নিজস্ব প্রতিবেদনঃ সেটা মোটামুটি ১৮০০ সালের কিছু আগের সময়। তখনও প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুররা ব্যবসায় এগিয়ে আসেননি। তবে ‘ব্যবসায় বিলম্বিত বাঙালি ‘-র তকমা ছেড়ে বাঙালিও ব্যবসায় মন দিচ্ছে। যার হোতা মূলত সুবর্ণ বণিক সমাজ। ব্যক্তিগত উদ্যোগ বাদ দিলে সামাজিকভাবে বাঙালির ব্যবসার অন্যতম মুখ তখন সুবর্ণ বণিক সমাজ। তারাই এক সময়ের চাঁদ সদাগর হয়ে ওঠে। সুবর্ণ বণিক সমাজের ইতিবৃত্ত থেকে জানা গিয়েছে, কাটোয়ার দৌহাট্টা এলাকার জাগনন্দপুর ও পার্শ্ববর্তী ঘোরানাস গ্রাম থেকে একদল ব্যবসার তাগিদে চলে আসেন নবাবের জেলা মুর্শিদাবাদে (Murshidabad)। অনেকে যান বহরমপুরে বা নবাবের খাসতালুক লালবাগে। আর কয়েকজন কান্দিতে (Kandi)। ব্যবসা বাড়ানোর আর্তি। সেজন্যে প্রার্থনা। সেই সময়ে প্লেগের আবির্ভাব। যা তখন মহামারী। তা থেকে পরিত্রাণ চায়। এমন সময়ই তাঁরা দ্বারস্থ হলেন ঈশ্বরের কাছে। শুরু হল জগতের ধাত্রী জগদ্ধাত্রী পুজো (Jagadhatri Puja)। কাকতালীয় ভাবে, এরপরেই তাঁদের ব্যবসা বাড়ে। বৃদ্ধি পায় জগদ্ধাত্রী পুজোর জৌলুসও। সেই থেকে চলে আসছে এই পুজো।
আরও পড়ুনঃ Kandi Jagadhatri Puja: রাতের বিমানে কাতার থেকে কান্দির জগদ্ধাত্রী পুজোয় মৌসুমি
Jagadhatri Puja Kandi কালের নিয়মে সেই রাম নেই, অযোধ্যাও নেই। সময়ের সঙ্গে পরিবর্তনও হয়েছে অনেক কিছুর। পুজোর জায়গা পাল্টেছে একাধিকবার। কান্দির রাধাবল্লভ মন্দির থেকে ঢিল ছোড়া দূরত্বে এখন হয়ে চলেছে সেই জগদ্ধাত্রীর আরাধনা। কান্দিতে এই জগদ্ধাত্রী পুজো এখন শহরের অন্যতম পরিচিত পুজো। কান্দির দর্শনার্থীদের অনেকেই এই পুজোয় একবার হলেও আসার চেষ্টা করেন। পুজোর সঙ্গে জড়িতদের অনেকের কাছেই এই পুজোর আবহ কৃষ্ণনগরের, চন্দননগরের, কাগ্রামের মতোই। আলোয় সাজিয়ে তোলা হয় চারিদিক। এবারও আলোয় ভেসেছে মন্ডপ চত্বর। মনে হচ্ছিল যেন দীপাবলি যেন আবার ফিরে এসেছে। গরিমায় যেন কমতি না হয়। পুজোর সঙ্গে জড়িতরা এখন থেকেই পরিকল্পনা করছেন পরেরবার আরও আলোয় ফুটিয়ে তোলা হবে। পুজো কমিটির পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে আর্ত মানুষের সেবার আলোয় আলোকজ্বল হয়ে উঠবে এই পুজো মণ্ডপ।
Jagadhatri Puja Kandi পুজো কমিটির অন্যতম কর্মকর্তা কান্দির বিশিষ্ট ঔষধ ব্যবসায়ী উৎপল চন্দ্র জানালেন, এই পুজো আবহমান কাল ধরেই গরিমা ও মহিমা নিয়ে এগিয়ে চলেছে। তাঁদের আগামী দিনের ইচ্ছা, এই পুজোকে কেন্দ্র করেই এলাকার দুঃস্থ, অসহায় মানুষদের কাছে সাহায্য পৌঁছে দেওয়ার।
সাবেকি সাজের এই পুজোকে ঘিরে আবেগপ্রবণ এলাকার বাসিন্দারা। বণিক বাড়ির জগদ্ধাত্রীর আরাধনা পেরিয়ে গেল আড়াইশো বছর।









