উৎপল মিত্র
Murshidabad BLO রাজ্যজুড়ে সংবাদের প্রতিদিনের শিরোনাম এসআইআর (SIR) আতঙ্ক। এই আতঙ্কের মধ্যেও শুধু ভোটাররা নয়, আতঙ্কিত বহু বিএলও। ভোটাররা আতঙ্কিত তাদের ভোটার লিস্ট ও ফর্ম পূরণ নিয়ে। একইভাবে আতঙ্কিত না কি বিএলও-রা। আত্মহত্যা, অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া এ সব ঘটনা প্রতিদিন সংবাদ মাধ্যমের শিরোনামে জায়গা পাচ্ছে। অন্যান্য সব খবরকে পিছনে ফেলে প্রায় মাস খানেক ধরে ইলেক্ট্রনিক্স মিডিয়ার আলোচনার আসর বসছে প্রায় প্রতিটি সন্ধ্যায়। শাসকদল থেকে বিরোধী দল শুধু বিবৃতি দিয়েই ক্ষান্ত হচ্ছেন না। নানান হুমকির শিকার হতে হচ্ছে প্রতিদিন। অনেক প্রবীণ থেকে মাঝ বয়সী মানুষ, এইরকম অবস্থা আগে কখনও প্রত্যক্ষ করেননি। তারই মধ্যে আলো ছড়ালেন মুর্শিদাবাদ (Murshidabad) জেলার দুই বিএলও।
আরও পড়ুনঃ Khargram BLO Succumbed: এসআইআর ফর্ম আপলোডের সময় বিএলও-র প্রাণ গেল!
Murshidabad BLO ইতিপূর্বে ২০০০ সাল বা তার আগেও নিয়ম করে ভোটার তালিকা সংশোধন, নতুন ভোটারের নাম সংযুক্তিকরণ প্রক্রিয়া সহজেই শাসকদলের সহযোগিতায় সম্পূর্ণ হয়েছে। ভারতের স্বাধীনতার পর নির্বাচন কমিশন কর্তৃক এই প্রক্রিয়া বরাবরই জারি আছে। চলতি বছরেও দেশের বিভিন্ন রাজ্যে এই প্রক্রিয়া কোথাও সমাপ্ত হয়েছে, কোথাও চলছে। দেশের বিভিন্ন সংবাদপত্রের দিকে নজর দিলে আমাদের রাজ্যের মতো এসআই আর নিয়ে আতঙ্ক, আত্মহত্যা ও হুমকির ঘটনা চোখে পড়ে না।

Murshidabad BLO এসআইআর কাজে রাজ্যে বিভিন্ন অংশে আতঙ্কিত বিএলও-দের পাশাপাশই আমরা খবর করতে গিয়ে বহু সফল বিএলও-দেরও হদিশ পেয়েছি। যারা এসআইআর কাজে নির্বাচন কমিশন কর্তৃক জারি করা সূচি অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ের আগেই কাজ শুধু শেষ করেননি, তাঁরা জেলা নির্বাচন সেলের অনেক কাজের সহযোগিতা করে চলেছেন। এমনকী এই সব বিএলও-রা তাঁদের পরিচিত অন্যান্য বিএলও-দের কাজেও সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। এমনই একজন বিএলও প্রাথমিক শিক্ষক মহাদেব রায়। তিনি বহরমপুর সদর চক্রের ৪১ হাটগাছা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক। তিনি জানিয়েছেন, তাঁর কাজে ভোটার সংখ্যা ৫৯৯। এস আই আরে তিনি পেয়েছেন সাত জন মৃত এবং ১৪ জন অন্যত্র স্থানান্তরিত হয়েছেন। এসআইআর ফর্ম বিলি থেকে ফর্ম পূরণ ও ডিজিটাইজ করার সময়সীমা ৪ ডিসেম্বর থাকলেও নভেম্বরের ২৪ তারিখের মধ্যে তাঁর কাজ শেষ করেছেন। এই কাজের মধ্যেও তিনি বিদ্যালয়ে গিয়েছেন এবং বহরমপুর ব্লকে আধিকারিকদের সঙ্গে থেকে এই কাজে সাহায্যের হাত বাড়িয়েছেন। তাঁর সাফল্যের কথা জানতে চাইলে তিনি জানান, প্রতি দিন ৫০ টা করে ফর্ম বিতরণ ও পরে একই সংখ্যায় ফর্ম পূরণ করে ডিজিটাইজ করার লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে তিনি কাজে সফল হয়েছেন।
Murshidabad BLO অপারেশন এসআইআরে কী ব্লূ প্রিন্ট ছিল?
Murshidabad BLO অন্য এক বিএলও অয়ন তিওয়াড়ি বহরমপুর গোরাবাজার ১৩৬ চার্চ প্রাইমারি স্কুলের ভোটদান ক্ষেত্রের ৯৪০ জন ভোটারের এস আই আরের কাজ নির্দিষ্ট সময়ের প্রায় ১০ দিন আগে সমাপ্ত করেছেন। শিক্ষক অয়ন তিওয়াড়ী জেলার লালগলা সার্কেলের প্রাথমিক শিক্ষক। তিনি তাঁর অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন, প্রথমে তিনি এলাকার তাঁর পরিচিত অধিবাসীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে ভোটারদের বাড়ির একটি মানচিত্র তৈরি করে কাজে নামেন। তারপর থেকে প্রথম ১০ দিন তিনি ফর্ম বিলি করেছেন এবং ফর্ম পূরণ ও ডিজিটাইজ করার কাজ তিনি টার্গেট অনুযায়ী সমাপ্ত করেছেন। তাঁর এলাকায় কিছু ভোটার যারা কানাডা, ক্যালিফোর্নিয়া অর্থাৎ বিদেশে রয়েছেন, পুরসভার ট্যাক্সের রসিদ বা খাজনার রেকর্ড থেকে তাঁদের ফোন নম্বরের হদিশ করে তিনি তাঁদেরও এসআইআরের কাজ সম্পূর্ণ করতে পেরেছেন। এই দুই সফল বিএলও শুধু বহরমপুর ব্লকের উজ্বল কর্মী নন, সফলতার ক্ষেত্রে তাঁরা জেলায় প্রথম সারিতে তাঁদের নাম তুলে ধরেছেন। তাঁরা জানিয়েছেন, এই কাজে এলাকার অধিবাসী এবং রাজনৈতিক দলের বুথস্তরের কর্মীদের সাহায্য ও সহযোগিতা পেয়েছেন।

Murshidabad BLO শিক্ষক অয়ন তিওয়ারী ও মহাদেব রায় বিএলও-দের আতঙ্কের বিষয়ে অন্যতম কারণ হিসেবে জানিয়েছেন বহু ক্ষেত্রে অনেক বুথ লেভেল অফিসার আছেন যারা স্মার্ট ফোন ব্যবহার করেন না। এবং নেটের অভাব ও তাঁদের কাজের ক্ষেত্রে অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই দুই শিক্ষক জানিয়েছেন, তাঁদের প্রায় প্রতিদিনই দুই থেকে তিনশো ফোন মানুষের কাছ থেকে এসেছে। তাঁরা তাঁদের বুদ্ধি ও অভিজ্ঞতা দিয়ে ভোটারদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর ধৈর্য সহকারে দিয়েছেন। এর ফলে প্রথম দিকে বিরূপ মনোভাবাপন্ন বহু ভোটার তাঁদের কাছে সহযোগিতার হাত বাড়িয়েছেন। তাঁরা আরও জানিয়েছেন, প্রতি ১২০০ ভোটার পিছু একজন বি এলও ও এই সংখ্যা অতিক্রম করলে দুজন নিযুক্ত। ১১ জন বিএলও পিছু একজন সুপারভাইজার ও এভাবে ৫ সুপার ভাইজারদের দেখার জন্যে একজন এইআরও নিযুক্ত আছেন।
Murshidabad BLO ১ মাসের বেশী সময় ধরে এসআইআর নিয়ে বিএলও-দের খবর, রাস্তায় আলোচনা, সভা সমাবেশ প্রতিবাদ মিছিল ও হুমকির মাঝে শুধু এই দুজন বিএলও নন। জেলা তথা রাজ্য জুড়ে এইরকম বহু সফল বিএলও আছেন। যারা অত্যন্ত সফলতার সঙ্গে এঁদের এই কাজ সমাধান করেছেন। প্রশাসন বা নির্বাচন কমিশনের কাছ থেকে এঁরা সম্মানিত হলে হয়তো যোগ্য কর্মীরা উৎসাহিত হবেন। এবং আতঙ্কিত বিএলও-রা কাজের ক্ষেত্রে একটি দিশা পাবেন।















