Khargram Kali Puja 2025 মুর্শিদাবাদের খড়গ্রামের এড়োয়ালি গ্রামের বাতাসে এখন উৎসবের গন্ধ। দীপাবলির রাতে যেমন আলোর ঝলকানিতে গোটা দেশ ঝলমল করে, তেমনই আলোর রোশনাইয়ে ভরে উঠেছে এই ছোট্ট গ্রামটিও। কারণ, এখানেই হয় ঐতিহ্যবাহী এড়োয়ালি জমিদার বাড়ির ৩০০ বছরের পুরনো কালীপুজো। রাজকীয় ঐতিহ্যের উৎসব, যা আজও সমান আভিজাত্য ও শ্রদ্ধা নিয়ে উদযাপিত হয়।
Khargram Kali Puja 2025 ধুমধাম করে হল শক্তির আরাধনা, ঢল নামল দর্শনার্থীদের
Khargram Kali Puja 2025 ইতিহাস বলছে, জমিদার মহেশদাস রায়-এর মৃত্যুর পর তাঁর জ্যেষ্ঠ পুত্র রামজীবন রায় পারিবারিক সাম্রাজ্যের দায়িত্ব নেন। ১৬৫৬ সালে তিনি সিংহাসনে বসেন এবং পরবর্তীতে রাজবাড়িতে কালীপুজোর প্রথা শুরু করেন। শুধু তাই নয়, বিখ্যাত তারাপীঠ মন্দির নির্মাণেও তাঁর অবদান ছিল। সেই ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতাতেই আজও এড়োয়ালিতে ধুমধাম করে হয় কালীপুজো।
Kiriteshwari: কালীপুজোর রাতে ভিড় হল না, হতাশ কিরিটেশ্বরী
Khargram Kali Puja 2025 বর্তমানে রায়চৌধুরী পরিবারটি শরিকে বিভক্ত হয়ে গিয়েছে, ফলে এখন ১৩টি পৃথক পুজো হয় রাজবাড়ির বিভিন্ন অংশে। কিন্তু সেই বিভাজন ঐতিহ্যকে ম্লান করতে পারেনি। মূল রাজবাড়ির কালীপুজো — রাজা রামজীবন রায়ের প্রতিষ্ঠিত পুজো আজও সেই পুরনো গৌরব ধরে রেখেছে।
Khargram Kali Puja 2025 রাজা রামজীবন রায় এই পুজোর প্রচলন করেছিলেন

Khargram Kali Puja 2025 কালীপুজোর রাতে গোটা এড়োয়ালি গ্রাম যেন পরিণত হল এক রাজপ্রাসাদে। চোখ ধাঁধানো আলোকসজ্জা, ধূপ-ধুনোর গন্ধে ভরা পরিবেশ, ঢাকের তালে নেচে ওঠা ভক্তদের ভিড় । সব মিলিয়ে উৎসবের রেশ ছড়িয়ে পড়ল গ্রাম থেকে গ্রামান্তরে।

Khargram Kali Puja 2025 শুধু মুর্শিদাবাদই নয়, বীরভূম, বর্ধমান, নদিয়া এমনকি দূর দিল্লি, মুম্বই ও কলকাতা থেকেও রায়চৌধুরী পরিবারের সদস্যরা এই এক রাতের জন্য ছুটে আসেন গ্রামে। সারা বছর দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা আত্মীয়রা এই পুজোতেই মিলিত হন । তাই এই উৎসব হয়ে ওঠে এক ‘রাজবাড়ির মিলনমেলা’।
Khargram Kali Puja 2025 শক্তির আরাধনায় সম্প্রীতির মেলবন্ধন
Khargram Kali Puja 2025 এড়োয়ালী বড়- পাঁচানী কালী পুজো কমিটির উদ্যোগে পুজো উপলক্ষে সেজে ওঠে গ্রাম। যেখানে গ্রামের মানুষ থেকে শুরু করে বাইরের দর্শনার্থীরাও অংশ নেন। মেলায় বিক্রি হয় স্থানীয় হস্তশিল্প, মিষ্টি, খেলনা ও পিঠেপায়েসের দোকান। সন্ধ্যা নামতেই আলোর ঝলকানি ও আতসবাজির রোশনাইয়ে মোহিত হয়ে যান দর্শনার্থীরা। পুজো উদ্যোক্তারা জানান, মুর্শিদাবাদ জেলার মধ্যে অন্যতম কালী পুজো এটি। গোটা গ্রাম জুড়ে ১৩ টি কালীপুজো হয়। বড় মায়ের মন্দিরে পাঠা বলির প্রথা আজ আছে। সম্প্রীতির উৎসবে মেতে ওঠে গোটা গ্রাম। গ্রামের প্রবীণ বাসিন্দা নারায়ণচন্দ্র রায় বলেন, “আমি ছোটবেলা থেকে এই পুজো দেখছি। রাজবাড়ির কালী তখনও যেমন জাগ্রত ছিলেন, আজও তেমনি। আলোর উৎসব আর ভক্তির উচ্ছ্বাসে গ্রাম ভরে ওঠে। এটা শুধু ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, আমাদের ঐতিহ্যের উৎসব।”

Khargram Kali Puja 2025 আজও রাজবাড়ির পুজোর প্রতিটি মুহূর্তে ফুটে ওঠে রাজকীয় গরিমা। সবই চলে পূর্বপুরুষদের নির্ধারিত নিয়মে।এক রাতের জন্য যেন এড়োয়ালি ফিরে যায় রাজত্বের দিনগুলোয়। আলোর ঝলকানিতে ভাসে ঠাকুর দালান, বাজে ঢাকের আওয়াজ, চারদিক থেকে ভেসে আসে কালীমন্ত্রের ধ্বনি। ৩০০ বছরের পুরনো এড়োয়ালি জমিদারবাড়ির কালীপুজোর ঐতিহ্য আজও একই মহিমায় বেঁচে আছে।









