এখন খবরমধ্যবঙ্গ নিউজপরিবেশবিনোদনহেলথ ওয়াচখেলাঘরে বাইরেলাইফস্টাইলঅন্যান্য

লোকসভা ভোটের আগে খলিলুরের কুল রাখি না মান রাখি অবস্থা

Published on: November 27, 2023

জিয়াউর রহমান, জঙ্গিপুরঃ জেলা সভাপতিকে পাশে বসিয়ে সুতির ব্লক সভাপতিকে সরিয়ে দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন জঙ্গিপুর সাংগঠনিক জেলার নয়া চেয়ারম্যান জাকির হোসেন। জেলার ‘দুর্নীতিগ্রস্ত’ নেতাদের আলাদা করে দেওয়ার বার্তা দিয়েছেন ওই মঞ্চ থেকেই। অথচ নীরব তিনি। ধন্দে পড়ে যান সভায় উপস্থিত নেতা কর্মীরা।

এমনিতেই ‘আলটপকা’ কথা বলায় সুনাম রয়েছে বিধায়ক জাকিরের। স্বাভাবিকভাবেই রবিবার বিকেলে সুতি-১ ব্লকে আহিরণের যোগদান সভায় জাকির বলেন, “ সুতি এক নম্বর ব্লকের কমিটি ভেঙে দেওয়া হল। ব্লক সভাপতি দলকে সমর্থন করার বদলে দল ভাঙার কাজ করেছেন।” বলে তীব্র আক্রমণ করেন ব্লক সভাপতি সিরাজুল ইসলামকে, সে কথা মানতে গিয়েও দ্বিধাগ্রস্থ হয়ে পরেন সিরাজুল বিরোধীরা।

খলিলুরকে এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে, তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে আমি এখনই কিছু আলোচনা করব না। চেয়ারম্যান ও আমি দুজনে বসে ঠিক করে নেব।” তার পাশে বসেই জাকির পাল্টা বলেন, “জেলা সভাপতি বলেছেন উনি আমার সঙ্গে আলোচনা করে জানাবেন। কিন্তু আমি আপনাদের বলছি আজ সুতি ১-এর ব্লক সভাপতি ভেঙে দেওয়া হল।” এমনকি সিরাজুলের লোকবল নেই বলেও দাবি করেছিলেন জাকির।

সুতির বিধায়ক ইমানি বিশ্বাস ও জাকির হোসেনের মধ্যে দ্বন্দ্বের কথা জেলা নয় রাজ্য জুড়েই আলোচিত। পঞ্চায়েত নির্বাচনের পর সুতি ১ নম্বর পঞ্চায়েত সমিতির বোর্ড গঠন নিয়ে জাকিরের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে বিদ্রোহ ঘোষণা করেছিলেন ইমানি ঘনিষ্ঠ ব্লক সভাপতি সিরাজুল ইসলাম। তাঁর অভিযোগ ছিল, নিজের দলের সদস্যদের হারিয়ে জাকির অনুগামীরা কংগ্রেস ও বিজেপির সমর্থনে বোর্ড গঠন করেছেন। খলিলুরের সঙ্গেও ইমানির অম্ল মধুর সম্পর্ক।

এদিন জাকিরের কথা শুনে ফোঁস করেন ইমানি। তিনি দলের চেয়ারম্যানের কথা মানতে চান না বলে দাবি করেছেন। বলেছেন, “ রাজ্য যতক্ষণ না সিদ্ধান্ত নিচ্ছে ততক্ষণ সিরাজুলই সুতি একের সভাপতি থাকবে। আমার এলাকায় কে নেতা আর কে নয় তা আমার থেকে ভাল অন্য কেউ জানে না।” খলিলুর নিয়ে অবশ্য কোনও মন্তব্য করেননি তিনি।

চলতি বছর এপ্রিলে পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগে জঙ্গিপুর সাংগঠনিক জেলা কমিটিতে ইমানির ‘ব্যক্তিগত অপছন্দের’ নেতার নাম ঘোষণা করেছিলেন খলিলুর। তাই নিয়ে সেই সময় ক্ষোভ উগরে বৈঠক ছেড়ে বেরিয়ে গিয়েছিলেন ইমানি। এমনকি কংগ্রেস, সিপিএমের কাছ থেকে তৃণমূলকে হারানোর টেন্ডার নিয়েছেন সাংসদ খলিলুর রহমান,বলেও দাবি করেছিলেন তিনি। দলকে সে কথা লিখিতভাবে জানিয়ে ইমানি ও সুতির এক ব্লক সভাপতির বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছিলেন খলিলুরও। সেই জল গড়িয়েছিল বেশ খানিকটা। পরে ফিরহাদ হাকিমের হস্তক্ষেপে দুই নেতার আপাত দ্বন্দ্ব মিটলেও চোরাস্রোত আজও অব্যহত। সামনেই লোকসভা নির্বাচন। জঙ্গিপুর আসন থেকেই ফের তৃণমূলের টিকিট পাওয়া পাকা খলিলুরের। প্রয়োজন জঙ্গিপুর ও সুতির বিধায়ককেই। তাই কি প্রকাশ্যে দ্বন্দ্ব সামনে এনে ফের বিতর্ক বাড়াতে চাইলেন না “ভদ্র মানুষ” খলিলুর? প্রশ্নটা উঠছে দলেরই অন্দরে।

Join WhatsApp

Join Now

Join Telegram

Join Now