Murshidabad Zila Parishad জেলা পরিষদের সভায় স্থায়ী সমিতির মিটিং নিয়ে শোরগোল । মঙ্গলবার মুর্শিদাবাদ জেলা পরিষদের বৈঠকে চূড়ান্ত হৈ-হট্টগোল। জেলা পরিষদ পরিচালনায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে সরব বিরোধী সদস্যরা। সভায় প্রশ্ন উঠল, ফেব্রুয়ারি মাসের পর অর্থ স্থায়ী সমিতির সভায় হয় নি কেন ? কেন নিয়মত হচ্ছে না স্থায়ী সমিতির সভা ? জেলা পরিষদ চলছে কীভাবে ? এদিন সভার মাঝেই চুডান্ত হৈ হট্টগোল হয়। জেলা পরিষদের কাজ নিয়ে এক সুর সিপিএম, কংগ্রেসের। সাফাই দেওয়ার চেষ্টা করেছেন জেলা পরিষদের সভাধিপতি। যদিও সুর নরম করেছেন মেন্টার, কো-মেন্টার।
Murshidabad Zila Parishad এদিন মুর্শিদাবাদ জেলা পরিষদের সভায় ছিলেন জেলাশাসক নীতিন সিংহানিয়া, অতরিক্ত জেলা শাসক ( জেলা পরিষদ) সামসুর রহমান । মঙ্গলবার পঞ্চায়েত প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে সভায় ছিলেন জেলা পরিষদের সভাধিপতি রুবিয়া সুলতানা, সহ সভাধিপিত আতিবুর রহমান জেলা পরিষদের মেন্টর মহম্মদ সোহরাব Md Sohrab , কো-মেন্টর শাওনি সিংহ রায়। এদিন জেলা পরিষদে স্বাগত জানানো হয় জেলা শাসককে।

Murshidabad Zila Parishad কেন অনিয়মের অভিযোগ ?
২০২৩ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর হয় স্থায়ী সমিতিগুলির কর্মাধ্যক্ষ নির্বাচন। পশ্চিমবঙ্গ পঞ্চায়েত আইনের ১২৫ (৪) এবং ১৭২ (৫) ধারা অনুযায়ী স্থায়ী সমিতির কর্মাধ্যক্ষদের কাজ নিয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। প্রশ্ন উঠছে সভা না করেই সেই হচ্ছে কীভাবে ? দীর্ঘ ২ বছরের মধ্যে মুর্শিদাবাদ জেলা পরিষদের অর্থ, সংস্থা উন্নয়ন ও পরিকল্পনা স্থায়ী সমিতির বৈঠক হয়েছে মাত্র ৫ বার। এই সমিতির মাথায় রয়েছেন জেলা পরিষদ সভাধিপতি রুবিয়া সুলতানা, সমিতিতে রয়েছেন সহ সভাপতি আতিবুর রহমান। মাত্র ৩ বার বৈঠকে বসেছে পূর্ত সড়ক ও পরিবহণ স্থায়ী সমিতি। কৃষি সেচ ও সমবয়া স্থায়ী সমিতির বৈঠক হয়েছে ৫ বার।

Murshidabad Zila Parishad শিক্ষা সংস্কৃতি তথ্য ও ক্রীড়া বিষয়ক স্থায়ী সমিতির সভা হয়েছে মাত্র ৩ বার।মুর্শিদাবাদের মতো জেলায় যেখানে বাল্য বিবাহ এবং মায়েদের স্বাস্থ্য একটি বড় ইস্যু সেখানেও ৩ বার বৈঠকে বসেছে শিশু ও নারী উন্নয়ন, জনকল্যাণ ও ত্রাণ স্থায়ী সমিতি। বন ও ভূমি সংস্কার বিষয়ক স্থায়ী সমিতির বৈঠক হয়েছে ৩ বার। দুই বছরের ৪ বার সভা করেছে খাদ্য ও সরবরাহ বিষয়ক স্থায়ী সমিতি। মুর্শিদাবাদ জেলা পরিষদের ক্ষুদ্র শিল্প, বিদ্যুৎ ও অচিরাচরিত শক্তি বিষয়ক স্থায়ী সমিতি সভা করেছে ৪ বার। পঞ্চায়েত দপ্তরের নির্দেশিকাঃ No. 4716/PN/O/1/3R-6/04 অনুযায়ী কর্মাধ্যক্ষদের দায়িত্ব, প্রতি মাসে স্থায়ী সমিতির বৈঠক করা।
জলঙ্গীর সিপিএমের জেলা পরিষদ সদস্য ইমরান হোসেন প্রশ্ন তুলেছেন, “ কোটি কোটি টাকার কাজ দেখানো হচ্ছে। আমরা প্রশ্ন করেছি, যদি এই কাজ করতে হয় পঞ্চায়েতের আইন অনুযায়ী প্রতি মাসে প্রতিটি স্থায়ী সমিতির সভা করতে হবে। কিন্তু আমরা দেখলাম ২ টো, ৩ টে করে সভা হয়েছে। সভা হচ্ছে না কিন্তু বলা হচ্ছে যে উন্নয়ন হচ্ছে। কোথায় থেকে এটা হচ্ছে ?” । ইমরান আরও বলেন, “জেলা পরিষদের স্থায়ী সমিতি, সাধারণ বডি কোথাও মিটিং হচ্ছে না। আমরা এই প্রশ্ন করেছি। ওঁরা উত্তর দিতে পারছে না। তখন বলছে , এরা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে বিরোধিতা করে। বলছেন, বের করে দেন নি ভাগ্য ভালো। আমরাও বলেছি, পঞ্চায়েত আইনে সংবিধানের বলে এখানে এসেছি। শিক্ষা কর্মাধ্যক্ষ এখানকার মালিক নন। তিনি অনধিকার চর্চা করছেন। ওনার দলের সদস্যরা কিছু বললেও লাফিয়ে উঠে কাউন্টার করছেন”।
Murshidabad Zila Parishad কী বলছেন বিরোধিরা ?

কংগ্রেসের জেলা পরিষদের দলনেতা আব্দুল্লাহিল কাফি জেলা পরিষদের শিক্ষা কর্মাধ্যক্ষের আচরণ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি বলেছেন, “ দুর্নীতির কথা আমরা বলেছি। একটা টেন্ডার হয়েছিল । বিধায়ক বাইরন বিশ্বাসের ফার্ম দীপশিকা প্রাইভেট লিমিটেড। তাঁর ফার্ম দুর্নীতি করার চেষ্টা করতে গিয়ে ধরা পড়েছে। আমরা বলেছি, বহু বিল পড়ে আছে। তার কোনও ব্যবস্থা হচ্ছে না”।
Murshidabad Zila Parishad সাফাই দিয়েছে জেলা পরিষদের সভাধিপতি
যদিও মুর্শিদাবাদ জেলা পরিষদের সভাধিপতি রুবিয়া সুলতানা জানান, “ আমাদের নতুন জেলা শাসক এসেছেন। জেলা শাসককে স্বাগত জানানোর জন্য জেলা পরিষদের পক্ষ একটি সভার আয়োজন করেছিলাম। সেই সভাতেই বিভিন্ন স্কীম নিয়ে, মেম্বারদের সমস্যা নিয়ে, জেলাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য আলোচনা হয়েছে। উনিও আলোচনা শুনেছেন। উনি নিজে মতামত দিয়েছেন”। জেলা পরিষদের সভাধিপতি রুবিয়া সুলতানার দাবি, “ প্রচুর কাজ হয়েছে। কিন্তু আমাদের প্রচার কম। জেলা পরিষদে ২৮ কোটি টাকার টেন্ডার ঝুলে আছে। নোটিশ হয়েছে”।

তবে স্থায়ী সমিতির মিটিং নিয়মিত না হওয়ার সাফাইও দিয়েছেন রুবিয়া সুলতানা । তিনি বলেছেন, ” স্থায়ী সমিতির মিটিং যথেষ্ট হয়। কিন্তু আমরা যেহেতু জনপ্রতিনিধি। আমাদের বিভিন্ন পার্টির কাজেও ছুটে বেড়াতে হয়। এক এক জন মেম্বারের পক্ষে প্রত্যেকদিন সম্ভব হয় না জেলা পরিষদে আসার। আমার নিজেরও সময় হয় না। সম্ভব হয় না। কারণ পার্টির প্রোগ্রামও করি আমরা। আবার মিটিং, অন্যান্য সভা করতে হয়। সেক্ষেত্রে সময় ম্যানেজ করে আমরা যতটা পারি করি”।
এদিন শিক্ষাকর্মাধ্যক্ষের আচরণ নিয়ে রুবিয়া সুলতানা বলেছেন, “ বিরোধী সদস্য অনেকক্ষণ বক্তব্য রেখেছেন। ব্যক্তিগত কথা কে কী বলছেন সেটা নিয়ে গুরুত্ব দিই না”।
Murshidabad Zila Parishad সুর নরম মেন্টার, কো মেন্টারদের
যদিও এই প্রশ্নে সুর নরম করেছেন জেলা পরিষদের মেন্টর মহম্মদ সোহরাব। প্রশ্ন না উড়িয়ে তিনি বলেছেন, ” আমাদের ত্রুটি, বিচ্যুতি কিছু যদি থাকে, সদস্যদের দাবি যা আছে সব নিয়ে আলোচনা হয়েছে। মূল উদ্দেশ্যে জেলার উন্নয়ন করা”। কার্যত অভিযোগ মেনে নিয়েছেন জেলা পরিষদের কো মেন্টর শাওনি সিংহ রায়ও। আশ্বাস দিয়েছেন, দ্রুত হবে অর্থ, সংস্থা উন্নয়ন ও পরিকল্পনা বিষয়ক স্থায়ী সমিতির সভা।















