রেল লাইনের ধারে উচ্ছেদ ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য ভগবানগোলায়
নিজস্ব প্রতিবেদনঃ পদ্মার ভাঙন কেড়েছে বাড়ি-ঘর। সেই সব ভূমিহীন পরিবার কয়েক দশক ধরে বাস করছিলেন মুর্শিদাবাদ (Murshidabad) জেলার ভগবানগোলা রেল স্টেশন (Bhogobangola Railstation) সংলগ্ন রেলের জমিতে। যেভাবে এখন লালগোলার তারাপুর বা শামসেরগঞ্জে ভাঙনে সব খুইয়ে স্কুলে, অস্থায়ী শিবিরে আশ্রয় নিয়েছেন অনেকে। কোনও নেতা বা প্রশাসনের তদারকিতে তাঁদের এখনকার এই আস্তানা। তবে তা যে কতো ঠুনকো ভাঙন কবলিত এলাকার বাসিন্দাদের ফের সব হারানোর উচ্ছেদ নোটিস চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল। রুখে দাঁড়ালেন অসহায় মহিলারা। মঙ্গলবার উচ্ছেদ অভিযান ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়াল।
আরও পড়ুনঃ Murshidabad News চেক মিলেছে ,এরপর! কী চাইছে পরিযায়ী শ্রমিকদের পরিবার?

Murshidabad Rail Encroachment ঠিক যেভাবে প্রতিবার ভোট এলে এই পরিবারগুলিকে ভাঙন রোধে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়। নির্বাচন ফুরোলে আবার পরের ভোটের জন্যে অপেক্ষা! সাহাপুর থেকে রেল স্টেশন পর্যন্ত দেড়শো পরিবারকে উচ্ছেদের নোটিস দেওয়া হয়। সেই সময় পেরনোয় এদিন জেসিবি নিয়ে হাজির হয় রেল পুলিস। সব খোয়ানোর আতঙ্কে বাধা দিলেন অসহায় মহিলারা। তাঁদের বাড়ির ছেলেরা পরিযায়ী শ্রমিক। কেও নেই। যাঁদের অনেকেই বৃদ্ধা। ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের দাবি জানান তাঁরা। কান্নায় ভেঙে পড়েন। যেন ফের ভাঙন আতঙ্ক তাড়া করছে তাঁদের।

Murshidabad Rail Encroachment রেল লাইনের ধারে বসবাস করছেন দীর্ঘদিন ধরে। উঠে যাওয়ার নির্দেশ দেয় রেল কর্তৃপক্ষ। না ওঠায় এদিন উচ্ছেদ অভিযান চালায় রেল। যে অভিযান ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়াল ভগবানগোলায়। এদিন সকালে ভগবানগোলার বেলিয়া শ্যামপুরে ১৬৫ নম্বর রেলগেটে রেল পুলিশের পক্ষ থেকে শুরু হয় উচ্ছেদ অভিযান। বিশাল পুলিশবাহিনীর উপস্থিতিতে অভিযান শুরু হলেই প্রতিবাদে সরব হন বাসিন্দারা। ঘটনাস্থলে যান স্থানীয় বিধায়ক থেকে জেলার বস্তি উন্নয়ন সমিতির নেতৃত্ব। অভিযোগ, যাঁদের উচ্ছেদ করা হয়েছে, তাঁরা প্রায় ২৫ থেকে ৩০ বছর ধরে বসবাস করছেন। পদ্মা নদীর ভাঙনে আখরীগঞ্জ অঞ্চলের নির্মলচর, টিকলিচর ও সংলগ্ন গ্রাম থেকে এই এলাকায় আশ্রয় নিয়েছিলেন। স্থানীয়দের দাবি, অধিকাংশ বাড়ির কর্তারা পরিযায়ী শ্রমিক। রেল কর্তৃপক্ষ প্রায় এক সপ্তাহ আগে নোটিশ জারি করলেও, পুনর্বাসনের কোনও ব্যবস্থা করেনি।
Murshidabad Rail Encroachment স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, পুনর্বাসনের ব্যবস্থা না করে এই উচ্ছেদ অমানবিক। বাসিন্দা রেখা বিবি বলেন, আমরা এখানে ২৫ বছর বাস করছি। ৯ দিন আগে আরপিএফ এসেছিল। নোটিস দিয়ে বলে যায় এক সপ্তাহের মধ্যে উঠতে হবে। না হলে সব জিনিসপত্র নিয়ে চলে যাব। আমাদের কিচ্ছু নেই। আমরা ভাঙন থেকে এসেছি। আনেজা বিবি বলেন, ২৮ বছর এখানে আছি। আখরিগঞ্জ থেকে এসেছিলাম। এখানে ভাঙতে এসেছিল। আমরা গরীব মানুষ । কিছু নেই আমাদের। বসবাসের জায়গা চাইছি।আরেকজন মাজেরা বেওয়া বলেন, আমার স্বামী নেই। দুই ছেলে কাজের জন্যে বাইরে থাকে। তাদের নাবালক ছেলেরা রয়েছে। তাদের নিয়ে কোথায় যাবো? সুলেখা বিবি বলেন, আমি অসুস্থ। ছেলেদের নিয়ে কোথায় যাবো? ২৭ বছর এখানে বাস করছি।
Murshidabad Rail Encroachment ভগবানগোলার বিধায়ক রেয়াত হোসেন সরকার স্থানীয়দের সঙ্গে এবং রেল কর্তৃপক্ষর সঙ্গে কথা বলেন। রেল কর্তৃপক্ষের দিকেই অভিযোগের আঙুল তোলেন। ঘটনাস্থলে তিনি বলেন, “ভগবানগোলা রেল স্টেশনে কোনও উন্নয়ন হয় না। বৃষ্টিতে ভিজে , তীব্র রোদে ভোগান্তি যাত্রীদের। কোনও শৌচাগার নেই। হাজার হাজার লোকের আনাগোনা এই স্টেশনে। ডিআরএমকে একাধিকবার জানিয়েও কোনও সুরাহা হয়নি।”
পশ্চিমবঙ্গ বস্তি উন্নয়ন সমিতির জেলা সম্পাদক, সভাপতিরা উচ্ছেদ অভিযানের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ান এদিন। সাহাপুর থেকে ভগবানগোলা রেল স্টেশন পর্যন্ত লাইনের ধারে প্রায় ১৫০ পরিবার আছে। এই দেড়শো পরিবারই পরিযায়ী শ্রমিক। তবে প্রশ্ন উঠছে, রাজ্য নো অবজেকশন (NOC)না দিলে কীভাবে কাজের সম্মতি পাবে রেল? উল্লেখ্য, এই বিষয়ে এদিন রেলের বক্তব্য জানা যায়নি।










