Rejinagar Assembly এখনও বিধানসভা ভোটের দিন ঘোষণা হয় নি। তার আগেই মুর্শিদাবাদে রেজিনগরে যেন ভোট-ভোট উত্তাপ। অন্তত নেতাদের ভাষণে মনে হচ্ছে সেরকমটাই। কার্যত হটসিট হয়ে দাঁড়াচ্ছে রেজিনগর। ২০১১ সালে নওদা ভেঙে তৈরি হওয়া রেজিনগর বিধানসভার প্রথম বিধায়ক ছিলেন হুমায়ুন কবির। সেবার হারিয়েছিলেন বামফ্রন্টের সিরাজুল ইসলাম মণ্ডলকে। হুমায়ুনকে সমর্থন করেছিল তৃণমূল কংগ্রেসও। কংগ্রেসের সঙ্গে আসন বোঝাপড়ায় ওই আসনে প্রার্থী দেয় নি তৃণমূল। ২০২৬ সালের নির্বাচনেও কি হুমায়ুনের টার্গেট রেজিনগর ? হুমায়ুনের দাবি শুনে মনে হচ্ছে সেটাই।
Rejinagar Assembly ফের রেজিনগর নিয়ে কী দাবি হুমায়ুনের ?
শনিবার বহরমপুরের বাড়িতে বসে হুমায়ুন কবির ফের দাবি করেছেন , তিনি রেজিনগরে ভোটে লড়বে। হুমায়ুন বলেছেন, “ ২২শে ডিসেম্বর বহরমপুর টেক্সটাইল মোড়ে সভা করে নতুন দল ঘোষণা করবো। আমিই সেই দলের চেয়ারম্যান। আমি রেজিনগর থেকে দাঁড়াবো এবং রবিউল আলম চৌধুরীকে ৩০ হাজার ভোটে হারাবো চ্যালেঞ্জ করছি”। এর জবাব হুমায়ুন কবিরকে কটাক্ষ করেছেন রবিউল আলম চৌধুরী। রবিউল বলেছেন, “ আগে উনি বলছিলেন ১ লাখ ভোটে জিতবেন। এখন ৩০ হাজার বলছেন। ২২ তারিখ আসতে আসতে মাইনাস পঞ্চাশ হাজার বলবে নাকি সেটা শুনতে চাইছি” ।
Rejinagar Assembly রেজিনগরের বিধায়কের দাবি, মমতা ব্যানার্জি ছাড়া নতুন দল গড়ে কেউ সফল হন নি। তাই হুমায়ুনের নতুন দলকে গুরুত্ব দিতে চান নি তিনি। মুখে এই কথা বললেও, রেজিনগরের রাজনীতি যথেষ্ট জটিল পর্যায়ে দাঁড়িয়ে। রেজিনগরের বেশ কিছু তৃণমূল নেতা হুমায়ুনের একান্ত অনুগত বলেই পরিচিত। হুমায়ুন দল ছাড়লে তাঁরা কোন দিকে যাবেন ? সেই প্রশ্নও রয়েছে।
মুর্শিদাবাদ জেলার রাজনীতিতে এক বর্ণময় চরিত্র হুমায়ুন কবির। এই রেজিনগরেই কংগ্রেস দল থেকে রাজনীতিতে উত্থান। জেলা পরিষদ সদস্যও হন। অধীর চৌধুরীর Adhir Chowdhury অনুগামী হিসেবেই পরিচিত ছিলেন। ২০১১ সালে রেজিনগর থেকে কংগ্রেসের টিকিটে বিধায়ক হন । তবে এরপর কংগ্রেসের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের অবনতি ঘটে। ২০১২ সালের ২০ নভেম্বর কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূলে যোগদান করেন হুমায়ুন কবির। সেবার বিধায়ক পদ থেকে ইস্তফাও দেন তিনি ।
Rejinagar Assembly ২০১৩ সালে ইস্তফা দিয়ে রেজিনগরে লড়েন হুমায়ুন
সঙ্গে সঙ্গেই হুমায়ুন কবিরকে প্রতিমন্ত্রী করে তৃণমূল । প্রাণিসম্পদ বিকাশ দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী হন হুমায়ুন কবির । প্রতিমন্ত্রী থাকতে গেলে তো জিতে আসতে হবে। তাই ২০১৩ সালে তৃণমূলের টিকিটে উপনির্বাচনে লড়েন হুমায়ুন কবির। সেবার উপনির্বাচনে হেরে যান হুমায়ুন কবির। কংগ্রেসের টিকিটে জিতে রেজিনগরের বিধায়ক হন রবিউল আলম চৌধুরী। তৃতীয় হন হুমায়ুন কবির। হুমায়ুনের যায় মন্ত্রিত্ব । সেবার বেশদিন তৃণমূলে থাকেন নি।
মন্ত্রিত্ব চলে যাওয়ার পর জেলা তৃনমূলের নেতা হিসেবে কাজ শুরু করেন তিনি। তবে শুরু হয় তৃণমূল নেতৃত্বের সঙ্গে মনোমালিন্য শুরু হয় হুমায়ুনের । ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে তৃণমূল থেকে বহিষ্কৃত হন হুমায়ুন কবির। তিনি বারবার বলেছেন, ২০১৫ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি তাঁকে বিনা নোটিশে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল।
Rejinagar Assembly ২০১৬ সালেও রেজিনগরে লড়েছিলেন হুমায়ুন
২০১৬ সালে বিধানসভা নির্বাচনে রেজিনগর আসন থেকে নির্দল হিসেবে ভোটে দাঁড়ান হুমায়ুন । সেই আসনে প্রার্থী দেয় কংগ্রেস, তৃণমূল দুই দল। তারপর আবার যোগদান করেন কংগ্রেসে। ২০১৮ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনে কংগ্রেসের হয়ে ময়দানেও নেমেছিলেন হুমায়ুন কবির। কংগ্রেসে মন না টেকায় ২০১৮ সালের জুন মাসে বিজেপিতে যোগদান করেন । ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে মুর্শিদাবাদ কেন্দ্র থেকে বিজেপির’র টিকিটে লড়েছেন হুমায়ুন। তবে ২০১৯ এর ডিসেম্বরে আবার বিজেপির সঙ্গে সম্পর্ক ত্যাগ করেন তিনি । মাস আটেকের বিরতির পর আবার যোগা দেন তৃনমূলে। হুমায়ুন কবিরের বার বার এই রং বদল- নিয়ে বিরোধী শিবিরে ওঠে সমালোচনার ঝড়। তবে সেসবে পাত্তা দেন নি হুমায়ুন কবির।
Rejinagar Assembly ২০২১ সালে হুমায়ুন লড়েন ভরতপুর থেকে
২০২১ সালে ভরতপুর বিধানসভা কেন্দ্রে তৃণমূল প্রার্থী করে তাঁকে। কংগ্রেসকে হারিয়ে জেতেন হুমায়ুন। কিন্তু তারপরেও হুমায়ুনকে সামলাতে নাজেহাল তৃণমূল। লোকসভা নির্বাচনে ইউসুফ পাঠানকে নিয়ে আপত্তি জানিয়েছিলেন হুমায়ুন কবির। পরে যদিও ইউসুফের ভোট প্রচারে শামিল হয়েছিলেন। ২০২৫ এর শীতে পড়তেই কি নতুন চমকে দেবেন হুমায়ুন ? সেদিকে নজর রয়েছে সব পক্ষের। তার আগেই রেজিনগর নিয়ে ফের ময়দানে হুমায়ুন।










