নিজস্ব প্রতিবেদনঃ মঙ্গলবার বিকেলে ‘মুখর’ হল মুর্শিদাবাদ জেলা সাংবাদিক সঙ্ঘ। উদযাপন হল ‘মেঘে ঢাকা তারা’র স্রষ্টার জন্ম শতবর্ষ। গানে, কবিতায় ছড়িয়ে পড়লেন ঋত্বিক ঘটক (Ritwik Ghatak)। তিনি যখন প্রয়াত হন ১৯৭৬ সালে, এদিনের অনুষ্ঠানে থাকা বেশীরভাগ দর্শকের তখন জন্ম হয়নি। সেই সব নবীনরা ঋত্বিক স্মরণে এদিন মুখ্য। যা দেখে মুগ্ধ জেলার বিশিষ্ট চিত্রশিল্পী কৃষ্ণজিৎ সেনগুপ্ত।

Ritwik Ghatak Berhampore ঋত্বিকের শতবর্ষে সিকি শতকের বয়সের এই উপস্থিতিকে ‘ভালো লক্ষণ’ বলে জানান এই শিল্পী। তাঁর কথায়, ঋত্বিক ঘটক বাঙালিদের মধ্যে অত্যন্ত প্রতিভাবান মেধা। প্রবন্ধ, নাটক নিয়ে কাজ করলেও সিনেমার জন্যেই সবাই তাঁকে চেনেন। তাঁকে নিয়ে মূলত ‘এলিট’ গোষ্ঠীকে চর্চা করতে দেখে যায়। অথচ তিনি যাদের নিয়ে কাজ করেছেন সেসব ছিন্নমূল মানুষ কতটা ঋত্বিক এর সিনেমা দেখেছেন জানা নেই। এই অনুষ্ঠানে আমি দেখলাম অর্ধেকের বেশী ২৫ এর নীচে ছেলে মেয়েদের। ‘মুখর’ এর এই উদ্যোগ ভালো লক্ষণ। সাধারণ ঘরের ছেলে মেয়েদের নিয়ে তাঁরা কাজ করছে।
আরও পড়ুনঃ Smart Phone Film Berhampore: মোবাইলে করবেন সিনেমা?
Ritwik Ghatak Berhampore অনুষ্ঠানে ঋত্বিক ঘটকের ছবিতে মালা দিয়ে শ্রদ্ধা জানান কৃষ্ণজিত সেনগুপ্ত। ছিলেন উদ্যোক্তা মনীষা সরকার, সৃজনী সাহা, সুব্রত মন্ডল। অনুষ্ঠানে সুকান্ত ভট্টাচার্যের কবিতা আবৃত্তি করে দেবার্ঘ দত্ত, সিনেমা ‘মেঘে ঢাকা তারা’র যে রাতে মোর দুয়ারগুলি ভাঙল ঝড়ে গান গেয়ে শোনায় শ্রেয়সী বর্মন। নাচের অনুষ্ঠানও হয়। আগের দিন লিয়াকত হোসেন হলে অনুষ্ঠান হয়েছে। এদিন তার পুরস্কার বিতরণ ছিল।
Ritwik Ghatak Berhampore ঋত্বিক ঘটকের সঙ্গে বহরমপুর (Berhampore) শহরের গভীর যোগাযোগ। তিনি কৃষ্ণনাথ কলেজ থেকে ইংরেজি অনার্স নিয়ে স্নাতক হন। এছাড়া তাঁদের পারিবারিক বসবাসও এই শহরের সঙ্গে জড়িয়ে। তাঁর নামে ঋত্বিক সদন। সত্যজিৎ রায়, মৃণাল সেন, ঋত্বিক ঘটককে ভারতের সর্বকালের সেরা পরিচালক ত্রয়ী বলা হয়। চিত্রশিল্পীর কথার সূত্র ধরে প্রশ্ন, তাঁর সিনেমা প্রান্তিক সেই সব মানুষের কাছে আদৌ কি পৌঁছেছে? ছিন্নমূল মানুষদের কাছে তিনি কি ‘মেঘে ঢাকা তারা’ হয়েই থেকে যাবেন?










