Murshidabad Silk মুর্শিদাবাদ জেলা রেশম শিল্পের জন্যে বিখ্যাত। জানা যায় ত্রয়োদশ শতাব্দী থেকে এখানে রেশমের কারবার। ১৭০০ সালে বণিক ব্রিটিশরা তা দেখে কাশিম বাজারে ( Cossimbazar ) ঘাঁটি তৈরি করেছিল । রেশম ইয়োরোপে নিয়ে যাওয়া ছিল তাদের উদ্দেশ্য। রেশমের জন্যে দেশে অন্যতম অর্থনৈতিক কেন্দ্র ছিল মুর্শিদাবাদ। সেই রেশম শিল্পের আজ দৈন্যদশা। কেন্দ্রীয় বস্ত্র মন্ত্রকের মুর্শিদাবাদ জেলায় সংশ্লিষ্ট দফতর সূত্রে খবর, রেশম কিটের বীজের চাহিদা আরও কমছে।

আরও পড়ুনঃ জিআই ট্যাগ পেল মুর্শিদাবাদ, বীরভূমের কোরিয়াল, গরদ
Murshidabad Silk কমছে বীজ বিক্রি
বিশেষ করে বাণিজ্যিক কৃষকদের বীজ বিক্রি কমছে। জেলায় যা বীজ কেনা হয় তার প্রায় ৩০-৩৫ শতাংশ এখান থেকে বিক্রি হয়। এখন বছরে ১০ থেকে ১২ লাখ ‘ককুন্স’ বিক্রি হয়। এখান থেকে ১৮ লাখ পর্যন্ত ‘ককুন্স’ আগে গড়ে বিক্রি হয়েছে। ফলে তা থেকে অনুমান করা যেতে পারে, রেশম শিল্পের হাল! বিশেষ করে রেশম চাষ এই জেলায় আরও খারাপ হচ্ছে।
মুর্শিদাবাদ জেলার খড়গ্রাম, রঘুনাথগঞ্জ, ডোমকল সহ একাধিক ব্লকে রেশম কিটের চাষ হয়। সেই বীজের অনেকটা কেনা হয় বহরমপুরে থাকা রেশম কিট বীজ উৎপাদন কেন্দ্র থেকে। সূত্রের দাবি, এই চাষের হাল এতোটাই খারাপ যে সেই সব পরিবারের যুবকরা এখন পরিযায়ী শ্রমিক হয়ে বাইরে কাজ করতে চলে যাচ্ছেন। অবিলম্বে বিশেষ উদ্যোগ না নিলে হাল আরও খারাপ হতে পারে।
Murshidabad Silk ১০ টি ব্লকে রেশম চাষ
তবে রাজ্যের সংশ্লিষ্ট দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, এখন মুর্শিদাবাদ জেলার ১০ টি ব্লকে রেশম চাষ হচ্ছে। সেগুলি হল নবগ্রাম, খড়্গ্রাম, জলঙ্গী, বহরমপুর সদর, ডোমকল, বেলডাঙ্গা ১, রানীনগর ২, এম-জে ব্লক, হরিহরপাড়া, বড়ঞা। জেলায় এখন মোট ৭ হাজার ৬৬২ একর জমিতে রেশম চাষ হচ্ছে। তার মধ্যে ‘রিয়ারারস’ অর্থাৎ যারা কীটের চাষ করেন। তাঁরা রয়েছেন ১৮ হাজার ৮২২ জন। ‘রিলারস’ অর্থাৎ যারা পোকা থেকে সুতো বের করেন। রয়েছেন ৪ হাজার ৭৯০ জন। উইভার অর্থাৎ যারা সিল্ক বোনেন এরকম রয়েছেন ১৭ হাজার ৫০০ জন। বর্তমানে জেলায় বাণিজ্যিক ‘ককুন’ উৎপাদন হয় ১৯ হাজার ৮৪৫ মেট্রিক টন। কাঁচা রেশম উৎপাদন হয়েছে ২ হাজার ৮৯ মেট্রিক টন।
Murshidabad Silk মুর্শিদাবাদ জেলায় দফতরের উপ অধিকর্তা স্বপ্ন কুমার মাইতিকে এই বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে বৃহস্পতিবার তিনি বলেন, চরকা রিমডেলিং করা হয়েছে। মোটর বসানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। যার ফলে উৎপাদন খরচ কমেছে। গুণমান বেড়েছে। এখন এখানে উন্নত প্রজাতির তুঁত পাতা সি২০৩৮ এর চাষ হচ্ছে। নিস্তারি থেকে এই জায়গায় এসেছে। যার ফলে ১ বিঘে জমিতে তিন গুণ পোকা পুষতে পারছেন কৃষক। দ্বিচক্রীজাত পুলুর চাষ করা হচ্ছে। আগে যেখানে ৪০ কেজি গুটি থেকে সাড়ে ৩ থেকে ৪ কেজি সুতো পাওয়া যেত। এখন সেখানে ৬ কেজি সুতো পাওয়া যায়। যা আন্তর্জাতিক বাজারের কথা ভেবে যাতে ভালো গ্রেড পাওয়া যায় সেজন্যে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
Murshidabad Silk প্রায় ২ লাখ পুলুর চাষ হচ্ছে। নগরে উন্নত মেশিন বসেছে। ২বছর হল। মাল্টি রিলিং মেশিন। সেখানে প্রতিদিন ১০ কেজি সুতো তৈরি হওয়ার উদ্যোগ। তবে জানা গিয়েছে, এখন সেখানে ককুন্স না থাকার কারণে আপাতত বন্ধ রয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে মুর্শিদাবাদ সিল্কের যে গ্রেড রয়েছে তা বাড়ানোর জন্যে মাল্টি রিলিং মেশিন বসানো হয়েছে। তবে সংখ্যায় সেটি ১ টি। অথচ মালদাতে ওই মেশিন বসেছে ১২টি। মুর্শিদাবাদের বালুচরিকে, কোরিয়ালকে আন্তর্জাতিক বাজারে ছড়িয়ে দিতে নেওয়া হচ্ছে কী উদ্যোগ?
( প্রতিবেদনটি মধ্যবঙ্গ নিউজ সংবাদপত্রে প্রকাশিত)















