Jangipur Municipality জঙ্গিপুর পৌরসভাকে চরম হুঁশিয়ারি রাজ্য সরকারের। কেন জঙ্গিপুর পৌরসভার বোর্ড ভেঙে দেওয়া হবে না ? কাউন্সিলারদের কাছে জানতে চাইল রাজ্য সরকারের পৌর ও নগরোন্নয়ন দপ্তর ( Department of Urban Development and Municipal Affairs ) । ২৬ তারিখ দপ্তরের একটি নোটিশে শো-কজ করা হয়েছে পৌরসভার কাউন্সিলারদের। প্রশ্ন উঠছে, জঙ্গিপুর পৌরসভার পরিণতিও কি কৃষ্ণনগর পৌরসভার মতো হবে ! এর আগে একই ভাবে কৃষ্ণনগর পৌরসভাকেও শো কজ করেছিল সরকার। পরে ভেঙে দেওয়া হয় কৃষ্ণনগর পৌরসভার বোর্ড।
আরও পড়ুনঃ জঙ্গিপুরে কোন্দল মেটাতে কলকাতায় ডাক দুই পক্ষকে
Jangipur Municipality জঙ্গিপুর পৌরসভাকে শো কজ
শোকজের চিঠিতে বলা হয়েছে, জঙ্গিপুর শহরে বেহাল রাস্তার অবস্থা। পৌরসভার রাস্তার হচ্ছে না নিয়মিত মেরামতি। ড্রেন পরিষ্কার করছে না জঙ্গিপুর পৌরসভা। রাস্তায় জমা হচ্ছে নোংরা, আবর্জনা । একগুচ্ছ অভিযোগ তৃণমূল পরিচালিত জঙ্গিপুর পৌরসভার বিরুদ্ধে। এই অভিযোগের স্বপক্ষে ছবিও নাকি জমা হয়েছে দপ্তরের কাছে। এই অভিযোগ এনেই এবার জঙ্গিপুর পৌরসভার কাউন্সিলারদের শো-কজ করল রাজ্য সরকার। কেন পৌরসভার বোর্ড অফ কাউন্সিলার ভেঙে দেওয়া হবে না ? ৭ দিনের মধ্যে জানানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শো কজের কথা স্বীকার করেছেন পৌরসভার চেয়ারম্যান মফিজুল ইসলাম ।
Jangipur Municipality জঙ্গিপুর পৌরসভার চেয়ারম্যানের কী দাবি ?
চেয়ারম্যান বলেছেন, ” আমাদের নগরোন্নয়ন দপ্তর থেকে একটা চিঠি এসেছে। সেই চিঠির উত্তর ৭ দিনে চেয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, শহর অপরিষ্কার। ড্রেন পরিষ্কার হচ্ছে না। আর ডাম্পিং গ্রাউন্ড নিয়ে বলেছে। আমি বলতে চাইছি, আমার শহরের ৯০ থেকে ৯৫ শতাংশই পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন। কিছু কিছু যায়গায় পরিষ্কার করে এল, আবার নোংরস ফেলে দেওয়া হচ্ছে। সেটা একটু অসুবিধা হচ্ছে। শহর পরিষ্কারের ব্যাপারে শহরের মানুষের কোন অভিযোগ নেই”।

তাঁর দাবি, বর্ষার সময় ড্রেন অপরিষ্কার করা হয়েছিল। পরিষ্কার করা হয়েছে। যেখানে জল জমা ছিল পরিষ্কার করতে বলা হয়েছে। কিছু রাস্তা খাবাপ ছিল। ঠিক করা হয়েছে। তাঁর আরও দাবি, পৌরসভা থেকে ডাম্পিং গ্রাউন্ডের কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে।
Jangipur Municipality ময়দানে জাকির হোসেনও
তবে দপ্তরের দাবি, অভিযোগ জমা পড়েছে দপ্তরের কাছে। নাগরিকদের পরিষেবাই দিতে পারছে না পৌরসভা। তাহলে কেন ভেঙে দেওয়া হবে না পৌরসভার বোর্ড ? জবাব দিতে হবে কাউন্সিলারদের। ২৬ তারিখ জারি হওয়া ঐ শো কজের জবাব ৭ দিনের মধ্যে দিতে নির্দেশ দিয়েছে দপ্তর। এর আগে জঙ্গিপুর পৌরসভার দখল ঘিরে তুঙ্গে উঠেছিল তৃণমূলের অন্দরের কোন্দল। এবার ফের। খোদ শাসক দলের পৌরসভাকে শো কজের নোটিশে উঠছে প্রশ্ন। পৌরসভার বিরুদ্ধে সরব হয়েছে জঙ্গিপুরের বিধায়ক জাকির হোসেনও।
Jangipur Municipality জঙ্গিপুরের বিধায়ক জাকির হোসেন, দাবি করেছে পৌরসভার রাস্তার থেকে বেশ কিছু গ্রামের রাস্তার অবস্থা ভালো। রাজ্য সরকার পৌরসভার বিষটি দেখছেও বলে জানান তিনি। সরকারি না বললেও জাকির এদিন বুঝিয়েছেন, তাঁকে দায়িত্ব দিলে পৌরসভার উন্নয়নের কাজ হবে। এর আগে কৃষ্ণনগর পৌরসভাকেও এই রকম শো কজের নোটিশ করেছিল সরকার। পরে ভেঙে দেওয়া হয় কৃষ্ণনগর পৌরসভার বোর্ড। জঙ্গিপুরের পরিণতি কী ? নজর রাজনৈতিক মহলের।
Jangipur Municipality জঙ্গিপুর নিয়ে তৃণমূলের দুই পক্ষের কোন্দল দীর্ঘদিনের। এই বছর ২৬ শে জুন, জঙ্গিপুর পৌরসভার চেয়ারম্যান মফিজুল ইসলামের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনেন দলেরই আট কাউন্সিলর। অনাস্থা প্রস্তাবে সমর্থন করেন বিজেপি ও কংগ্রেসের আরও তিন জন। প্রকাশ্যে আসে তৃণমূলের গোষ্ঠীকোন্দল। পাল্টা বিস্ফোরক দাবী করেন জঙ্গিপুর পৌরসভার চেয়ারম্যান মফিজুল ইসলাম। চেয়ারম্যানের নিশানায় ছিলেন জঙ্গিপুরের বিধায়ক জাকির হোসেন। পরের দিন ২৭ শে জুন, রঘুনাথগঞ্জের মঙ্গলজনে সাংসদ খলিলুর রহমানের বাসভবনে ভিড় করেন ক্ষুব্ধ তৃণমূল কর্মীরা। পাল্টা তোপ দাগেন জাকির হোসেনও। এরপর ৮ ই জুলাই রাজ্য তৃণমূল TMC দপ্তরে জঙ্গিপুর পৌরসভার দলীয় কাউন্সিলরদের নিয়ে দলীয় বৈঠকও ডাকলেন রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সি Subrata Bakshi। তবে সেই সভাতেও মেটেনি কোন্দল। এবার শোকজে তৈরী হল নতুন জটিলতা।










