Square Field ব্যারক স্কোয়ার পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে অ্যাকশন মোডে জেলা শাসক নীতিন সিংহানিয়া ( Nitin Singhania, IAS ) । রবিবার সকালে মাঠে নেমে নেতৃত্ব দিলেন ব্যারাক স্কোয়ার সাফাই অভিযানের । বহরমপুর শহরের ফুসফুস ব্যারাক স্কোয়ারকে পরিষ্কার রাখতে জানালেন আহ্বান । রবিবার সকাল থেকেই ব্যারাক স্কোয়ারে ছিল সাজ সাজ রব। সরকারি আধিকারিকদের সঙ্গে স্কোয়ার সাফাই অভিযানে হাত মেলালেন বহরমপুর পৌরসভার কর্মী থেকে , এনসিসি, এনএসএসের ছাত্রছাত্রীরা।
জেলা শাসক ছাড়াও এই কর্মসূচিতে ছিলেন এডিএম(জি) দীন নারায়ণ ঘোষ, এডিএম( ডেভলপমেন্ট) চিরন্তন প্রামাণিক, বহরমপুরের মহকুমা শাসক শুভঙ্কর রায়। ছিলেন বহরমপুর পৌরসভার ভাইস চেয়ারম্যান স্বরূপ সাহা। স্কোয়ার জুড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা প্লাস্টিক, চায়ের কাপ থেকে আবর্জনা করা হল পরিষ্কার। সকলে মিলে নেওয়া হল, বহরমপুর শহরের ফুসফুল ব্যারাক স্কোয়ার রক্ষার শপথ।
আরও পড়ুনঃ স্টেডিয়ামের সংস্কারে কী বললেন জেলাশাসক ?
Square Field কী আহ্বান জানালেন জেলা শাসক ?
এদিন সাফাই অভিযান শেষে জেলা শাসক বলেন, “ বহরমপুর পৌরসভার মাননীয় চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারন্যান এবং অন্যান্য কাউন্সিলারদের উদ্যোগে আজকে স্কোয়ার ফিল্ডে সাফাই অভিযানের ডাক দেওয়া হয়েছে। তার অংশ হিসেবে আমরা সবাই একত্রিত হয়েছি। এখানে জেলা প্রশাসন সহযোগিতা করছে যাতে স্কোয়ার ফিল্ড, স্টেডিয়াম এই সমস্ত খেলার যায়গা যাতে আরও পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকে। পরিকাঠামোর যে খামতি আছে সেগুলো পুরণ করার বিষয়টাও দেখা হচ্ছে । বিভিন্ন এনজিও, সামাজিক সংস্থা, এনএসএস, এনসিসি থেকে শুরু করে সিফিল ডিফেন্স ভলান্টিয়ার, পৌরসভার কর্মচারীরা আছে। সকলে হাত লাগাচ্ছেন । এই অভিযান চলবে। ১৬ নভেম্বর মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজে সাফাই অভিযান হবে” ।

এদিন শুরুতেই সকলে মিলে নির্মল মুর্শিদাবাদ বজায় রাখার শপথও নেওয়া হয়। শপথ নেওয়া শপথ শেষে জেলা শাসক নীতিন সিংহানিয়া বলেন, “ স্কোয়ার ফিল্ড শহরের ফুসফুস। এই সাফাই অভিযানে প্রত্যেকে অংশগ্রহণ করছেন। আমরা চাইছি আমাদের স্কোয়ার ফিল্ড আরও পরিষ্কার থাকুক। তার জন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আরও কিছু প্রচেষ্টা করা হবে” । তিনি আরও জানান, যারা এখানে হাঁটেন তাঁদের সুবিধার জন্য পরিকাঠামোর উন্নয়ন করা হবে। খেলাধূলোর মানোন্নয়নের প্রচেষ্টা করা হচ্ছে। সেই প্রচেষ্টার একটা অংশ এই সাফাই অভিযান। মানুষকে আরও সচেতন করতে হবে। এদিন স্কোয়ার ফিল্ডের সমস্যা নিয়ে খোঁজও নেন জেলা শাসক।

Square Field ইতিহাসে স্কোয়ার বহরমপুরের ফুসফুস
এই ব্যারাক স্কোয়ার বা স্কোয়ার ফিল্ডের সঙ্গে জড়িয়ে আছে ১৮৫৭ সালের সিপাহীদের বিদ্রোহের স্মৃতি। এই মাঠে বিদ্রোহী হয়ে উঠেছিল ব্রিটিশ সেনারাই। এই মাঠেই পালকি চড়ে গিয়ে ব্রিটিশের রোষে পড়েছিলেন তৎকালীন ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়। তবে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ও ছেড়ে কথা বলেন নি। । কর্নেল সাহেবরা ক্ষমা চাইতে বাধ্য হয়েছিল তাঁর কাছে। ১৯৪৭ সালের ১৫ অগস্ট আর ১৮ অগস্ট দুই দিন দুই দেশের জাতীয় পতাকা উড়েছিলে এই ব্যারাক স্কোয়ারেই।
তবে এই ব্যারাক স্কোয়ারের ইতিহাসের সন্ধান করতে গিয়ে ইতিহাস গবেষক বিজয়কুমার বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছিলেন, এক সময় জলমগ্ন থাকত এই এলাকা। ১৭৬৭ সালে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ৩ লক্ষ ২ হাজার ২৭০ পাউন্ড খরচ করে এই ব্যারাক স্কোয়ারের জন্য। মির জাফরের কাছ থেকে বহরমপুরে এই ৪০০ বিঘা জমির সনদ হিসেবে পেয়েছিল ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি। ১৭৬৩ সালে বাংলার তৎকালীন নবাব মির কাশিমের ইংরেজদের যুদ্ধর পর ব্রিটেশরা এই জমিতে ব্যারাক তৈরির সিদ্ধান্ত নেয়।
জানা যায়, ১৭৬৫ সালে বহরমপুরের ব্যারাক লন্ডন থেকে অনুমতি পৌঁছয় আসে । প্রধান ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কর্নেল এ ক্যাম্ববেলকে নিয়োগ করা হয় । তিনিই ১ লক্ষ ৯৩ হাজার ৬০০ বর্গগজ আয়তনের এই বর্গাকার মাঠের চার পাশে প্রশাসনিক ভবন, আধিকারিকদের বাসভবন এবং সেনা ব্যারাক তৈরি করার কারিগরি পরিকল্পনা করেন । সেই সময়েই মাঠের চারপাশে লাগানো হয় রেনট্রি।
ইতিহাসের ব্যারাক স্কোয়ার আধুনিক শহরেরও অন্যতম প্রাণ কেন্দ্র। সকাল হোক বা সন্ধ্যা, স্কোয়ার ফিল্ডই শহরের মানুষের কাছে অক্সিজেন নেওয়ার ঠিকানা। কেউ হাঁটেন, কেউ শরীর চর্চা করেন। সেই স্কোয়ারকেই পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে জেলা প্রশাসনের এই উদ্যোগে খুশি শহরের মানুষও।















