Durgapujo2022: মেঘ মাথায় সপ্তমীতে নবপত্রিকা স্নান কাশিমবাজার রাজবাড়ির পুজোর

Published By: Madhyabanga News | Published On:

বেদান্ত চট্টোপাধ্যায়ঃ সপ্তমীর মেঘলা সকালে  নবপত্রিকা স্নান ও ঘট প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে কাশিমবাজার রাজবাড়িতে শুরু হলো দূর্গোৎসর। নবপত্রিকা আক্ষরিক অর্থ নয়টি পাতা। আদতে নবপত্রিকা হলো নয়টি উদ্ভিদ। অনেকেই নবপত্রিকা কে গণেশের বউ বলে চিহ্নিত করেন। প্রকৃতপক্ষে দেবী দুর্গা অসুর নিধন কালে জি নয়টি গাছের নিচে যুদ্ধ করেছিলেন, তারই সমষ্টি নবপত্রিকা। পুরান মতে এই নবপত্রিকা দেবীর আরেক রূপ। প্রতিবছরের ন্যায় এই বছরও নবপত্রিকা কে রাজকীয় রীতি মেনে কাশিমবাজার এর ঐতিহ্যবাহী সতীদাহ ঘাটে স্নান করানো হয়। এবং কাটি গঙ্গার থেকে ঘট ভরে নিয়ে আসা হয়। নবপত্রিকা স্নান ও ঘট ভরার সমস্ত রীতি পালন করেন রাজবাড়ীর রাজপুরোহিত সোমেশ্বর চট্টোপাধ্যায়। সোমেশ্বর চট্টোপাধ্যায় বংশ পরম্পরায় এই পুজো করে আসছেন। খুব গর্বের সাথে তিনি জানান, “ আগে আমার বাবা এই পুজো করতো। বাবাকে চণ্ডীপাঠ করতে দেখেছি। বাবার কাছেই হাতে খড়ি। ” এর পাশাপাশি তিনি আরো বলেন “ আমার পর আমার কোন উত্তরসূরি নেই যে এই পুজো করবে ” এই অনুষ্ঠানে অংশ নেন কাশিমবাজার রাজবাড়ীর বর্তমান যুবরাজ পল্লব রায়। উপস্থিত ছিলেন কাশিমবাজার রাজবাড়ি বর্তমান রানী শ্রীমতি সুপ্রিয়া রায় সহ অন্যান্য সদস্যরা। সুপ্রিয়া দেবী জানান “ ঈশ্বরের আশীর্বাদে আমরা সকলে একসাথে আছি। পুজো কাটাতে পারছি এটাই আমাদের আনন্দের। দর্শনার্থীরা আসুন রাজবাড়ির পূজো উপভোগ করুন। ”

দু’বছরের অতিমারি কাল কাটিয়ে এই বছর কাশিমবাজার রাজবাড়ির পূজো একদম অন্যরকম। নবরূপে সেজে উঠেছে কাশিমবাজার ছোট রাজবাড়ি। নব কলেবরে নবপত্রিকা প্রতিষ্ঠা করেন রানি সুপ্রিয়া রায়।

কাশিমবাজার এর বর্তমান যুবরাজ পল্লব রায় জানান,“ গত 300 বছরে আমাদের পুজো কখনো বন্ধ হয়নি। একটা যুদ্ধ আর একটা অতিমারি আমাদেরকে অনেকটাই বিধ্বস্ত করে তুলেছিল। সবকিছুকে অতিক্রম করে আমরা আবার উৎসবের আনন্দে মিলিত হতে পেরেছি এটাই আমাদের কাছে প্রাপ্তি।”