এখন খবরমধ্যবঙ্গ নিউজপরিবেশবিনোদনহেলথ ওয়াচখেলাঘরে বাইরেলাইফস্টাইলঅন্যান্য

Guava Vs Avocado অ্যাভোকাডোকে হারিয়ে দিচ্ছে দেশি পেয়ারা !

Published on: November 30, 2025
Guava Vs Avocado

Guava Vs Avocadoপশ্চিমবঙ্গে ফলের বাজারে গত কয়েক বছরে নতুন ফ্যাশন এসেছে। সোস্যাল মিডিয়ায়  ঝড় তুলেছে অ্যাভোকাডো Avocado —দামি, ঝকঝকে , সবুজ রঙের এই ফলকে অনেকে “স্বাস্থ্য-বিপ্লবের প্রতীক” বলেও প্রচার করেছেন। ক্যাফের সালাড থেকে জুস বার—সবখানেই তার উপস্থিতি। কিন্তু সাম্প্রতিক গবেষণা এবং দেশি পুষ্টিবিদদের অভিমত বলছে, আসল সুপারস্টার কিন্তু আমাদের পাশের বাগানেরই বাসিন্দা—পেয়ারা।

আরও পড়ুনঃ Beetroot Benefits খেলেও হাজারো গুণ, মাখলেও মিলবে হাতেনাতে ফল

পুষ্টিগুণ, ক্যালোরি-মান, ভিটামিন সি, দাম, সহজলভ্যতা—সবকিছুর নিরিখে দেশি পেয়ারা অ্যাভোকাডোকে স্পষ্টভাবে পিছনে ফেলছে। বিজ্ঞানী ও পুষ্টিবিদদের বক্তব্য আরও জোরালো—ভারতের আবহাওয়া, খাদ্যাভ্যাস ও বাজেটের  সঙ্গে যে ফলটি বেশি মানানসই, তা কোনও আন্তর্জাতিক ট্রেন্ড নয়, বরং ঘরের উঠোনেই জন্মানো পেয়ারা ।

Guava Vs Avocado পেয়ারায় ভিটামিনের সুনামি , সর্দির যম পেয়ারা

কেয়ার হাসপাতাল  CARE Hospitals, হায়দরাবাদের কনসালট্যান্ট ক্লিনিক্যাল ডায়েটিশিয়ান ডঃ জি সুষ্মা সম্প্রতি জানিয়েছেন , “১০০ গ্রাম পাকা পেয়ারায়  থাকে ২২৮. মিলিগ্রাম ভিটামিন সি, যা দৈনিক প্রয়োজনের প্রায় চার গুণ। এই ভিটামিনের মাত্রায় পেয়ারা  শুধু অ্যাভোকাডোকেই নয়, কমলালেবুকেও পিছনে ফেলে।” তুলনায় অ্যাভোকাডোতে মাত্র মিলিগ্রাম ভিটামিন সি মেলে—অতি নগণ্য।

ভিটামিন সি শুধু ইমিউনিটি বাড়ায় না, ত্বকে কোলাজেন তৈরি করে বলিরেখা কমায়, ঘা সারায়, আয়রন শোষণে সাহায্য করে। অর্থাৎ পশ্চিমবঙ্গের গ্রাম-শহরে সর্দি-কাশির মৌসুমে একটি পেয়ারাই হতে পারে সস্তা, সহজ, কার্যকর ‘ইমিউনিটি শিল্ড’।

Guava Vs Avocado Farmers

Guava Vs Avocado ম্যাক্রোনিউট্রিয়েন্টস (Macronutrients)

পুষ্টি উপাদানপেয়ারা (১০০ গ্রাম)অ্যাভোকাডো (১০০ গ্রাম)কে এগিয়ে?
ক্যালোরি৬৮ ক্যালরি১৬৭ ক্যালরিপেয়ারা — হালকা ও ডায়েট-ফ্রেন্ডলি
কার্বোহাইড্রেট১৪ গ্রাম৯ গ্রামলক্ষ্য অনুযায়ী—অ্যাভোকাডো কম-কার্ব
ফাইবার৫ গ্রাম৭ গ্রামঅ্যাভোকাডো বেশি ফাইবার
প্রোটিন২.৬ গ্রাম২ গ্রামপেয়ারা সামান্য এগিয়ে
মোট ফ্যাট০.৯ গ্রাম১৫ গ্রামঅ্যাভোকাডো — ভালো ফ্যাটের সমৃদ্ধ উৎস

 

Guava Vs Avocado পেয়ারা খেলে ওজন কমবে

১০০ গ্রাম পেয়ারায়  ক্যালোরি মাত্র ৬৮। একই পরিমাণ অ্যাভোকাডোতে ক্যালোরি ১৬৭—প্রায় আড়াই গুণ বেশি। যারা ওজন নিয়ন্ত্রণে রয়েছেন, বিশেষ করে বাঙালির প্রচলিত ভাত কেন্দ্রেইক  খাদ্যাভ্যাসের সঙ্গে মানিয়ে চলতে চান, তাদের জন্য পেয়ারাই ভালো।

ফাইবারের দিক থেকে অ্যাভোকাডো খানিকটা এগিয়ে থাকলেও (৭ গ্রাম বনাম ৫ গ্রাম), পেয়ারার  কম ক্যালোরি-ঘনত্ব দেহের চর্বি কমাতে বেশি সহায়ক। ডঃ সুষ্মা বলেন, “ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য পেয়ারা অত্যন্ত উপকারী। এর গ্লাইসেমিক ইনডেক্স কম, ফাইবার বেশি, ফলে রক্তে শর্করার ওঠানামা কম হয়।”

 

Guava Vs Avocado হার্টের যত্নে পেয়ারা

অ্যাভোকাডোতে প্রচুর ‘ভাল ফ্যাট’—মোনোআনস্যাচুরেটেড ফ্যাট—থাকে, যা হৃদ্‌যন্ত্রের পক্ষে উপকারী। তবে ভারতীয় খাদ্যাভ্যাসে দৈনিক ক্যালোরি প্রায়শই বেশি হয়ে যায়। তাই বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি কমাতে “কম ফ্যাট, বেশি ফাইবার ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট” ভিত্তিক ফল আরও কার্যকর। সেখানে পেয়ারা  সহজেই তালিকায় শীর্ষে। এই ফলটি পটাশিয়ামেও সমৃদ্ধ (৪১৭ মিলিগ্রাম), যা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। ফলে উচ্চ রক্তচাপ–গ্রস্ত বাঙালি মধ্যবয়সীদের জন্য দিনে একটা  পেয়ারা  উপকারী।

Guava Vs Avocado পেয়ারা খান সবাই

গবেষণায় দেখা গেছে, পেয়ারার  ফাইটোনিউট্রিয়েন্টস—ক্যারোটিনয়েড, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, ভিটামিন সি—শিশু থেকে প্রবীণ, সকলের জন্য উপকারী। স্কুল পড়ুয়া শিশুদের জন্য এটি প্রাকৃতিক ‘ইমিউনিটি বুস্টার’; কিশোর-কিশোরীদের ব্রণ কমাতে সাহায্য করে; প্রাপ্তবয়স্কদের পাচনশক্তি বাড়ায়; প্রবীণদের বয়স-সম্পর্কিত চোখের রোগ প্রতিরোধে কার্যকর।

অ্যাভোকাডোও পুষ্টিকর, বিশেষত ফোলেট, ভিটামিন ই ও স্বাস্থ্যকর ফ্যাটের জন্য। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের জনসাধারণের পুষ্টি-প্রয়োজন, বাজেট ও খাদ্যাভ্যাস বিবেচনায় পেয়ারাই  বেশি বাস্তবসম্মত।

Guava Vs Avocado বাজেটের মধ্যেই পেয়ারা

অ্যাভোকাডো এখনও পশ্চিমবঙ্গের বেশিরভাগ বাজারে  বেশ দামি। গ্রামাঞ্চলে তো আরও দুর্লভ। অন্যদিকে পেয়ারা সস্তাতেই  পাওয়া যায়। বাড়ির বাগানেও জন্মানো যায়। ফলে দরিদ্র পরিবারও সহজেই প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় যুক্ত করতে পারে।

মুর্শিদাবাদ, নদিয়া, হাওড়া, হুগলি—অনেক জেলাতেই পেয়ারার  ব্যাপক চাষ হয়। স্থানীয় অর্থনীতিও তাই লাভবান। কৃষি অধ্যাপকদের মতে, “অ্যাভোকাডো আমদানি-নির্ভর ও পরিবহন-নির্ভর; পেয়ারা  দেশের মাটি ও জলবায়ুর সঙ্গে মানানসই। ফলে কৃষক, ক্রেতা , দু’জনের পক্ষেই পেয়ারা  বেশি লাভজনক।”

Guava Vs Avocado স্বাস্থ্যবিজ্ঞান বলছে:  পেয়ারা সুপার ফ্রুট

তথ্য স্পষ্ট:

  • ভিটামিন সি—পেয়ারা অ্যাভোকাডোর ২৫ গুণ
  • ক্যালোরি—পেয়ারা কমপক্ষে ৬০% কম
  • দাম—পেয়ারা সবার নাগালে
  • প্রোটিন—পেয়ারার বেশি
  • অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট—পেয়ারা এগিয়ে

ডঃ সুষ্মার কথায়: “সুপারফল শব্দটি আমরা অনেক সময় ভুলভাবে ব্যবহার করি। বাস্তবে, যে ফল ভিটামিন, ফাইবার, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, কম ক্যালোরি ও কম খরচ—সব দিক থেকে মানুষকে সুরক্ষা দেয়, তাকেই সুপারফল বলা উচিত। সেই মানদণ্ডে পেয়ারাই সেরা।”

অ্যাভোকাডো যতই ‘গ্লোবাল স্টার’ হোক, পুষ্টি বিজ্ঞানের মঞ্চে পশ্চিমবঙ্গের পাঠক-ভোক্তাদের জন্য পেয়ারাই  আসল নায়ক। হালকা টক-মিষ্টি স্বাদের এই সাধারণ দেশি ফলই আজ জয়ী—তার কার্যকারিতা, পুষ্টি-সম্ভার ও সহজলভ্যতার জোরে। বাড়ির বাগান থেকে বাজার—সর্বত্র ছড়িয়ে থাকা পেয়ারাই আমাদের নিজেদের সুপারফল।

 

Join WhatsApp

Join Now

Join Telegram

Join Now