Tere Ishk Mein বলিউডে আবার প্রেমের মরশুম । আর সেই রোমান্সের দুনিয়ায় এবার নতুন ঝড় তুলেছে আনন্দ এল রাই Aanand L Rai -এর সিনেমা ‘তেরে ইশক মে Tere Ishk Mein। শুক্রবার, ২৮ নভেম্বর মুক্তির পর থেকেই ছবিটি বাজারে হিট করেছে। সিনেমার ভালোবাসার তীব্রতা, আর চরিত্রদের মানসিক সংঘাতে মুগ্ধ দর্শকরাও।
আরও পড়ুন: কান্তারা ১ সিনেমার গল্প বাংলায়
বছরের শুরুতেই Saiyaara প্রথম দিনে ২০ কোটি টাকার ব্যবসা করে দেখিয়েছিল। ঠিক সেখানেই ‘রানঝানা’—র পরিচালক রাই আবারও প্রমাণ করলেন—গভীর প্রেম এখনও দর্শককে হলমুখী করতে পারে।
Tere Ishk Mein দুরন্ত বক্স অফিস ওপেনিং: ১৬ কোটি পার
প্রথম দিনেই Tere Ishk Mein আয় করেছে ১৬.৫ কোটি টাকা (Sacnilk)। প্রত্যাশা ছিল ১০ কোটির আশেপাশে, কিন্তু ছবিটি সেই অনুমানকে ছাড়িয়ে যায় সহজেই।
এতে ছবিটি পেছনে ফেলেছে—
- জলি এলএলবি Jolly LLB (১২ কোটি)
- সিতারে জমিন পর Sitaare Zameen Par (১০.৭০ কোটি)
- দে দে প্যার দে ২ De De Pyaar De 2 (Ajay Devgn, Rakul Preet Singh) — সম্প্রতি মুক্তি পেয়েও এতটা সংগ্রহ করতে পারেনি।
এটি এখন এ বছরের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ওপেনিং পাওয়া রোমান্টিক ছবি, Saiyaara-র ঠিক পরে।
কেন হিট ধনুশের এই সিনেমা ? ব্যবসায়িক বিশ্লেষকদের মতে।
- ছবির রোমান্টিক তীব্রতা,
- রাঞ্ঝনা সিনেমার সংযোগ,
- ধনুশ-কৃতি শ্যাননে জুটি,
- আর এআর রহমান R. Rahman-এর সঙ্গীত—
এই সব মিলেই দর্শকের আগ্রহ বাড়িয়েছে।
রাতের শো–তে ফুটফল আরও বেড়েছে, কারণ মুখে মুখেই ছবিটি দ্রুত জনপ্রিয়তা পাচ্ছে।
Tere Ishk Mein ছবির বাজেট
প্রযোজনা সংস্থার অভ্যন্তরীণ সূত্র অনুযায়ী, Tere Ishk Mein একটি মাঝারি-থেকে-বড় বাজেটের রোমান্টিক ড্রামা।
প্রি-রিলিজ থেকে—
- স্যাটেলাইট রাইটস,
- মিউজিক রাইটস (A.R. Rahman ফ্যাক্টর),
- ডিজিটাল রাইটস
—এগুলোর মাধ্যমে ভালো পরিমাণ রাজস্ব আগেই উঠে এসেছে।
ওপেনিং–ডে–র ১৬.৫ কোটি সংগ্রহ দেখে ট্রেড অ্যানালিস্টদের ধারণা, সপ্তাহান্ত শেষে ছবির আয়ের ধাক্কা ৫০ কোটির কাছাকাছি পৌঁছে যেতে পারে, যা বলিউডের রোমান্স–ফোকাসড ছবির ক্ষেত্রে সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম শক্তিশালী প্রবেশ।
Tere Ishk Mein গল্পে আসল টান
আনন্দ এল রাই Aanand L Rai আবারও ‘প্রেমের বিপজ্জনক রূপ’কে বড় পর্দায় তুলে ধরেছেন। তাঁর গল্পে প্রেম কখনও ওষুধ, কখনও বিষ—এই দ্বৈততা দর্শককে টেনে নেয়।

ছবির কেন্দ্রীয় চরিত্র—
- শঙ্কর ( ধনুশ) Shankar (Dhanush): এক এয়ার ফোর্সের পাইলট Air Force pilot, যিনি অবাধ্যতার disobedience–এর কারণে গ্রাউন্ডেড। তাঁর ভিতর জমে থাকা শোক, ক্রোধ আর ভালোবাসা গল্পটিকে এগিয়ে নিয়ে যায়।
- মুক্তি ( কৃতী শ্যানন) Mukti (Kriti Sanon): একজন মনোবিদ psychologist, যিনি বিশ্বাস করেন—ভালোবাসা ক্রোধকে নিরাময় করতে পারে।
তাদের সম্পর্ক একদিকে সামাজিক ব্যাকগ্রাউন্ডের সংঘাত, অন্যদিকে রোগী–মনোরোগবিশেষজ্ঞের জটিল জোনে ঢুকে পড়ে। এই টানাপোড়েনই গল্পটিকে আলাদা করে তোলে।
রোমান্স যেভাবে এখানে মানসিক সহিংসতা, শ্রেণিগত বিভাজন, সামাজিক শর্ত আর ব্যক্তিগত যন্ত্রণার সঙ্গে মিশেছে—সে কারণে ছবি শুধু প্রেমের গল্প নয়, বরং মানবিক দহন ও আরোগ্যের একটি যাত্রা।
Tere Ishk Mein সিনেমা কেন সফর ? মূল চালিকাশক্তি
ছবির শক্তি—
১. স্ক্রিনপ্লে ( স্ক্রিনপ্লে করেছেন হিমাংশু শর্মা ও নিরজ যাদব Himanshu Sharma ও Neeraj Yadav)
প্রথমার্ধ দর্শককে চেয়ারে গেঁথে রাখে—দ্রুত গতি, আবেগ, রহস্য। দ্বিতীয়ার্ধে সামান্য বিচ্যুতি থাকলেও, ছবি আবার শক্ত হয়ে দাঁড়ায় শেষের দিকে।
২. সঙ্গীত ( এআর রহমান A.R. Rahman)
এআর রহমান – এর সংগীত ছবির আবেগকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। ক্রমবর্ধমান আকুলতা, ব্যথা আর টানাপোড়েন—সবই সাউন্ডস্কেপে স্পষ্ট।
৩. অভিনয়
- ধনুশ Dhanush: রাঞ্ঝনা Raanjhanaa-র চরিত্র থেকে ভিন্ন, কিন্তু আবেগের ওঠানামা ধরতে তিনি অসাধারণ।
- কৃতি শ্যানন Kriti Sanon: তাঁর চরিত্র জটিল, layered—তিনি সেই ভার সহজেই বহন করেছেন।
- প্রকাশ রাজ Prakash Raj: শক্ত সমর্থ চরিত্র
- মহম্মদ জিশান আয়ুব Mohammad Zeeshan Ayyub: সংক্ষিপ্ত উপস্থিতিই ছবিকে রাঞ্ঝনা Raanjhanaa–র জগতের সঙ্গে সেতুবন্ধন করে।
এই সব মিলেই পশ্চিমবঙ্গেও ছবিটি নিয়ে আগ্রহ এখন তুঙ্গে।
Tere Ishk Mein Theme: অসম্পূর্ণতার মধ্যেই পূর্ণ তীব্রতা
‘তেরে ইশক মে’ নিখুঁত সিনেমা নয়। এই ছবিতে অনেক দুর্বলতা আছে। কিন্তু ছবির যেসব অংশ আঘাত করে, তা হৃদয়ের গভীরে গিয়ে লাগে। শেষ মুহূর্তে এসে ছবিটি আপনাকে মতামত দিতে বলে না—বরং আবেগের ঢেউয়ে ভাসিয়ে দেয়।
এটি ব্যবসায়িক সাফল্যের মতোই—রোমান্টিক তীব্রতারও জোয়ার। বলিউডে ইন্টেন্স লাভ স্টোরির ঢেউ যেন আবার ফিরে এসেছে, আর তার কেন্দ্রেই দাঁড়িয়ে ‘তেরে ইশক মে’ Tere Ishk Mein।















