঠল নামকরা শিল্পীদের ছবি, ইন্সটলেশনে। পাশাপাশি স্থান পেল তরুণ শিল্পীদের কাজও। মহালয়ার আবহে বাঙালির দুর্গোৎসবের সূচনা হয়ে গিয়েছে । উৎসবের সেই রঙ এবার অন্য মাত্রা পেল মুর্শিদাবাদের শিল্পীদের হাত ধরে। রং, তুলির টান আর শিল্পীদের সৃজনশীল ভাবনায় সেজে উঠল বহরমপুর শহরের ‘দাগ’ । ব্যারাক স্কোয়ার সংলগ্ন ডিস্ট্রিক্ট আর্ট গ্যালারি ‘দাগ’-এ শনিবার বিকেলে শুরু হল ছবির প্রদর্শনী। জেলার শিল্পীদের আঁকা ছবি ও নানা ধরনের শিল্পকর্ম দেখতে ভিড় জমালেন শিল্পপ্রেমীরা।
DAG Art exhibition বহরমপুরের শিল্পীদের জন্য নিজস্ব শিল্পচর্চার জায়গা হিসেবে তৈরি হয়েছে এই ডিস্ট্রিক্ট আর্ট গ্যালারি। বহরমপুর ব্যারাক স্কোয়ারে মাঠের (Square Field) পাশে ডিস্ট্রিক্ট আর্ট গ্যালারিতে আয়োজিত প্রদর্শনীতে স্থান পেয়েছে বিভিন্ন শিল্পীর নানা ধরনের কাজ। কারও ছবিতে ফুটে উঠেছে সমুদ্রের বিস্তার, কারও তুলির টানে ধরা পড়েছে প্রকৃতির নানা রূপ। আবার কোনও শিল্পকর্মে শিল্পীরা তুলে ধরেছেন তাঁদের নিজস্ব ভাবনা ও কল্পনার জগৎ। সব মিলিয়ে প্রদর্শনীটি হয়ে উঠেছে শিল্পীদের সৃজনশীলতার এক বর্ণময় মেলবন্ধন।

DAG Art exhibition এই প্রদর্শনীতে নিজের বিমূর্ত শিল্পকর্ম নিয়ে উপস্থিত ছিলেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন চিত্রশিল্পী সুদীপ রায়। তাঁর মতে, বহরমপুরে এই ধরনের আর্ট গ্যালারি গড়ে ওঠা স্থানীয় শিল্পীদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শিল্পচর্চার পাশাপাশি নিজেদের কাজ দর্শক ও শিল্পরসিকদের সামনে তুলে ধরার সুযোগ তৈরি করবে এই গ্যালারি। আগামী দিনে এই উদ্যোগ শিল্পীদের আরও বড় পরিসরে কাজ করার সুযোগ করে দিতে পারে বলেও আশাবাদী তিনি।

শিল্পীদের কাছে শুধু ছবি প্রদর্শনের জায়গা নয়, এই গ্যালারি হয়ে উঠতে পারে অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং পারস্পরিক যোগাযোগের ক্ষেত্রও। বিভিন্ন ধরনের শিল্পচর্চার সঙ্গে যুক্ত মানুষ এক জায়গায় মিলিত হলে নতুন ভাবনা ও সৃজনশীল কাজের পথ খুলে যেতে পারে। বিশেষ করে জেলার তরুণ শিল্পীদের কাছে এই ধরনের উদ্যোগ নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে।
DAG Art exhibition ডিস্ট্রিক্ট আর্ট গ্যালারি ‘দাগ’-এর উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন বহরমপুরের স্থানীয় শিল্পীরাও। চিত্রশিল্পী অভ্র রায়ের মতে, শহরে শিল্পীদের জন্য এমন একটি জায়গা তৈরি হওয়া ইতিবাচক পদক্ষেপ। চিত্রশিল্পী দিয়া রায় জানান, এত দিন শিল্পকর্ম প্রদর্শনের জন্য উপযুক্ত পরিসর খুঁজতে নানা সমস্যার মুখে পড়তে হত শিল্পীদের। নতুন এই গ্যালারি সেই অভাব অনেকটাই পূরণ করতে পারে ।

প্রদর্শনীতে অংশ নেওয়া শিল্পীদের কাজের বৈচিত্র্যও নজর কেড়েছে দর্শকদের। কেউ বাস্তবধর্মী ছবির মাধ্যমে পরিচিত দৃশ্যকে তুলে ধরেছেন, আবার কেউ বিমূর্ত রং ও রেখার মাধ্যমে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করেছেন। ছবির পাশাপাশি প্রদর্শনীতে রয়েছে নানা ধরনের শিল্পকলা। ফলে দর্শকদের সামনে একাধিক শিল্পমাধ্যমের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
DAG Art exhibition এর আগেও ‘দাগ’-এ আয়োজন করা হয়েছিল আর্ট ক্যাম্প। সেই কর্মসূচির মাধ্যমে শিল্পীদের একত্রিত হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছিল। এবার ছবির প্রদর্শনী সেই উদ্যোগকে আরও এগিয়ে নিয়ে গেল। শিল্পী দেবব্রত সরকারের কথাতেও উঠে এসেছে এই ধরনের আয়োজনের গুরুত্ব। তাঁর মতে, একই জায়গায় বিভিন্ন শিল্পীর কাজ প্রদর্শিত হলে শিল্পীদের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ে এবং শিল্পচর্চার পরিবেশ আরও সমৃদ্ধ হয়।

শিল্পীদের কাছে নিজের শহরে এমন একটি আর্ট গ্যালারি পাওয়া নিঃসন্দেহে আশার খবর। কারণ, শিল্পকর্ম তৈরি করার পাশাপাশি তা দর্শকের সামনে তুলে ধরার সুযোগও শিল্পচর্চার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। উপযুক্ত পরিসর থাকলে স্থানীয় শিল্পীরা নিজেদের কাজ আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে পারবেন। একই সঙ্গে সাধারণ দর্শকেরাও জেলার শিল্পীদের সৃজনশীল কাজের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পাবেন।
DAG Art exhibition দুর্গোৎসবের আবহে বহরমপুরের ‘দাগ’-এ এই প্রদর্শনী তাই শুধু ছবি দেখার আয়োজন নয়, শিল্পীদের মিলনমঞ্চ হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। মুর্শিদাবাদের শিল্পীদের রং, রেখা ও ভাবনার এই উৎসব আগামী দিনে জেলার শিল্পচর্চাকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাবে—এমনটাই আশা শিল্পীদের।














