চিন্তা মুর্শিদাবাদ সীমান্তে
Sheikh Hasina: পদ্মার ওপার। অগ্নিগর্ভ বাংলাদেশ (Bangladesh)। বাংলাদেশের ‘প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী’ শেখ হাসিনার (Sheikh Hasina) মৃত্যুদণ্ডের রায় দিয়েছে মহম্মদ ইউনুসের (Md Yunus) ‘অন্তর্বর্তী সরকারের’ অধ্যাদেশে তৈরি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। ২০২৪ সালের ‘জুলাই গণহত্যার’ দায়ে এই রায়। সোমবার এই রায়ের পর থেকে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে বাংলাদেশ জুড়ে। বিকেলের পরে ধানন্ডি সহ রাতে বাংলাদেশের একাধিক জায়গায় বিস্ফোরণ হয়েছে। হাসিনার দল আওয়ামি লিগের সদস্যদের সঙ্গে জামায়াতের সমর্থকদের সংঘর্ষ শুরু হয়েছে বিভিন্ন জায়গায়। মঙ্গলবারও উত্তেজনা বজায় আছে। আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে স্কুলে, বাসে। যার ফলে চিন্তা বাড়ছে মুর্শিদাবাদ সহ রাজ্যের সীমান্ত নিয়ে।

আরও পড়ুনঃ Sheikh Hasina Order “আল্লাহ আমাকে জীবন দিয়েছেন”- হাসিনার অডিও বার্তা
Sheikh Hasina: তথ্য অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে ২২১৬ কিমি সীমান্ত রয়েছে বাংলাদেশের। তার মধ্যে মুর্শিদাবাদের সঙ্গে রয়েছে ১২৫ কিমি সীমান্ত। তার মধ্যে ৪২ কিমি স্থল সীমান্ত। ৮৩ কিমি জল সীমান্ত। বাংলাদেশের কুষ্ঠিয়া, নবাবগঞ্জ, রাজশাহি মুর্শিদাবাদ সীমান্তে।
Sheikh Hasina ২০২৪ সালে জুলাই-আগস্টে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনকে কেন্দ্র করে উত্তাল হয়েছিল বাংলাদেশ। বিশেষ করে বিক্ষোভের জেরে ওই বছর ৫ আগস্ট হাসিনা বাংলাদেশ ছাড়ার পরে সীমান্তে অনুপ্রবেশের চেষ্টা বেড়েছিল। ‘অন্তর্বর্তী সরকারের’ প্রধান উপদেষ্টা ইউনুসের জমানায় পাকিস্তানের সেনা কর্তাদের যাতায়াত বেড়েছে বাংলাদেশে। যা নিয়ে সতর্কতা বেড়েছে সীমান্তে। সামনেই বাংলাদেশের সাধারণ নির্বাচন। উত্তেজনা বাড়ছিল। তার আগে এই রায়ের ফলে বিশৃঙ্খলা চরমে বাংলাদেশে।
Sheikh Hasina শান্তির’ নোবেল পাওয়া মহম্মদ ইউনুসের জমানায় সে দেশে ভারত বিরোধী স্বর বারবার শোনা গিয়েছে। সেখানে পাকিস্তানের সেনা কর্তাদের যাতায়াত বেড়েছে। ইউনুস চীনে গিয়ে ‘সেভেন সিস্টার্স’ সংক্রান্ত বিরূপ মন্তব্য করে তাঁর মানসিকতা বুঝিয়ে দেয়। চাপে পড়ে পরে সুর পাল্টালেও, স্বাভাবিকভাবে তাঁর জমানায় প্রতিবেশীর চিন্তা বেড়েছে।
Sheikh Hasina: হাসিনার দেশ ত্যাগের পর থেকে আওয়ামি লিগের নেতাকর্মীদের নির্বিচারে ধরপাকড় চলেছে। খুনের ঘটনা ঘটেছে। তারপর থেকে আত্মগোপনে চলে যায় ওই দলের নেতারা। অনেকেই গোপনে দেশ ছাড়েন। ইউনুসের জমানায় নিষিদ্ধ করা হয় হাসিনার দলকে। নির্বাচনের আগে ফের সক্রিয় হচ্ছিল আওয়ামি লিগ। তার আগে এই রায়ে আগুনে ঘি পড়েছে। ভয়াবহ পরিস্থিতি। আওয়ামি লিগের ডাকা লক ডাউনে সাড়া পড়ে। রাস্তায় নেমেছে কট্টরপন্থী জামায়াতও, রাস্তায় আওয়ামি লিগের প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপিও। নেমেছে সেনা।
Sheikh Hasina: হাসিনা অডিও বার্তায় এই রায় ‘অবৈধ আদালতের’ ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত’ বলেছেন। বলেছেন দেশের জনগণ বিচার করবে। ইতিমধ্যে একদল লোক বঙ্গবন্ধু মুজিবর রহমানের বাড়ি ভাঙতে এগিয়ে যায়। মনে করিয়ে দিচ্ছে হাসিনার দেশ ত্যাগের দিন মুজিবর রহমানের মূর্তি ভাঙ্গার ঘটনা। আওয়ামি লিগের নেতার বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে এদিন। আওয়ামি লিগও পালটা আন্দোলনের ডাক দিয়েছে। ইউনুস প্রতিষ্ঠিত গ্রামীণ ব্যাঙ্কের একাধিক শাখায় আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে। ঘটনায় উদ্বেগে সেখানকার শান্তিপ্রিয় মানুষ। পদ্মার জলে ঢেউ উঠছে। সীমান্ত নিয়ে চিন্তা বাড়ছে।
Sheikh Hasina এদিকে হাসিনাকে ফেরত চেয়ে বার্তা দিয়েছে ইউনুসের বাংলাদেশ। হাসিনা অজ্ঞাতবাস থেকে তাঁর অডিও বার্তায় এই রায়কে নস্যাৎ করেছেন। জনগণ বচার করবে বলে জানিয়েছেন। মনে করিয়ে দিয়েছেন আগেও তাঁর প্রাণ নেওয়ার চেষ্টা হয়েছে। বাংলাদেশের ইতিহাসে এমন উদাহরণ আছে ফাঁসির আদেশ প্রাপ্ত পরে ক্ষমতায় এসেছে। বদলে গিয়েছে রায়। এমনকী, খোদ বঙ্গবন্ধু মুজিবর রহমানকে ফাঁসির আদেশে দেওয়া হয়েছিল পরে তিনি স্বাধীন বাংলাদেশ গড়েন।
মহম্মদ ইউনুসের সরকারের হুঁশিয়ারি মিডিয়াকে
শেখ হাসিনার বিবৃতি প্রকাশ করার বিষয়ে সব প্রিন্ট, ইলেক্ট্রনিক, অনলাইন মিডিয়াকে হুঁশিয়ারি মহম্মদ ইউনুসের সরকারের। বাংলাদেশ সরকারের দ্য ন্যাশনাল সাইবার সিকিউরিটি এজেন্সি জানিয়েছে, হাসিনার বিবৃতি প্রকাশ করলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বলা হয়েছে ‘অপরাধী’ ও ‘পলাতকের’ মন্তব্য না প্রকাশ করতে। এর ফলে এমনকী ২ বছর পর্যন্ত জেল ও ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা করা হতে পারে। যদি সেখানেই আবার কৌশলে বলে দেওয়া হয়েছে, সংবাদ মাধ্যমের স্বাধীনতা ও মত প্রকাশকে তারা সম্মান করে।















