Sachin Mondal Cricket Exclusive: পবিত্র ত্রিবেদী, মধ্যবঙ্গ নিউজঃ বহরমপুরের ব্লকের ভাকুড়ির সচিন মণ্ডল ছোট থেকেই স্বপ্ন দেখতেন ক্রিকেটার হবেন। জাতীয় দলে খেলার খোয়াব পূরণ না হলেও মহিলা ক্রিকেট বিশ্বকাপ জয়ী ভারতীয় দলের India Women’s Cricket Team সঙ্গে ভাগ করে নিয়েছেন বিশ্বজয়ের গর্ব। ‘থ্রোডাউন স্পেশ্যালিস্ট’ সচিন রিচা ঘোষ, জেমাইমা রডরিগেজ, স্মৃতি মান্ধানাদের থ্রো ডাউন কোচিং করিয়েছেন দিনের পর দিন ।
আরও পড়ুনঃ Murshidabad Womens Cricket: মহিলা ক্রিকেট টিম বিশ্বকাপ ফাইনালে, পথ দেখাবে জেলায়?
গত সাড়ে তিন বছর ধরে ভারতীয় টিমের সঙ্গে কাজ করছেন। এই সচিন বুঝিয়ে দিয়েছেন , কোনও জায়গায় ব্যর্থ হওয়া মানে ভেঙে পড়া নয়। নতুন উদ্যমে পথ খুঁজে নেওয়া। সচিন মণ্ডল শনিবার সন্ধ্যায় বাঙ্গালোর থেকে ফোনে মধ্যবঙ্গ নিউজকে একান্তে জেলায় তাঁর পরিকল্পনা জানিয়েছেন। কথা বলেছেন বিশ্বকাপ জয় নিয়ে ।
Sachin Mondal Cricket গ্রামে বিনা পয়সায় ইংরেজি শেখানোর স্কুল
গ্রামের শিশুরা ইংরেজি শিখুক, চাইছেন সচিন। তাই জানাচ্ছেন, ”আমি গ্রামে বিনা পয়সায় শিক্ষার ব্যবস্থা করছি। জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু করে দেবো। গ্রামের যে স্কুল আছে সেখানেই ক্লাস হবে বিকেল ৪ টে থেকে সন্ধ্যা ৬ টা পর্যন্ত। আমার মনে হয় ইংরেজি শেখাটা খুব জরুরি”।
Sachin Mondal Cricket গ্রামে ক্রিকেট আকাডেমি
একইসঙ্গে মধ্যবঙ্গ নিউজকে একান্তে জানালেন, গ্রামেই তৈরি করতে চান ক্রিকেট অ্যাকাডেমি। বলেছেন “ আমি কোনও তহবিল পেলে উন্নত মানের অনুশীলনের ব্যবস্থা করবো। ভালো কোচ থাকবেন । অবশ্যই ওখান থেকে বড় জায়গায় ক্রিকেট খেলবে ছেলেরা। সুযোগ পেলে করবো। কেও মাঠ দিলে, আর্থিক সাহায্য করলে গ্রামে একটা ক্রিকেট অ্যাকাডেমি তৈরি করবো। আমার গ্রাম ভাকুড়ি থেকে ২ কিমি দূরে বোয়ালিয়াডাঙ্গা” । সচিন বলছেন, গ্রামে গঞ্জে মেয়েদের ক্রিকেটে উন্নতির জন্যে পরিকাঠামোগত সুযোগ দরকার।
Sachin Mondal Cricket বেড়ে ওঠা
সচিন জানাছেন নামের সঙ্গেও জড়িয়ে আছে ক্রিকেট। বলেছেন , “ বাবা আর্মিতে ছিলেন। বাবার সহকর্মীর সচিন টেন্ডুলকারের নাম থেকেই আমার নাম রেখেছেন। ছোট থেকে ভাবতাম সচিনের মতো হব” ।
জানিয়েছেন, “ কলকাতায় সুযোগ না পেয়ে বাঙ্গালোরে এসেছিলাম। খেলোয়াড়দের অনুশীলন করাতাম। সেখানে ওখানে অনেক বড় খেলোয়াড় আসতেন। ন্যাশনাল ক্রিকেট অয়াকাডেমিতে আমাকে ডেকেছিল। ট্রায়ালে পাশ করি। ওখান থেকে জার্নি শুরু” ।
Sachin Mondal Cricket বাঙ্গালোর জার্নি, জেদ

জেদ ছিল সচিনের সম্বল। বলছেন, “ মূল কথা হচ্ছে হার না মানা মানসিকতা। কোথাও মনে হয়েছিল এটা আমার দ্বারা সম্ভব। সেজন্যে এই কাজটিকে আমি বাছাই করেছিলাম।” আইসিসি ওমেন্স ক্রিকেট ওয়ার্ল্ড কাপের লোগ দেওয়া টিম ইন্ডিয়ার যে ভিডিও এখন ভাইরাল। তাতে ক্রিকেটার দীপ্তি শর্মা বলছেন, এই জয়ের নেপথ্যে থাকা তিনজনের কথা, ফ্রেমে তিনজন। উজ্বল সচিন মণ্ডল । ভিডিওতে দীপ্তি বলছেন, আপনারা তো আমাদের ক্রিকেট দেখেছেন। সঙ্গে উদযাপন ও দেখেছেন। আমি আপনাদের বলব পর্দার পিছনে থাকা তিন জনের কথা। যারা অত্যন্ত পারদর্শী। এরপরেই সচিনের কাঁধে হাত দিয়ে বলেন, ‘সচিন ভাই, নরেশ ভাই ও ক্রান্তি আন্না।’ তিনজন পৃথক, পৃথক বল করেন। লেগ স্পিন, বাউন্সার যাই হোক না কেন? আমাদের শর্টের উন্নতি করতে এই তিন জন সাহায্য করে। আপনাদের ধন্যবাদ।
Sachin Mondal Cricket এই সচিনের যাত্রায় জড়িয়ে মুর্শিদাবাদ
বহরমপুর ব্লকের সচিন স্টেডিয়ামে দৌড়তেন। খেলতেন। তবে প্রশিক্ষণের জন্যে চলে গিয়েছিলেন জিয়াগঞ্জ-আজিমগঞ্জ ক্রিকেট আকাদেমিতে। ঋণ ভোলেননি মুর্শিদাবাদ জেলার ছেলে সচিন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে দিল্লিতে টিম ইন্ডিয়ার যে সাক্ষাৎ হয়েছে। সেখানেও তিনি ছিলেন। এরপর জিয়াগঞ্জ শহরে হুডখোলা জিপে ঘোরানো হয় সচিনকে । ছিল মোবাইলে ছবি তোলার হিড়িক। গাড়ির আগে পিছনে পাইলট কার। সমর্থকের উচ্ছ্বাস। সব খেলোয়াড়ের মতো এই স্বীকৃতিই তো চেয়েছিলেন সচিন।
Sachin Mondal Cricket ক্রিকেটে প্রথমবার বিশ্বকাপ জিতেছে ভারতের মেয়েরা। যে স্বপ্ন অধরা থেকে গিয়েছে ঝুলন গোস্বামী, মিতালি রাজদের। এরপর মেয়েরা ক্রিকেট খেলতে আরও অনেক বেশী উৎসাহিত হবেন, আশাবাদী সচিন ।
টিভি খুললেই লিটল মাস্টারকে নিয়ে গ্যালারি থেকে ভেসে আসা সচিন-সচিন ধ্বনিই তো তাঁকে ঘুমোতে দিত না। ভারতে প্রতি বছর লক্ষ-লক্ষ ক্রিকেটার দেশকে গর্বিত করার স্বপ্ন দেখেন। কিন্তু স্বপ্ন ছুঁতে পারেন ক’জন। সেই স্বপ্ন ছুয়েছেন মুর্শিদাবাদের সচিন। তাঁর ছোটবেলার কোচ বিধানচন্দ্র সরকারের কথায়, ও খুব পরিশ্রমী। তা ওকে লক্ষ্যে পৌঁছে দিয়েছে। ওর একটিই মানসিকতা, হার না মানা মানসিকতা। কোনও দিন হারেনি। আজকে তাই এই সাফল্য।















