এখন খবরমধ্যবঙ্গ নিউজপরিবেশবিনোদনহেলথ ওয়াচখেলাঘরে বাইরেলাইফস্টাইলঅন্যান্য

বাইপাসে অধীরের বাইক স্টান্ট ! খোঁচা তৃণমূল-বিজেপির

Published on: October 15, 2023

ঋত্বিক দেবনাথ, বহরমপুরঃ বহরমপুরের সাংসদ অধীর রঞ্জন চৌধুরী। নামটা প্রথম মাথায় আসলেই মনে পরে ওনার দাবাং মানসিকতা। এছাড়াও রবিনহুডের মতন তাঁর চালচলন। যা বহরমপুরের মানুষের অজানা না। ‘দাদা’ নামেই গোটা জেলায় খ্যাত তিনি। রবিনহুড অধীর রঞ্জন চৌধুরী, যখনই বহরমপুর হোক কিংবা মুর্শিদাবাদের যেকোন বড় সমস্যা তৈরি হলেই, সবার আগে এই মানুষটা যাওয়ার চেষ্টা করেন। চেষ্টা করেন তাঁর নিজের সর্বস্ব দিয়ে কাজ করার, এমনটাই দাবি করেন শহরবাসীর একাংশ।

রবিবার সকালে বহরমপুর বাইপাসে ফুরফুরে মেজাজে দেখা গেল সাংসদ তথা প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরীকে। মাথায় কালো ক্যাপ, পড়নে গেরুয়া জামা ও কালো প্যান্ট আর কালো বুলেট। বিবরণ শুনে ভাবতেই পারেন, যে কোনও ফিল্মের হিরোর থেকে কম কিছু না। ফিল্মি স্টাইলে জাতীয়ে সড়কে অধীরবাবুর বুলেট ছুটল দ্রুত গতিতে।

বহু প্রতিক্ষার পর শেষমেশ দুর্গা পুজো উপলক্ষ্যে, পনের দিনের জন্যে বহরমপুর বাইপাস খোলা হল। এর আগেও একবার বাইপাস ওপেনিং হলেও বন্ধ হয়ে যায় কিছুদিনের মধ্যেই। চলতে থাকে রাজনৈতিক তরজা। এমন পরিস্থিতিতে অধীর রঞ্জন চৌধুরী দিল্লিতে গিয়ে কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহণ মন্ত্রী নিতিন গডকড়ীকে লিখিত চিঠিও দিয়েছিলেন পুজোর মুখে কিছুদিন খুলে রাখা হোক এই বাইপাসটা। এবং তারপরেই দেখা গেল শনিবার জেলা প্রশাসনের উপস্থিতিতে বাইপাসে যানবাহন চলতে শুরু করে। কিন্তু এখানেই শেষ না, পিকচার আভি বাকি হে!

পরের দিন সকাল বেলাতেই দেখা গেল প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর রঞ্জন চৌধুরী একদম একঝাঁক কংগ্রেস দলীয় কর্মীদের নিয়ে নেমে গেলেন জাতীয় সড়কের ওপর। এবং বাইক চালিয়ে নতুন জাতীয় সড়কের পরিদর্শন করে ফেললেন। কিন্তু এইটা আর পাঁচটা পরিদর্শনের মতন নয়। একদম দাবাং স্টাইলে বাইক চালিয়ে রাস্তা পরিদর্শন। দ্রুত গতিবেগে ছুটছে বাইকের দুই চাকা। এবং গাড়ি চালাতে চালাতে করহাতে নমস্কার জানাচ্ছেন সবাইকে। মাঝে মাঝে হাত নারাচ্ছেন সমর্থকদের উদেশ্যে। যেন কোন সিনেমার অভিনেতা তার সিনেমার প্রোমোশানের জন্যে র‍্যালি করেন। ঠিক তেমনই কিছু।

কিন্তু প্রশ্ন থাকছে এখানেই। সাংসদ হলেও হেলমেট ছাড়া গাড়ি চালানোর অধিকার কি রয়েছে তাঁর? উত্তর হয়ত সবাই জানে। মাথায় কালো টুপি পরলেই কিন্তু মাথা বাঁচেনা। হাত ছেড়ে চালাতে চালাতে যদি একটু বাইকের হ্যান্ডেল নরে যায় হয়ত সেই হাতটাও অকেজ হয়ে যেতে পারে। এমনই বহু কিছু দুর্ঘটনার আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে। তাহলে কীভাবে এত বড় মাপের একজন মানুষ এই রকমভাবে বেপরোয়া ভাবে হেলমেট না পরে গাড়ি চালাতে পারেন। এই নিয়েও শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা।

বহরমপুর পৌরসভার পৌরপিতা নাড়ু গোপাল মুখার্জি জানান, “জেলা প্রশাসনের উপস্থিতিতে শনিবার এই বাইপাসের ওপেনিং করা হয়। উনি আজ শুধুমাত্র ফুটেজ খেতে গিয়েছিলেন। এবং হেলমেট পরেননি কারণ উনি ওনার হিরোইজাম ব্যপারটা দেখাতে পারবেন না। লোকে বেশি দেখতেও পাবে তাহলে। এটি আসলে একটি স্টান্ট রাজনীতি।” সামনেই লোকসভা ভোট এবং তার মধ্যে প্রায় ৩০% ভোটার ইউথ। এখানেই উঠে আসছে। কী মেসেজ যাবে তাদের কাছে। তাঁর নিজের দলীয়কর্মীরাই কদিনপর হেলমেট ছাড়ায় রাস্তায় আরও বুক ফুলিয়ে বাইক চালাবেন।

বহরমপুরের বিজেপির বিধায়ক সুব্রত মৈত্র জানান, “আমরা বহু আগের থেকেই কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর কাছে আবেদন জানিয়ে ছিলাম। এবং সেটার প্রতিফলন দেখা গেল শনিবারে। এবার কথা ওঠে অধীর বাবুর। উনি পাঁচবারের বিধায়ক। ট্রাফিকের নিয়ম কানুন খুব ভালো ভাবেই জানেন। তারপরেও কীভাবে হাত ছেড়ে গাড়ি চালাচ্ছেন, সেটা উনি একমাত্র ভালো জানেন।”

কিন্তু প্রশ্ন একটাই এই কাজের জন্যে ফাইন ভর্তে হবে কী সাংসদকে? এই প্রশ্নের উত্তরে যদিও অধীর বাবু জানান, “হ্যাঁ, ফাইন দিতে হলে দিয়ে দেব। যদিও আমি যেখানে করেছি সেখানে একদমই ট্রাফিক ছিলনা। এবং আমি খুব আবেগের বসেই এটি করেছি। দীর্ঘ লড়াই করার পর আমরা পেয়েছি এই বাইপাস।” সব মিলিয়ে রাজনৈতিক তরজা দেখা দিলেও একাংশ শহরবাসীর এই ব্যপারটা খুব ভালোই লেগেছে। লোকের মুখে উঠে আসছে পুরনো রবিনহুড আবার ফিরছেন।

 

 

Join WhatsApp

Join Now

Join Telegram

Join Now