এখন খবরমধ্যবঙ্গ নিউজপরিবেশবিনোদনহেলথ ওয়াচখেলাঘরে বাইরেলাইফস্টাইলঅন্যান্য

মাঠে ধানের গোড়া জ্বালিয়ে বিপদ ডেকে আনবেন না Save Nature Stop Burning Fields

Published on: November 25, 2021

জমির উর্বরতা তো বাড়েই না, গোড়া পোড়ানোয় ক্ষতি হয় জমির। কমে উর্বরতা। বাড়ে পরিবেশদূষণ। জমিতে বসবাসকারী বন্ধু পোকা, কেঁচো সকল প্রাণী কিন্তু মারা যায়। লিখলেন  পরিবেশকর্মী অর্ধেন্দু বিশ্বাস। 

শীতকাল আসলেই আমরা দেখতে পাই বায়ুতে কার্বন সহ বিভিন্ন দূষক কণার  পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে অধিক মাত্রায় এবং তার প্রধান কারণ শীতকালীন ফসলের গোড়ালি জ্বালানো। সারা বিশ্বের কার্বন নির্গমনের প্রায় দশ শতাংশের জন্য দায়ী হলো ফসলের গোড়ালি জ্বালানো। আমাদের রাজ্যের কৃষক সমাজের বেশিরভাগ কৃষক জানেনই  না, যে ফসলের গোড়া জ্বালানো  ভারতীয় পেনাল কোডের ১৮৮ ধারা এবং বায়ু ও বায়ুদূষণ আইন ১৯৮১ অনুযায়ী একটি অপরাধ। এই নিয়ে সরকারি বা বেসরকারি উদ্যোগে বিশেষ প্রচার বা সচেতনতা শিবিরও চোখে পড়ে না।

গ্রামের কৃষক সমাজ প্রাচীনকাল থেকেই তাদের প্রথাগত ধারণা অনুযায়ী এই ফসলের গোড়ালি জ্বালিয়ে জমি পরিষ্কার করে থাকে। এ বিষয়ে তাদের কয়েকটি ভুল ধারণাও রয়েছে তারা ভাবে ফসলের গোড়ালি জ্বালালে জমির উর্বরতা শক্তি বৃদ্ধি পাবে।

ফসলের গোড়া পোড়ানোয় ক্ষতি হয় জমির

কিন্তু আদতে জমির উর্বরতা শক্তি বৃদ্ধি অপেক্ষা জমির ক্ষতি বেশী হয়।জমিতে বসবাসকারী বন্ধু পোকা, কেঁচো সকল প্রাণী কিন্তু মারা যায়। এই ফসলের গোড়ালি জ্বালানোর সমস্যা সবচেয়ে যে সমস্ত রাজ্যে বেশি দেখা যায় সে গুলির মধ্যে হল পাঞ্জাব, উত্তর প্রদেশ, হরিয়ানা মহারাষ্ট্র প্রভৃতি।আমাদের রাজ্যেও এখন ধান থেকে শুরু করে বিভিন্ন ফসলের গোড়ালি জ্বালানো শুরু হয়েছে যথেচ্ছ পরিমাণে। এ বিষয়ে সচেতনতা ব্যাপক ঘাটতিও রয়েছে।

ফসলের গোড়ালি দহনের ফলে বায়ুতে কার্বন ডাই অক্সাইডসহ বিভিন্ন গ্রিন হাউস গ্যাসের পরিমাণ ব্যাপক পরিমাণে বেড়ে যায় ও জলবায়ু পরিবর্তনে অন্যতম মুখ্য ভূমিকা নেয়। সেই সাথে প্রচুর পরিমাণে ধূলিকণা ও কার্বন কণা বায়ুতে মিশে গিয়ে ধোঁয়াশা সৃষ্টি করে। ফলে একদিকে মানুষসহ সমস্ত প্রাণীকুলের শ্বাস নিতে যেমন কষ্ট হয়, অপরদিকে শীতকালীন ফসলের ক্ষতি হয়, অ্যাসিড বৃষ্টিতে ফসল, গাছপালা ও ইমারতের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়।

এখন প্রশ্ন হল কৃষকদেরকে এর থেকে বার করে আনার উপায়গুলি  কী কী ? প্রথমত, আমরা ফসলের গোড়ালি গুলোকে পচিয়ে জৈব সার হিসেবে ব্যবহার করতে পারি। দ্বিতীয়তঃ, ফসলের অবশিষ্টাংশকে গবাদিপশুর খাবার হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে। রোভারের সাহায্যে বা যেকোনো ভাবে ফসলের গোড়ালিগুলো মাটির সাথে মিশিয়ে মাটির জল ধারণ ক্ষমতা ও উর্বরা শক্তি বৃদ্ধি করতে ব্যবহার করা যেতে পারে।

রয়েছে বিকল্প ব্যবহারের সুযোগ

 

এছাড়াও সরকারি এবং বেসরকারি উদ্যোগে ফসলের অবশিষ্টাংশ থেকে বিভিন্ন প্রকার পরিবেশবান্ধব শিল্পজাত দ্রব্য উৎপাদন করে আমরা পরিবেশ দূষণের সমস্যা থেকে কিছুটা যেমন বেরিয়ে আসতে পারি, ঠিক তেমনি বেকার যুবক-যুবতীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দিতে পারি। সমস্ত শ্রেণীর মানুষের যৌথ প্রয়াসেই একটি সুস্থ পৃথিবী রচনা সম্ভব।

মতামত লেখকের নিজস্ব

Join WhatsApp

Join Now

Join Telegram

Join Now