মৎস্য দফতরের রিপোর্ট, মাছের মৃত্যু অক্সিজেনের ঘাটতিতেই
নিজস্ব প্রতিবেদনঃ সোনারুন্দি (Sonarundi) রাজবাড়ি বা বনওয়ারিবাদ রাজবাড়ির (Banwaribaad Raajbari) পুকুরে মাছের মৃত্যুতে অক্সিজেনের ঘাটতিই মূল কারণ। জল দূষিত হয়েই মাছের মৃত্যু হয়েছে বলে মনে করা হছে। এখনও পর্যন্ত মৎস্য দফতরের রিপোর্ট সেরকমই।
আরও পড়ুনঃ Sonarundi Rajbari সোনারুন্দি রাজবাড়ির বিশাল বিশাল সব মাছের একি পরিণতি !
গত মঙ্গলবার বিকেল থেকে ভরতপুর দু’নম্বর ব্লকে বনওয়ারিবাদ রাজ পরিবারের পুকুরে বড় রুই কাতলা মাছ ভেসে ওঠে। ২০ থেকে ৩০ কেজি ওজনের রুই, কাতলাও ছিল। ১৫ টি মাছের মৃত্যু হয়েছে। মোন্থা ঘূর্ণিঝড়ের জেরে কয়েকদিন আবহাওয়ার পরিবর্তন হয়। বৃষ্টিও হয়েছে। তাতে কোনও সমস্যা হতে পারে। কম পরিমাণ জলে বেশি সংখ্যায় মাছ থাকার ফলে অক্সিজেনের ঘাটতির মতো কারণ এর নেপথ্যে উঠে এসেছে। স্থানীয়দের বিশ্বাস অনুযায়ী ওই পুকুরে মাছ ধরা হয় না। ফলে মাছের পরিবর্তন হয় না। যার ফলে জল দূষিত হচ্ছে। মৎস্য দফতরের পরামর্শ, জলে বিশেষ মেশিন ‘এরেটর’ লাগিয়ে পাখার সাহায্যে জলে প্রবাহ তৈরি করা হোক। যা মাছের জন্যে ভালো হবে।

Sonarundi Fish ভরতপুর দুই নম্বর ব্লকের ফিশারি এক্সটেনশন অফিসার মুজাহিদ আলি শনিবার জানিয়েছেন, আবহাওয়ার পরিবর্তনের জন্যে অক্সিজেনের ঘাটতি দায়ী। ‘এরেটর’ লাগালে জলে অক্সিজেনের জোগান বেশি হবে। ঘটনার পর সোনারুন্দি রাজবাড়ির ম্যানেজার ধনঞ্জয় চট্টরাজ জানিয়েছিলেন, আগেও বহু মাছের মৃত্যু ঘটেছে। মঙ্গলবার বিকেলের পর বুধবার সকালেও মাছ ভেসে উঠেছে। ঘটনার পরও মৎস্য দফতরের তরফে অক্সিজেনের ঘাটতিকেই প্রাথমিক কারণ, মনে করা হয়েছিল।
আরও পড়ুনঃ Rejinagar Assembly হুমায়ুনের হুঙ্কারে হটসিট রেজিনগর ?
এলাকাবাসীরা জানিয়েছেন, এই রাজবাড়ি দেখতে অনেক পর্যটক আসেন। প্রতিদিন আসেন। তাঁদের কাছে এই পুকুর ঐতিহ্যের। স্থানীয়দের বিশ্বাস অনুযায়ী এখানে কেও মাছ ধরেন না। বরং প্রতিবার মাছের চারা ছেড়ে দেওয়া হয়। মাছের ব্যবসায়ীরা ভালো লক্ষণের বিশ্বাসে নতুন করে মাছ ছাড়েন। ফলে প্রতিবারই মাছ সেখানে সংখ্যায় বাড়ে। পুকুরটির আয়তনও খুব বড় নয়।
রাজবাড়ির ম্যানেজার বলেন,মঙ্গলবার বিকেলের দিকে দেখলাম পুকুরের মাছ ভাসছে। সেসময় মাছের এক ব্যবসায়ীও ছিলেন। রাজবাড়ির সম্পত্তি যাদেরকে লিজ দেওয়া হয়েছে, তাঁদের মধ্যে তিনি অন্যতম। তাঁরা বললেন, ‘পটাসিয়াম পারমাঙ্গানেট’ দিলে ঠিক হয়ে যাবে বলা হয়। ওই ওষুধ সকালে দেওয়া হয়েছে। তবে ওই ওষুধ দেওয়ার পরে স্থিতিভাব এসেছে। আগে মাছগুলির যে ছটফটানি ভাব ছিল সেটি কেটে গিয়েছে। প্রতি বছর মাছের মৃত্যু হয়। তবে একসঙ্গে এতো মাছের মৃত্যু আমরা দেখিনি। আগে এই মাছের শেষকৃত্য হতো গঙ্গায়। এখন আর তা হয় না। এখন পুকুরের পাড়ে পুঁতে দেওয়া হয়। পর্যটকরা অনেকেই সেদিন ওই ঘটনার পরে জানিয়েছিলেন, মাছ মরার ওই ঘটনা খুব কষ্টের। ওই মৃত মাছের কোনও নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে কি না, বা তার রিপোর্ট এসেছে কি না সে বিষয়ে এখনও কিছু জানা যায়নি।

Sonarundi Rajbari Fish এই রাজবাড়ি এক সময় গমগম করতো। ৫৪ বিঘে জমির উপর এটি অবস্থিত। এখানে বাংলার দ্বিতীয় বৃন্দাবন গড়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। ভগ্নদশায় থাকা এই রাজবাড়ি দেখতে অনেকদূর থেকে অনেকে আসেন। এই বিষয়ে মৎস্য গবেষক সূর্যেন্দু দে জানিয়েছেন, এটা রক্ষণশীল পুকুর। অনেকের পরম্পরা বিশ্বাস রয়েছে। এখানে কেও হস্তক্ষেপ করতে চায় না। কোনও কারণে কার্বন ডাই অক্সাইড বেড়ে যাওয়া, জলে পিএইচের মাত্রার তারতম্যের কারণে, অক্সিজেনের ঘাটতিতে এটা ঘটতে পারে।










