West Bengal OBC বাম ও তৃণমূল- দুই সরকারের ওবিসি সংরক্ষণ নীতির ভুল শোধরাতে বিল আনলেন মন্ত্রী গৌরী শংকর ঘোষ Gouri Sankar Ghosh। ওবিসি সংরক্ষণ সংশোধনী বিল ঘিরে সোমবার রাজ্য বিধানসভায় ছিল তুমুল রাজনৈতিক উত্তেজনা। দীর্ঘ বিতর্ক, ভোটাভুটি এবং বিরোধীদের ওয়াকআউটের মধ্যেই শেষ পর্যন্ত পাশ হয়ে গেল ওবিসি ও অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণির সংরক্ষণ সংক্রান্ত দুটি গুরুত্বপূর্ণ সংশোধনী বিল।
রাজ্যের অনগ্রসর শ্রেণিকল্যাণমন্ত্রী গৌরীশঙ্কর ঘোষ বিধানসভায় বিল দুটি পেশ করেন। প্রথমে ধ্বনিভোটের সম্ভাবনা থাকলেও আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকির দাবিতে ডিভিশন ভোট হয়। ভোটাভুটিতে বিলের পক্ষে পড়ে ১৮৬টি ভোট, বিপক্ষে ১৭টি। ছয়জন বিধায়ক ভোটদানে বিরত থাকেন।
West Bengal OBC বিল করে কী দাবী মন্ত্রী গৌরী শংকরের ?
বিধানসভায় সংশোধনী বিল দু’টি পেশ করে রাজ্যের অনগ্রসর শ্রেণি কল্যাণমন্ত্রী গৌরীশঙ্কর ঘোষ বলেন, কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশ অনুসরণ করেই ওবিসি সংরক্ষণ ব্যবস্থায় এই পরিবর্তন আনা হচ্ছে। তাঁর বক্তব্য, অনগ্রসর শ্রেণি কমিশনের ক্ষমতা ও ভূমিকা আরও সুসংহত করাই এই সংশোধনের মূল লক্ষ্য। তিনি স্পষ্ট করে জানান, এই পদক্ষেপের সঙ্গে কোনও রাজনৈতিক উদ্দেশ্য জড়িত নয়; বরং আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী সংরক্ষণ ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ, কার্যকর এবং আইনি কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করে তোলাই সরকারের উদ্দেশ্য।
West Bengal OBC মন্ত্রী আরও জানান, আগের আইনে ‘ক্যাটাগরি এ’-তে ৬৫টি এবং ‘ক্যাটাগরি বি’-তে ৭৮টি সম্প্রদায়ের নাম অন্তর্ভুক্ত ছিল। তবে কলকাতা হাইকোর্টের রায়ের পর ‘ক্যাটাগরি বি’-র তালিকাভুক্ত ৭৭টি সম্প্রদায়ের স্বীকৃতি বাতিল হয়েছে। সংশোধিত আইনে আর নির্দিষ্ট তালিকা রাখা হচ্ছে না। পরিবর্তে, অনগ্রসর শ্রেণি কমিশন সামাজিক ও শিক্ষাগত অনগ্রসরতার নিরিখে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মূল্যায়ন করে সুপারিশ করবে এবং সেই সুপারিশের ভিত্তিতেই ওবিসি তালিকাভুক্তি ও শ্রেণিবিন্যাসের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। বিজেপি শিবিরের দাবি, বাম ও তৃণমূল কংগ্রেস -এই দুই সরকারের ওবিসি সংরক্ষণ নীতির ভুল শোধরাতেই এই বিল ।
আরও পড়ুনঃ দুর্নীতি করলে ছাড় নয়, নবগ্রামে শিবিরে হুঁশিয়ারি মন্ত্রী গৌরীর
ভোটের আগে বিরোধী শিবিরের একাংশ ওয়াকআউট করলেও কয়েকজন বিধায়ক অধিবেশন কক্ষে থেকে যান। পরে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে তাঁরা নিজেদের আসনে বসেন। বিল পাশের পর তাঁরাও ফের অধিবেশনে যোগ দেন।
বিতর্কে অংশ নিয়ে বিজেপির দমদমের বিধায়ক অরিজিৎ বক্সী অভিযোগ করেন, পূর্ববর্তী সরকার ভোটব্যাঙ্কের রাজনীতির স্বার্থে ওবিসি তালিকা তৈরি করেছিল। অন্যদিকে বিরোধী সদস্যরা সংশোধনী বিলের বিরোধিতা করে দাবি করেন, এই পরিবর্তনের ফলে বহু সম্প্রদায়ের স্বার্থ ক্ষুণ্ণ হতে পারে।
এই সংশোধনের মাধ্যমে ২০১২ সালের ওবিসি সংরক্ষণ আইনের একাধিক ধারা বদল করা হয়েছে। নতুন আইনে ক্যাটেগরি ‘বি’-র ৭৮টি জনগোষ্ঠীর তালিকা সম্বলিত তফসিল বাদ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি কোনও সম্প্রদায়কে ওবিসি তালিকায় অন্তর্ভুক্ত বা বাদ দেওয়ার ক্ষেত্রে আপত্তি জানানোর সুযোগও রাখা হয়েছে।
West Bengal OBC নতুন ব্যবস্থায় অনগ্রসর শ্রেণি কমিশনের সুপারিশের ভিত্তিতে রাজ্য সরকার সংরক্ষণের শতাংশ নির্ধারণ করবে। নির্দিষ্ট সময় অন্তর প্রয়োজন অনুযায়ী সংরক্ষণের হার পরিবর্তন করা যাবে, তবে মোট সংরক্ষণ ৫০ শতাংশের বেশি হবে না। অনগ্রসরতার মাত্রা অনুযায়ী বিভিন্ন ক্যাটেগরিতে ভাগ করে সংরক্ষণের সুবিধাও নির্ধারণ করা হবে।
West Bengal OBC এছাড়া অনগ্রসর শ্রেণি কমিশন সংক্রান্ত আইনেও সংশোধন আনা হয়েছে। এখন থেকে নাগরিকেরা সরাসরি ওবিসি তালিকায় অন্তর্ভুক্তির আবেদন করতে পারবেন। কোনও সম্প্রদায়ের অতিরিক্ত বা কম অন্তর্ভুক্তি নিয়ে অভিযোগও জানানো যাবে। কমিশনের সুপারিশের ভিত্তিতেই সরকার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।
West Bengal OBC রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই সংশোধনী আগামী দিনে রাজ্যের সংরক্ষণ নীতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। একই সঙ্গে এই আইন নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক আরও বাড়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
❓FAQ
১. কোন বিলগুলি বিধানসভায় পাশ হয়েছে?
ওবিসি সংরক্ষণ ও অনগ্রসর শ্রেণি কমিশন সংক্রান্ত দুটি সংশোধনী বিল পাশ হয়েছে।
২. ভোটাভুটিতে ফলাফল কী ছিল?
বিলের পক্ষে ১৮৬টি, বিপক্ষে ১৭টি ভোট পড়ে এবং ছয়জন ভোটদান থেকে বিরত থাকেন।
৩. নতুন আইনে কী বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে?
ক্যাটেগরি ‘বি’-র পুরনো তালিকা বাদ দিয়ে কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী নতুনভাবে অন্তর্ভুক্তি ও সংরক্ষণ নির্ধারণের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
৪. সংরক্ষণের সর্বোচ্চ সীমা কত রাখা হয়েছে?
নতুন আইন অনুযায়ী মোট সংরক্ষণ ৫০ শতাংশের বেশি করা যাবে না।
৫. নাগরিকেরা কি ওবিসি তালিকায় অন্তর্ভুক্তির আবেদন করতে পারবেন?
হ্যাঁ। নতুন আইনে কমিশনের কাছে আবেদন ও আপত্তি জানানোর সুযোগ রাখা হয়েছে।










