Nari Dibas Udjapan Mancha নারী দিবসের আগে নারীদের অধিকার আদায়ের অঙ্গীকার। একজোট হলেন ক্যাব চালক থেকে টোটো চালক, বিড়ি শ্রমিক থেকে খেতমজুর, শিক্ষিকা থেকে সমাজকর্মীরা। নানান পেশা, নানান মুখ- অথচ দাবি এক। ন্যায্য মজুরি থেকে নিরাপত্তা, একাধিক দাবিতে গর্জে উঠল শ্রমজীবী ও পেশাজীবী মেয়েরা। বছর দুয়েক আগে গড়ে উঠেছিল নারী দিবস উদযাপন মঞ্চ , তার সাথে সমাজে বঞ্চিত, নিপীড়িত মেয়েদের নিয়ে কাজ করে চলা Murshidabad মুর্শিদাবাদের রোকেয়া নারী উন্নয়ন সমিতি, তাদের যৌথ উদ্যোগে বহরমপুরে হল গুরুত্বপূর্ণ এক আলোচনা সভা, কর্মশালা, পদযাত্রা।

Nari Dibas Udjapan Mancha বহরমপুরে সোচ্চার মেয়েরা, নেতৃত্বে রত্নাবলী রায়, খাদিজা বানুরা
Nari Dibas Udjapan Mancha ৬ ফেব্রুয়ারি, বহরমপুর ঋত্বিক সদনে আয়োজিত সভায় শ্রমজীবী ও পেশাজীবী মহিলারা তাঁদের অভাব–অভিযোগ, দাবি ও অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন। কর্মক্ষেত্রে ন্যায্য মজুরি, নারী–পুরুষের সমান অধিকার এবং নিরাপত্তার প্রশ্ন উঠে আসে বারবার। শিক্ষিকা মুর্শিদা খাতুন বলেন, ” আমরা যারা মহিলা তারা সকলেই কোথাও না কোথাও এক। সে যে পদে থাক, যেখানে থাক। সব কাজের মধ্যে থেকেও আমাদের মধ্যে যে কমন বিষয় সেটা নিয়েই আজকের এই উদযাপন। কর্মরত বহু মহিলাদের প্রতিদিন লড়াই করতে হয় একাধিক স্তরে। পরিবার, সমাজ এবং কর্মক্ষেত্রেও। কর্মক্ষেত্রে ন্যায্য মজুরি থেকে নারী- পুরুষ সমাজ অধিকারের দাবির সাথেই আওয়াজ ওঠে নিরাপত্তা নিয়েও।

Nari Dibas Udjapan Mancha রোকেয়া নারী উন্নয়ন সমিতির সভাপতি খাদিজা বানু বলেন, ৩৫ টি মহিলা সংগঠন মিলে নারী দিবস উদযাপন মঞ্চ হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের জেলায় জেলায় সভা হচ্ছে। এই সভা প্রস্তুতি সভা। আগামী ৮ ই মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবস। এই নারী দিবসের আগের দিন কলকাতায় রাজপথ কাঁপাবে প্রায় বিশ হাজার শ্রমজীবী মহিলা। ন্যায্য অধিকার নিয়ে তারা দাবি তুলবে ‘মানুষের মর্যাদা দিয়ে মাথা উঁচু করে বাঁচতে দিন’। বহরমপুর ঋত্বিক সদনে আজ কর্মশালা হল। সেখানে প্রশিক্ষন দেওয়া হয় স্লোগান, পোস্টারের। আলোচনায় উঠে আসে বাল্য বিবাহ বন্ধ কীভাবে করা যায়, নির্যাতনের হাত থেকে কীভাবে রক্ষা করা যায় নিজেদের- নানান বিষয়ে। এক কথায় সচেতনতামূলক প্রশিক্ষক শিবির হল এদিন।

Nari Dibas Udjapan Mancha সভার সাথেই এদিনের বিশাল কর্মকাণ্ডে পায়ে পা মেলালেন নানান পেশার সাথে যুক্ত মহিলারা। ন্যায্য মজুরির পাশাপাশি কর্মরত মহিলাদের জন্য শৌচাগার, বিশ্রামাগার, সন্তানদের দেখভালের জন্য ক্রেশের বদাবির পাশাপাশি উঠে আসে প্রতিনিয়ত চ্যালেঞ্জের মুখে পড়া মহিলাদের মানসিক স্বাস্থ্যের অধিকারও।
Nari Dibas Udjapan Mancha দাবি ওঠে মহিলাদের মানসিক স্বাস্থ্যের অধিকারেরও
Nari Dibas Udjapan Mancha অঞ্জলির প্রতিনিধি বিশিষ্ট মনোসমাজকর্মী রত্নাবলী রায় Ratnaboli Roy বলেন, সমস্ত মেয়েদের সমমজুরি, ন্যায্য মজুরি, শ্রমজীবী মেয়েদের অধিকার, কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা, সন্তানের পড়াশোনা, ক্রেশ, শৌচালয় এই সব দাবি নিয়ে পথে নেমেছিলাম। এই পথচলায় আরও এগিয়ে যেতে হবে কারণ দাবি এখনও সম্পূর্ণভাবে আদায় হয়নি। সবচেয়ে বড় কথা, যখন সম-মজুরি বা ন্যায্য মজুরির কথা বলা হচ্ছে তখন সমস্ত মেয়েদের সম্মানের কথা বলা হচ্ছে। এই সম্মান আদায়ের ক্ষেত্রে মানসিক স্বাস্থ্যের অধিকারও একটা বড় জায়গা নিয়ে থাকে। কারণ আমি কাজের জায়গায় সমবেতন পেলাম না, সমমজুরি পেলাম না ! তাতে আমার মানসিক স্বাস্থ্য কিন্তু বিঘ্নিত হয়। সেটা বিঘ্নিত হলে কাজও করতে পারব না। মানসিক স্বাস্থ্যকে পেশাগত কাজের সঙ্গে যুক্ত করে একটা বড় দাবি পত্র তৈরি করার জায়গা থেকেই সবাই মিলে একত্রিত হয়েছি।

Nari Dibas Udjapan Mancha সভা শেষে শহর বহরমপুর শহর জুড়ে হয় মিছিল। স্লোগানে স্লোগানে প্রতিবাদের সুরে মুখরিত হয় শহর। ৮ মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবসের আগে, ৭ মার্চ কলকাতার রাজপথে নিজেদের দাবি নিয়ে আরও বৃহত্তর আন্দোলনের ডাকও দেওয়া হয় এই মিছিল থেকে।









