এখন খবরমধ্যবঙ্গ নিউজপরিবেশবিনোদনহেলথ ওয়াচখেলাঘরে বাইরেলাইফস্টাইলঅন্যান্য

Mainul Haques daughter রাজনীতির ময়দানে মইনুল কন্যা ! নতুন সমীকরণ ?

Published on: November 18, 2025
Mainul Haques daughter

Mainul Haques daughter ২৬ এর ভোট এখনও ঢের দূরে। তার আগেই বিহার ভোটের ফলের পরই বাংলার রাজনীতির ঢাকে কাঠি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। আর পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়ের ( Mamata Banerjee )  নেতৃত্বে তৃণমূল কংগ্রেসও কোমড় বেঁধে ময়দানে নেমেছে। এত কিছুর মধ্যেও রাজ্যে নজর কাড়ছে মুর্শিদাবাদের ফরাক্কা বিধানসভা । ফরাক্কার রাজনীতিতে সামনে এসেছেন প্রাক্তন বিধায়ক মইনুল হকের কন্যা  রেহেনা ইয়াসমিন।

আরও পড়ুনঃ মইনুল হকের প্রয়াণে শোকবার্তা মুখ্যমন্ত্রীর

Mainul Haques daughter কী বলছেন মইনুল হকের কন্যা ?

রেহেনার দাবি, এতদিন আড়ালে থেকেই বাবার রাজনৈতিক কাজে সাহায্য করতেন। মইনুল হকের সোশ্যাল মিডিয়া পেজের দেখভালও করতেন তিনি। এবার বাবার পথেই এগোতে চাইছেন এমবিএ পাশ রেহেনা ইয়াসমিন। তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে ফরাক্কার রাজনীতির কেন্দ্রে ছিলেন মইনুল হক। এই বছর ২ নভেম্বর  ৬৩ বছর বয়সে  প্রয়াত হন এই তৃণমূল নেতা। মৃত্যুর সময় ছিলেন তৃণমূলের রাজ্যের সহ সভাপতি। তাঁর মৃত্যুতে শোক জ্ঞাপন করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও।

Mainul Haques daughter মইনুল হকঃ ৫ বারের বিধায়ক

Mainul Haques daughter   ১৯৯৬ সালেরর বিধানসভা নির্বাচনে ফরাক্কার সিপিএম বিধায়ক আবুল হাসনাৎ খানকে হারিয়ে সিপিএমের হাত থেকে এই আসন ছিনিয়ে নেন মইনুল হক। তারপর টানা ৬ বার কংগ্রেসের টিকিটে এই আসনে ভোটে লড়েছেন।  ৫ বার জিতেছেন। ২০১৬ সালে কংগ্রেস এবং সিপিএমের জোট প্রার্থী হিসেবে ভোটে লড়ে জেতেন। তবে ২০২১ সালে হারেন তৃণমূলে মণিরুল ইসলামের  কাছে। সেবার লড়েছিলেন সিপিএমের সমর্থন নিয়ে।  তিনি  সর্ব ভারতীয় কংগ্রেস কমিটির সম্পাদকও ছিলেন। তবে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেওয়ার আগে সেই পদ থেকে ইস্তফা দেন তিনি। ২০২১ এর সেপ্টেম্বরের শেষদিকেই যোগ দেন তৃণমূল কংগ্রেসে।

Mainul Haques daughter কী চাইছেন মইনুল হকের কন্যা  ?

ফরাক্কার রাজনীতির দখল নিয়ে বিধায়ক মণিরুল ইসলাম এবং প্রাক্তন বিধায়ক মইনুল হকের মধ্যে সংঘাত বাড়তেই থাকে।  এবার সেই মঞ্চে নতুন করে অবতীর্ণ হলেন মইনুল হকের কন্যা। জানালেন, বাবার অসমাপ্ত কাজ এগিয়ে নিয়ে যেতে চান। ইতিমধ্যে মইনুল হকের নামে স্মৃতি স্মারকের দাবিতে মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠিও লিখেছেন রেহানা ইয়াসমিন। চেয়েছেন মইনুল হকের নামে কলেজ, স্কুল বা হাসপাতাল হোক। সামনে এসেছেন সংবাদমাধ্যমেরও। রেহানা বলেছেন, “ বাবার মৃত্যুতে ফরাক্কায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ফরাক্কার মানুষ যে ভেবেছেন আমি ওঁর জায়গা আমি নিতে পারি সেটা আমার সৌভাগ্য”।

Mainul Haques daughter মইনুল হকের মেয়ে কোন দলে ?

তবে কোন দলের হয়ে ময়দানে নামবেন মইনুল কন্যা ? সেই প্রশ্নে তিনি জানিয়েছেন, বাবার পথেই চলবেন তিনি। এখনও দলের পক্ষে থেকে কোনও বার্তা আসেনি। তিনি আরও বলেছেন, “বাবার অনেক কাজ বাকি ছিল। আমি মানুষের সেবা করতে চাই।

Mainul Haques daughter photo

Mainul Haques daughter ফরাক্কায় দিল্লি পাবলিক স্কুল থেকে উচ্চ মাধ্যমিক স্তর অবধি পড়াশোনা করেছেন রেহেনা। এরপর কলকাতা থেকে এমবিএ সম্পূর্ণ করেন তিনি। রাজনীতির প্রকাশ্য মঞ্চে ছিলেন না কোনও দিন। তবে সম্প্রতি ফরাক্কা ব্যারেজের  রাজীব ভবনে অনুষ্ঠিত  মইনুল হকের স্মরণ সভায় প্রকাশ্যে বক্তব্য রেখেছেন রেহেনা। সেই বক্তব্য নজর কেড়েছে রাজনৈতিক মহলেরও।

Mainul Haques daughter ফরাক্কার জটিল রাজনীতি

এই নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়াতেও সামনে এসেছে তৃণমূলের গোষ্ঠী কোন্দলের ছবি। মইনুল হকের কন্যার রাজনৈতিক পথ সহজ হবে না বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। ফরাক্কা রাজনীতি ববাবরই অত্যন্ত জটিল।২০২১ সালের নির্বাচনে এই কেন্দ্র থেকে কংগ্রেসের প্রতীকে ভোটে লড়েছিলেন মইনুল হক। হারেন তৃণমূলের মণিরুল ইসলামের কাছে।

২০২১ এর নির্বাচনে মণিরুল ইসলাম পেয়েছিলেন ১ লক্ষ ২ হাজার ৩১৯ টি ভোট। যা ছিল ভোটের ৫৪ শতাংশ । দ্বিতীয় স্থানে ছিলেন বিজেপির হেমন্ত ঘোষ। তিনি পেয়েছিলেন ২২ শতাংস ভোট। আর ১৯ শতাংশ ভোট পেয়ে তৃতীয় স্থানে চলে গিয়েছিলেন কংগ্রেসের টিকিটে লড়া তৎকালীন বিধায়ক মইনুল হক। তাঁর প্রাপ্ত ভোট ছিল ২৬ হাজার ২০৬। তৃণমূলের প্রতীকে লড়া মণিরুলের সঙ্গে তাঁর ভোটের ফারাক ছিল ৬০ হাজারেরও বেশি। তবে তারপরই দল বদলেছিলেন মইনুল হক।২০২৪ সালের লোকসভা ভোটে যদিও ফরাক্কায় তৃণমূলের ফল ভালো হয়নি। ২০২৪ সালের লোকসভা ভোটে ফরাক্কা বিধানসভা কেন্দ্রে তৃতীয় স্থানে চলে এসেছিল তৃণমূল কংগ্রেস। দ্বিতীয় স্থানেই ছিল বিজেপি। লিড ছিল কংগ্রেসের।

কংগ্রেসের ইশা খান চৌধুরী পেয়েছিলেন ৮৭ হাজার ৭৫৬ ভোট,  বিজেপির শ্রীরূপা মুখার্জি পেয়েছিলেন ৪৭ হাজার ২৩২ ভোট আর তৃণমূলের প্রতীকে লড়া শাহনাওয়াজ রাইহান পেয়েছিলেন ৩৬ হাজার ৯৩১ ভোট। তৃণমূলের ভোট কমেছিল প্রায় ৬৫ হাজার। আর প্রায় ৫১ হাজার ভোট বাড়িয়েছল কংগ্রেস।

Mainul Haques daughter মালদা দক্ষিণ কেন্দ্রে কংগ্রেসের জয়ে সব থেকে বড় ভূমিকা নিয়েছিল এই ফরাক্কা। তবে ২০২১ এবং ২০২৪-এই দুই ভোটেই কংগ্রেসকে সমর্থন করেছিল সিপিএম।

আসন ফরাক্কাদলবিধানসভায় প্রাপ্ত ভোটলোকসভায় প্রাপ্ত ভোটবৃদ্ধি
কংগ্রেস৩৬,২০৫৮৭,৭৬৫প্লাস ৫১,৫৬০
বিজেপি৪২,৩৭৪৪৭,২৩২প্লাস ৪,৪৫৮
তৃণমূল কংগ্রেস১,০২,৩১৯৩৬,৯৩১মাইনাস ৬৫,৩৮৮

 

তবে ২০২৩ এর পঞ্চায়েত নির্বাচনে ফরাক্কার ফল দেখলে চমকে উঠতে হয়। ২০২৩ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনে ফল ছিল কেমন ? ফরাক্কায় ৩ টি জেলা পরিষদ আসনেই জেতে তৃণমূল কংগ্রেস। তৃণমূল পায় ৬১ হাজার ৮৮৪ ভোট। কংগ্রেস আর সিপিএম আলাদা আলাদা করে ভোটে লড়েছিল। যদিও, সিপিএম এবং কংগ্রেসের ভোট যোগ করলে সংখ্যাটা দাঁড়ায় ৭৪ হাজার ৮৯১। অনেকটাই কম ছিল বিজেপির ভোট।

জেলা পরিষদেTMCCongressBJPCPM
জেডপি ১১৯,৩২৭১২,১৪২১০,২৫৪১১,৩৬০
জেডপি ২২৩,৩০৫১৫,২০১৫,৪৯৮৬,৯৯২
জেডপি ৩১৯,২৫২১৮,৮৩৮২,৮৪৩১০,৩৫৮
মোট  প্রাপ্ত ভোট৬১,৮৮৪৪৬,১৮১১৮,৫৯৫২৮,৭১০

 

Mainul Haques daughter জটিল রাজনীতির আবর্তে মইনুল কন্যা

ফরাক্কায় রয়েছে ৯ টি গ্রাম পঞ্চায়েত। ৮  টি গ্রাম পঞ্চায়েতই চালাছে তৃণমূল কংগ্রেস। ১ টি পঞ্চায়েত বিজেপি, কংগ্রেস, সিপিএমের জোট। তবে ফল প্রকাশের পর শুধুমাত্র ৪ টি গ্রাম পঞ্চায়েতে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা ছিল তৃণমূলের। যদিও  বোর্ড গঠনের ২ মাসের মধ্যে বাকি ৪ টি পঞ্চায়েত তৃণমূলের দখলে আসে। তাই বলা যায়, প্রতিটি নির্বাচনেই চমক দেয় ফরাক্কা। এবার সেই জটিল রাজনীতির আবর্তে মইনুল কন্যা রেহেনা ইয়াসমিন।  ২০২৬ এর নির্বাচনে ফরাক্কার রাজনীতি কোন দিকে যায় সেদিকেই নজর মধ্যবঙ্গের আম জনতার।

Join WhatsApp

Join Now

Join Telegram

Join Now