World Children’s Day 2025 বিশ্ব শিশু দিবস ২০২৫-এর থিম, ”আমার দিন আমার অধিকার। প্রত্যেক শিশুর জন্যে প্রত্যেক অধিকার।” খেলা, স্বাস্থ্যে, শিক্ষায় শিশুর অধিকার। ১৯৫৪ সাল থেকে আজ, ২০ নভেম্বর বিশ্ব শিশু দিবস পালিত হয়ে আসছে। এই শিশু দিবস যখন বৃহস্পতিবার উদযাপন হচ্ছে সেই সময় একটি তথ্য নাড়িয়ে দিল। সারা বিশ্বে বড়দের বোমা-গুলির লড়াইয়ে গত এক বছরে ১২ হাজার শিশু খুন হয়েছে। ভাবলে শিহরিত হতে হয়।
World Children’s Day 2025 আকাশ থেকে শিশুদের মাথায় বোমা ফেলা হচ্ছে। সম্পূর্ণ ফোটার আগে মর্মান্তিকভাবে ঝরে যাচ্ছে সেই সব শিশুরা। বেশ কয়েকটি দেশে যেসব শিশুরা টিকে আছে, আগামী কাল তাদের নৃশংস মৃত্যু হবে কি না জানা নেই। হয়তো অনেকের বাবা-মা, প্রিয় দাদা-দিদিকে খতম করে দেওয়া হয়েছে। হয়তো বিস্ফোরণের আওয়াজে কানে শুনতে পায় না। চোখে ভালো দেখতে পায় না। ভয় গ্রাস করে। তাদের যে ভয়ঙ্কর মানসিক চাপের মধ্যে বেড়ে উঠতে হচ্ছে যা তাদের সারা জীবনের ক্ষতি করে দিতে পারে। তাই এবারের শিশু দিবসের থিম তুলে ধরে প্রার্থনা, যেন বঞ্চিত না হয় শিশুর অধিকার। যে শিশু বাড়িময় খেলবে। মেঘের সঙ্গে কথা বলবে। কল্পনার রঙে আকাশে-বাতাসে বাবা-মা, দাদা, দিদিদের সঙ্গে গল্প করবে। ভোর দেখে ঘুম থেকে উঠে বলবে, “আমি হব সকাল বেলার পাখি, সবার আগে কুসুম বাগে উঠব আমি জাগি।”
আরও পড়ুনঃ Childrens Day Murshidabad: খেলাতেই ভুলে থাকা, বারাক স্কোয়ারে ক্রিকেট কলোনির শিশুদের
শিশুদের বিশ্বকে আরও সুন্দর করুন
World Children’s Day 2025 সেই বিখ্যাত ইংরেজি গানের কথা ধরে তাই বলা যেতে পারে, ”হিল দ্য ওয়ার্ল্ড, মেক ইট বেটার প্লেস।” হিংসা বন্ধ করে এই বিশ্বকে উপভোগ করুন। বিশ্বকে আরও সুন্দর জায়গা করুন। মুক্ত হাসিতে শিশুদের খেলবার জায়গা করে দিন। শুনুন শিশুদের কণ্ঠস্বর। বড়দের দুনিয়ায় ওঁদের কন্ঠস্বর যেন চাপা পড়ে না যায়। একটি তথ্য অনুযায়ী, এখন বর্তমানে সারা বিশ্বে ১৮ বছরের কম বয়সীর সংখ্যা প্রায় ২৪০ কোটি। তার মধ্যে ভারতেই রয়েছে আড়াই কোটির বেশি শিশু (৫-১৪ বছর বয়সি)। এছাড়াও দুধের শিশুও সংখ্যাও লক্ষ লক্ষ।
World Children’s Day 2025 এতদিন দেখা যেত অপুষ্টির অভাবে শিশু মৃত্যুর অভিযোগ উঠত। এমনকী যুদ্ধক্ষেত্রেও। এই নিয়ে আন্তর্জাতিক মঞ্চে অনেককে দুঃখ প্রকাশ করতে দেখা যেত, যে আমরা বিশ্বের সব শিশুর মুখে ঠিক মতো খাবার তুলে দেওয়ার মতো অবস্থায় উন্নত হতে পারেনি। কিন্তু এবার? এবার যুদ্ধে গুলি, বোমার আঘাতে হাজারে হাজারে শিশু মৃত্যু হওয়ার ঘটনা সামনে এসেছে। গাজা, সুদান, ইউক্রেনে এবার শিশুদের জীবনের উপর দিয়ে কার্যত বিস্ফোরণের রোলার চলেছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে হাসপাতাল, স্কুলে আশ্রয় নেওয়া শিশুদের উপর আক্রমণ হয়েছে। তার মধ্যে ৭০ শতাংশ শিশুর মৃত্যু হয়েছে মিসাইল, গ্রেনেড হামলায়। ২০২৩ সালের অক্টোবরে ইজরায়েলে হামাস আক্রমণ করার পর থেকে পাল্টা গাজায় আক্রমণ চালাচ্ছে ইজরায়েল। সেই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ২০ হাজার শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
World Children’s Day 2025 এছাড়া অবলা শিশুদের প্রতি অপরাধের ঘটনা সামনে আসে একের পর এক। এই শিশুরাই আগামীর ভবিষ্যৎ। এরা যে কী শক্তি নিয়ে আগামী বিশ্বকে কোন পথে নিয়ে যাবে আমরা জানি না। কিন্তু তার আগেই মানুষ রূপে থাকা জন্তুদের নখ দাঁত তাদের ক্ষতবিক্ষত করে দিচ্ছে।
গাজার ১১ বছরের ইয়াকিন নেই, ইয়াকিন হচ্ছিল না বিশ্বের
World Children’s Day 2025 ইয়াকিন হামাদের কথা এবছর স্তম্ভিত করে দিয়েছিল। সে নিজেও একজন শিশু। বয়স ১১-র ঘরে। গাজায় শিশুদের উপর ভয়াবহতা দেখে সে কলম, মাইক্রোফোন তুলে নিয়েছিল। যার কথায় সোশ্যাল মুহূর্তে লক্ষ লক্ষ ভিউ হতো। তাকেও সাম্রাজ্যবাদীর ভয়ঙ্কর বোমা নিস্তার দেয়নি। মৃত্যুর কয়েকদিন আগেই সোশ্যাল মিডিয়ায় সে লিখেছিল, ”আমি অন্য শিশুদের খানিকটা আনন্দ দেওয়ার চেষ্টা করি। যাতে তারা যুদ্ধ ভুলে থাকতে পারে।” মধ্য গাজায় তার সুন্দর হাসিকেও কয়েকদিন পরে থামিয়ে দেয় বোমাবাজরা। যার মৃত্যুতে কার্যত ভেঙে পড়েছিল সোশ্যাল মিডিয়া। ইয়াকিন নেই অনেকের ইয়াকিন হচ্ছিল না। এবার শিশু দিবসে ইয়াকিন থাকলে, শিশুদের জন্যে আরও অনেক সুন্দর কোনও মেসেজ হয়ত সে ছড়িয়ে দিত। এছাড়া বিশ্বজুড়ে এখনও অনেক শিশু ঠিক মতো পুষ্টিকর খাবার পায় না। একটি সর্বভারতীয় দৈনিকের গত বছর জুলাই মাসে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ভারতের ১৭ শতাংশ শিশু কম ওজনের। অপুষ্টিতে ভুগছে। একটি সমীক্ষা অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গে ৩২ শতাংশ শিশু কম ওজনের। এক্ষেত্রে খারাপ অবস্থায় রয়েছে মুর্শিদাবাদ, দক্ষিণ ২৪ পরগনার মতো জেলা। ন্যাশনাল ফ্যামিলি হেলথ সার্ভের একটি রিপোর্ট অনুযায়ী, মুর্শিদাবাদে ২ লক্ষ ৬৭ হাজার শিশু কম ওজনের সমস্যায় ভুগছে (২০১৯-২০ সালের রিপোর্ট)।
World Children’s Day 2025 উল্লেখ্য, ভারতে গত ১৪ নভেম্বর, প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহেরুর জন্ম দিনে শিশু দিবস পালিত হয়েছে। অনেক দেশই নিজেরা আলাদা করেও শিশু দিবস পালন করে।










